১৩ জুন ২০২৬, ১২:৫৮

মিডটার্ম পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ঢাবি ছাত্র ফাইয়াজ, তার আগেই চলে গেলেন না ফেরার দেশে

শিক্ষার্থী ফাইয়াজ করিম নিলয়  © টিডিসি সম্পাদিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ফাইয়াজ করিম নিলয় আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন তিনি। কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হওয়ার কথা ছিল তার মিডটার্ম পরীক্ষা। সেই পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

শনিবার (১৩ জুন) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফাইয়াজের চাচাতো ভাই এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী জামিলুর রহমান।

ফাইয়াজের স্বপ্ন ও শিক্ষাজীবনের বিষয়ে জানতে চাইলে তার চাচাতো ভাই বলেন, দীর্ঘদিনের অসুস্থতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার বিষয়ে ফাইয়াজের আগ্রহ খুব বেশি ছিল না। তবে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পর তার মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়। ইতিহাস বিভাগে পড়াশোনা শুরু করার পর তিনি নিয়মিত ক্লাস করছিলেন। 

তিনি বলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই তার মিডটার্ম পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। সে পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু সেই প্রস্তুতি আর শেষ করা হলো না। অসুস্থতার সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন ফাইয়াজ করিম নিলয়।

আরও পড়ুন: ঢাবি শিক্ষার্থী ফাইয়াজ করিম আর নেই

জানা যায়, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হওয়া ফাইয়াজ করিম নিলয় দীর্ঘদিন ধরে কিডনি সমস্যায় ভুগছিলেন। তার দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রি-অ্যাডমিশন নিয়ে কিছুদিন ক্লাসও করছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিন থেকে চার দিন আগে কিডনির ডায়ালাইসিস করাতে গিয়ে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত (হার্ট অ্যাটাক) হন। এরপর তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

স্বজনরা জানান, ছোটবেলা থেকেই ফাইয়াজ কিডনি সমস্যাসহ আরও কয়েকটি শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। কিডনি সমস্যার কারণে তাকে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করতে হতো। চিকিৎসার অংশ হিসেবে তার একাধিকবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি ভারতেও গিয়েছিলেন।

তার মৃত্যুতে সহপাঠী, শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুর সদর উপজেলার নিজ বাড়িতে বাদ জোহর তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরে বাড়ির পাশের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।