জাহাঙ্গীরনগরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের ঢোকা নিয়ে তুঘলকি কাণ্ড
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী, তার মা ও বোনকে ক্যাম্পাসে প্রবেশে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় মারধর এবং পরবর্তীতে গভীর রাতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩০ মে) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক (ডেইরি গেট) এলাকায় এই ‘তুঘলকি কাণ্ড’ ঘটে।
জানা গেছে, শনিবার বিকেলে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী তার মা ও বোনকে নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরতে আসেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় প্রধান ফটকে দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের প্রবেশ করতে দেননি। এ সময় ওই শিক্ষার্থী নিজেকে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে তার আইডি কার্ড থাকার কথা জানান। এরপরও তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। ওই শিক্ষার্থীর দাবি, নিরাপত্তাকর্মীরা তার ওপর চড়াও হন, তাকে মারধর করেন এবং তার মায়ের গায়েও হাত তোলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি তার মা ও ছোট বোনকে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে প্রধান ফটকের সামনে বিপুলসংখ্যক বহিরাগত জড়ো হন এবং ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তবে বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় কাউকেই ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না। বিকেল আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থী তার মা ও বোনকে নিয়ে সেখানে আসেন। নিরাপত্তাকর্মীরা প্রবেশে বাধা দিলে তিনি তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নিরাপত্তাকর্মীদের উদ্দেশে আপত্তিকর মন্তব্য ও গালাগাল করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
আরও পড়ুন: পে স্কেলের প্রথম ধাপে শতভাগ বেসিক বাস্তবায়নের দাবি জানালেন সরকারি চাকরিজীবীরা
এ সময় দায়িত্বরত এক নিরাপত্তাকর্মী তার দিকে তেড়ে যান এবং তাকে একটি চড় মারেন বলে জানা যায়। তাৎক্ষণিকভাবে ওই শিক্ষার্থীর মা পাল্টা ওই নিরাপত্তাকর্মীকেও চড় মারেন। পরে শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এদিকে রাত ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে ওই শিক্ষার্থী ১০ থেকে ১৫ জনকে সঙ্গে নিয়ে আবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে আসেন বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা ফটকের ভেতরে প্রবেশ করে দিনের ঘটনার বিষয়ে জবাবদিহি দাবি করেন এবং জানতে চান, কেন ওই শিক্ষার্থী ও তার মাকে মারধর করা হয়েছে এবং সে সময় কারা দায়িত্বে ছিলেন।
এ সময় সেখানে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে গণ বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করেন বলে জানা যায়।
ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মী জাহিদ বলেন, ‘বিকেলে একজন তার মা ও বোনকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরতে এলে কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞার কারণে আমরা তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দিইনি। একপর্যায়ে তিনি গেটের বাইরে থেকে আমাকে আঙুল দিয়ে খোঁচা দেন, গালাগাল করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। তখন আমি রেগে গিয়ে তাকে একটি চড় দিই। সঙ্গে সঙ্গে তার মা আমাকে চড় মারেন।’
আরেক নিরাপত্তাকর্মী হালিম বলেন, ‘গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থী গেটে এসে খারাপ ব্যবহার করেন। আমাদের নিরাপত্তাকর্মীকে গালাগাল ও গায়ে হাত তোলেন। পরে রাতের বেলা আবার ১০ থেকে ১৫ জনকে নিয়ে আমাদের ওপর ফিল্মি স্টাইলে হামলা করতে আসেন। তখন সেখানে থাকা সাধারণ শিক্ষার্থীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।’
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশেদুল আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।