১১ মে ২০২৬, ১০:৫৫

১২ আসন ফাঁকা রেখেই রাবিতে ক্লাস শুরু, পূরণ হবে যেভাবে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়  © ফাইল ছবি

১২টি আসন ফাঁকা রেখেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ভর্তি প্রক্রিয়া ও নানা প্রতীক্ষার পর নবীন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। দুটি ইউনিটে আসন ফাঁকা থাকলেও একটিতে পূরণ করা যাবে। অপেক্ষমানদের থেকে মেধাতালিকা তৈরি করে এসব আসন পূরণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ফাঁকা আসনের বিষয়ে আইসিটি সেন্টারের পরিচালক ড. ছাইফুল ইসলাম জানান, ‘বর্তমানে এ-ইউনিটে ৪টির মতো আসন ফাঁকা রয়েছে, যা পূরণযোগ্য। তবে সি-ইউনিটে ৮টি আসন ফাকা রয়েছে, যা পূরণ যোগ্য নয়। তবে আগামীতে গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ভালো বিষয় পেলে অনেক শিক্ষার্থী অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যেতে পারে, ফলে ভবিষ্যতে আরও কিছু আসন ফাঁকা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

‘এ’ ইউনিটের কো-অর্ডিনেটর ও কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক বেলাল হোসেন বলেন, ‘এ’ ইউনিটে মাত্র ৩-৪টা আসন ফাঁকা আছে। এদিকে ভর্তি কার্যক্রমও বন্ধ করা হয়েছে। যেহেতু আসন ফাঁকা আছে, তাই আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি চেয়েছি যাতে পুনরায় ভর্তি কার্যক্রম চালু করা হয়। যদি অনুমতি দেয়, তাহলে ওয়েটিং লিস্ট থেকে ভর্তি করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, 'সি' ইউনিটে আর শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হবে না। কারণ ভর্তি নেওয়ার মতো মার্কস কারও নেই।

এদিকে নতুন পরিবেশ, নতুন বন্ধু ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিনের অভিজ্ঞতায় উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনায় মেতে ওঠেন নবীন শিক্ষার্থীরা। রবিবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে এমন চিত্র দেখা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম দিনের অনুভূতি প্রকাশ করে হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী রাফি হাওলাদার বলেন, ‘আজ দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও পরিশ্রমের এক স্বপ্নময় অধ্যায়ের সূচনা হলো। এ পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। অসংখ্য প্রতিযোগিতা, চাপ ও অনিশ্চয়তা পেরিয়ে অবশেষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করার সুযোগ পেয়েছি। স্বপ্নকে জয় করার লক্ষ্যে অবিরাম পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসের ফলেই আজকের এই দিনটি দেখতে পারছি।’

আরও পড়ুন: ১৮ বছরেও আইইবি-আইএবি স্বীকৃতি পায়নি পাবিপ্রবি, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীদের

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘একঝাঁক তরুণ প্রাণের উচ্ছ্বসিত পদচারণায় আজ মুখরিত হয়ে উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। নবীনদের উপস্থিতিতে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে সৃষ্টি হয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য ও নতুন উদ্দীপনা।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সুন্দর, সুস্থ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে নিজেদের মেধা, মনন ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটাবে। আমাদের  বিশ্ববিদ্যালয় কেবল উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান নয়, এটি স্বপ্ন নির্মাণেরও এক অনন্য জায়গা।’ এখান থেকে অর্জিত জ্ঞান, মানবিক মূল্যবোধ ও নেতৃত্বগুণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রত্যাশিত লক্ষ্য পূরণ করে দেশ ও সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি।

এদিকে নবীনদের বরণ করতে বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে ছিল উৎসবমুখর আয়োজন। ওরিয়েন্টেশন ক্লাসের পাশাপাশি ফুল ও শুভেচ্ছা উপহার দিয়ে নতুন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানান শিক্ষক ও সিনিয়ররা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহীদ মিনার, প্যারিস রোড, টুকিটাকি চত্বরসহ পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে নবীনদের প্রাণবন্ত পদচারণা ছিল চোখে পড়ার মতো।