স্বচ্ছতার সঙ্গে হিট প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে উচ্চশিক্ষায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব: ইউজিসি চেয়ারম্যানের
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেছেন, দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্প। তিনি উল্লেখ করেন, স্বচ্ছতা ও সময়নিষ্ঠতার সঙ্গে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেলে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কপিরাইটস ভবনে অবস্থিত হিট প্রকল্প কার্যালয় পরিদর্শন এবং প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন ইউজিসি চেয়ারম্যান। সভায় ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ মাকছুদুর রহমান ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় হিট প্রকল্পের পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান প্রকল্পের অগ্রগতি, বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ এবং সরকারের উচ্চশিক্ষা বিষয়ক নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সামঞ্জস্য তুলে ধরেন।
ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যার সমাধানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রকল্পের বিভিন্ন কম্পোনেন্ট সরকারের উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত অঙ্গীকার বাস্তবায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় অতিরিক্ত উদ্যোগ বা অর্থায়নের প্রয়োজন হবে না; বরং সরকারের সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।
আরও পড়ুন: এপ্রিলেই শুরু হচ্ছে মেডিকেল-ডেন্টালের প্রথম বর্ষের ক্লাস
তিনি আরও বলেন, অর্থ ব্যয় করাই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য নয়; বরং তা যেন দেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন এবং মানুষের কল্যাণে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। গবেষণা প্রকল্প মূল্যায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, আইনগত কাঠামো ও নৈতিকতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহবান জানান তিনি।
প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়নিষ্ঠা বজায় রাখা, আগামী দুই বছরের অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং দ্রুত আরডিপিপি সংশোধনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি থেকে সনদ প্রদান পর্যন্ত সব কার্যক্রম একটি সমন্বিত সফটওয়্যারের আওতায় আনা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার পরামর্শ দেন।
উল্লেখ্য, পাঁচ বছর মেয়াদি হিট প্রকল্পের মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ১৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৫০ দশমিক ৯৬ শতাংশ অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ সরকার। বাকি ৪৯ দশমিক ৪ শতাংশ অর্থ দেবে বিশ্বব্যাংক।