১৮ জুলাই ২০২৬, ১১:০৬

অনলাইন প্রতারণার ৫ ফাঁদ, সহজেই বুঝবেন যেভাবে

অনলাইনে নানা ধরনের প্রতারণা বাড়ছে  © ফাইল ছবি

ইন্টারনেট আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ ও গতিশীল করেছে। কিন্তু এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অনলাইন প্রতারণাও। ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভুয়া ওয়েবসাইট কিংবা চাকরির বিজ্ঞাপন, নানাভাবে ফাঁদ পেতে বসে থাকে প্রতারকরা। প্রথম দেখায় এসব প্রতারণা অনেক সময় বিশ্বাসযোগ্য মনে হলেও সামান্য সতর্ক থাকলেই ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

অনলাইনে এই প্রতারণা এখন শুধু একটি দেশের সমস্যা নয়, এটি বৈশ্বিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। এর চিত্র ফুটে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে। দেশটির এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের প্রায় ৪ লাখ ৬৭ হাজার থেকে ২০২৩ সালে সাইবার অপরাধের অভিযোগ বেড়ে ৮ লাখ ৮০ হাজারের বেশি হয়েছে। 

২০২৪ সালে শুধু অনলাইনভিত্তিক প্রতারণাতেই মার্কিন নাগরিকদের ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি ক্ষতি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতারণার ধরন সম্পর্কে সচেতন থাকাই আত্মরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। জেনে নেওয়া যাক যেসব বিষয়ে সবচেয়ে বেশি প্রতারণা হয়-

ফিশিং
এটি অনলাইন প্রতারণার সবচেয়ে পরিচিত কৌশলগুলোর একটি। সাধারণত ই-মেইল, খুদে বার্তা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড, ব্যাংক কার্ডের তথ্য বা লগইন তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এসব বার্তায় জরুরি পরিস্থিতির কথা বলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চাপ দেওয়া হয়। তাই অপরিচিত লিংকে ক্লিক করার আগে ঠিকানা যাচাই করা এবং সন্দেহজনক বার্তা এড়িয়ে চলা উচিত।

ভুয়া অনলাইন শপিং
অস্বাভাবিক কম দামের লোভ দেখিয়ে অনেক ভুয়া ওয়েবসাইট ক্রেতাদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে। টাকা পরিশোধের পর পণ্য না পাওয়া বা নিম্নমানের নকল পণ্য পাওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। তাই কেনাকাটার আগে ওয়েবসাইটের ঠিকানা, যোগাযোগের তথ্য ও স্বাধীন সূত্রে প্রকাশিত ক্রেতাদের মতামত যাচাই করা জরুরি।

‘পিগ বুচারিং’ প্রতারণা
সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া প্রতারণাগুলোর একটি হলো ‘পিগ বুচারিং’ স্ক্যাম। এতে প্রতারকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক তৈরি করে। পরে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা অন্য কোনো লাভজনক বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ বিনিয়োগে উৎসাহিত করে। শুরুতে ভুয়া মুনাফা দেখানো হলেও একসময় পুরো অর্থ নিয়ে প্রতারকরা উধাও হয়ে যায়।

আরও পড়ুন: রক্ত পরীক্ষায় আগেভাগেই মিলতে পারে অ্যালঝেইমারের সতর্ক সংকেত

ভুয়া টেক সাপোর্ট
কম্পিউটারে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে বা ডিভাইস হ্যাক হয়েছে এমন ভুয়া সতর্কবার্তা দেখিয়ে কিংবা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পরিচয়ে ফোন করে প্রতারকরা ব্যবহারকারীর ডিভাইসে দূরবর্তী প্রবেশাধিকার চায়। এরপর তথ্য চুরি বা অর্থ আদায় করা হয়।

চাকরির নামে প্রতারণা
ঘরে বসে সহজে বেশি আয়ের লোভ দেখিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়। আবেদন করার পরই অনেককে নিবন্ধন ফি, প্রশিক্ষণ ব্যয় বা সরঞ্জাম কেনার নামে অর্থ দিতে বলা হয়। কখনও ভুয়া চেক পাঠিয়ে তার একটি অংশ ফেরত চাইলে পরে পুরো টাকাই হারানোর ঝুঁকি থাকে। প্রকৃত নিয়োগদাতা কখনোই চাকরি দেওয়ার আগে অর্থ দাবি করে না।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কোনো প্রস্তাব যদি অস্বাভাবিক আকর্ষণীয় মনে হয়, তাহলে সেটি যাচাই না করে বিশ্বাস করা উচিত নয়। ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য শেয়ার করার আগে পরিচয় নিশ্চিত করা, সন্দেহজনক লিংক এড়িয়ে চলা এবং তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত না নেওয়াই অনলাইন প্রতারণা থেকে নিরাপদ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।