১৭ জুলাই ২০২৬, ১৪:৩৩

নিজেই পোশাক পরিয়ে দেবে রোবট, এমন প্রযুক্তি উন্মোচন করলেন গবেষকরা

কেএআইএটির অধ্যাপক রিউ জি-হোয়ান ও তার গবেষক দল নতুন রোবোটিক প্রযুক্তির প্রদর্শনী করছেন  © সংগৃহীত

মানুষের হাত ব্যবহার ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পোশাক পরিয়ে দিতে সক্ষম নতুন এক রোবোটিক প্রযুক্তি উন্মোচন করেছেন দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক। তাদের দাবি, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর ক্লিনরুম এবং জরুরি সেবাকর্মীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের যৌথ উদ্ভাবিত এ প্রযুক্তির খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। গবেষণাটি আন্তর্জাতিক পিয়ার-রিভিউড জার্নাল আইইইই রোবোটিকস অ্যান্ড অটোমেশন লেটার্সে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষকদের তৈরি এই বিশেষ পোশাকের ভেতরে রয়েছে বায়ুচাপচালিত নরম ও নমনীয় লতা আকৃতির রোবট। চাপ প্রয়োগ করা হলে এগুলো আইভি লতার মতো শরীরের গঠন অনুসরণ করে ধীরে ধীরে কাপড়টিকে পরিধানকারীর শরীরে ঠিকভাবে বসিয়ে দেয়। এমনকি ব্যক্তি চলাফেরা করলেও প্রযুক্তিটি কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে।

গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক এবং কাইস্টের পোস্টডক্টরাল গবেষক কিম নাম গিউন জানান, সাইকেল চালানোর সময় বৃষ্টিতে ভিজতে গিয়ে তার মাথায় এই ধারণা আসে। তিনি বলেন, ‘আমি যখন সাইকেল চালাচ্ছিলাম, তখন বৃষ্টি শুরু হলো। তখন মনে হলো, যদি সাইকেল চালানোর সময় একটি রেইনকোট স্বয়ংক্রিয়ভাবে গায়ে পরে যেত, তাহলে খুবই সহায়ক হতো।’

কিম নাম গিউন বলেন, ‘লতা রোবটটি ব্যক্তির কাছাকাছি থাকে এবং চলার পথে পোশাক উল্টে দিয়ে তাকে পরিয়ে দেয়, যা এটিকে শরীরের আকৃতি বরাবর স্থিরভাবে আরোহণ করতে সাহায্য করে। একটি পূর্ণাঙ্গ স্যুট পরতে প্রযুক্তিটির প্রায় ১০ সেকেন্ড সময় লাগে।’

গবেষকদের মতে, এ প্রযুক্তির অন্যতম বড় সুবিধা হলো ব্যবহারকারীকে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় না। পাশাপাশি এটি কোনো জটিল নিয়ন্ত্রণ অ্যালগরিদম ছাড়াই কাজ করতে সক্ষম।

কাইস্টের সিভিল ও এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপকরিউ জি-হওয়ান বলেন, ‘রোবটটি আরোহী আইভি লতা থেকে অনুপ্রাণিত। এটি পুরো শরীর না ঘুরিয়ে অগ্রভাগের বৃদ্ধি ব্যবহার করে এগিয়ে যায়, ফলে বাঁকানো বা অসমতল পৃষ্ঠেও সহজে চলতে পারে।’

আরও পড়ুন : সন্তানের স্ক্রিন টাইম কমানোর সহজ ৫ কৌশল

তিনি বলেন, ‘এটি সরু ফাঁকের মধ্যে দিয়ে যেতে পারে, চারপাশের পরিবেশের আকারের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে বাড়তে পারে এবং পৃষ্ঠতল পিচ্ছিল, আঠালো বা ঢালু যাই হোক না কেন চলাচল করতে পারে।’

গবেষকরা মনে করছেন, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দৈনন্দিন জীবন সহজ করার পাশাপাশি এমন কর্মক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি বিশেষভাবে কার্যকর হতে পারে, যেখানে দ্রুত হাত ব্যবহার না করেই সুরক্ষামূলক পোশাক পরতে বা খুলতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে সেমিকন্ডাক্টর ক্লিনরুম এবং জরুরি সেবাকর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহারের ক্ষেত্র।

রিউ জি-হওয়ান বলেন, ‘বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে সফটওয়্যারের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও এই উদ্ভাবন দেখিয়েছে, উন্নত যন্ত্র প্রকৌশলও সফটওয়্যারের গুরুত্বপূর্ণ পরিপূরক হতে পারে।’ তথ্যসূত্র: রয়টার্স।