পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা নাসার টেলিস্কোপ বাঁচাতে রোবটিক মিশন শুরু
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকা নাসার পুরোনো একটি মহাকাশ টেলিস্কোপকে রক্ষা করতে বিশেষ রোবটিক মিশন শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। তিনটি রোবোটিক বাহু থাকা একটি মহাকাশযান রকেটের মাধ্যমে কক্ষপথে পাঠানো হয়েছে, যা কয়েক মাসের জটিল অভিযানের মাধ্যমে সুইফট অবজারভেটরিকে বাঁচানোর চেষ্টা করবে।
নর্থরপ গ্রুম্যান শুক্রবার প্রশান্ত মহাসাগরের মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ থেকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ক্যাটালিস্ট স্পেস টেকনোলজিসের তৈরি লিংক মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করেছে।
একটি পরিবর্তিত বিমানের পেট থেকে পেগাসাস রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়। এই রকেট লিংক মহাকাশযানটিকে কক্ষপথে নিয়ে যায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় এক মাসের মধ্যে এটি নাসার সুইফট টেলিস্কোপের কাছে পৌঁছাবে এবং সেটিকে ধরে উদ্ধারের কাজ শুরু করবে।
প্রাথমিকভাবে মঙ্গলবার উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা থাকলেও প্রতিকূল আবহাওয়া ও পরে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৮টা ৩৬ মিনিটে প্রশান্ত মহাসাগরের একটি অ্যাটল থেকে উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হয়।
প্রায় ৩ কোটি ডলারের এই বিশেষ অভিযানের লক্ষ্য হলো পৃথিবীর দিকে নেমে আসা সুইফট মহাকাশ টেলিস্কোপটিকে পুনরায় নিরাপদ কক্ষপথে ফিরিয়ে নেওয়া। সফল হলে ভবিষ্যতে অন্যান্য পুরোনো স্যাটেলাইট ও মহাকাশযানের আয়ু বাড়ানোর নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
২০০৪ সালে উৎক্ষেপণ করা সুইফট টেলিস্কোপ মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণগুলোর একটি গামা-রে বার্স্ট নিয়ে গবেষণা করে আসছে। প্রায় ২৫ কোটি ডলার ব্যয়ে তৈরি এই টেলিস্কোপ সাম্প্রতিক সৌরঝড়ের প্রভাবে আগের তুলনায় দ্রুত পৃথিবীর দিকে নেমে আসছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, সুইফটের কাছাকাছি কক্ষপথে পৌঁছানোর পর লিংক মহাকাশযানটি প্রথমে নিজের সৌর প্যানেল খুলবে এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবে। এরপর মহাকাশের বিশাল এলাকায় সুইফটকে শনাক্ত করে সেটিকে ঘিরে অবস্থান নেবে।
আরও পড়ুন : ভয়াবহ দাবানল পুড়ছে ফ্রান্সের ফঁতেব্লো বনভূমি
পরবর্তী ধাপে তিনটি রোবোটিক বাহুর সাহায্যে টেলিস্কোপটির সঙ্গে সংযুক্ত হবে মহাকাশযানটি। এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সবশেষে লিংক মহাকাশযানটি সুইফট টেলিস্কোপকে পৃথিবী থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার (১৮৬ মাইল) ওপরে তার আগের কক্ষপথে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে। পুরো উদ্ধার প্রক্রিয়ায় অন্তত এক মাস সময় লাগবে বলে আশা করছে নাসা।
নাসার জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞান বিভাগের পরিচালক শন ডোমাগাল-গোল্ডম্যান এই অভিযানকে ব্যতিক্রমী উল্লেখ করে আল জাজিরাকে বলেন, ‘এখানে একের পর এক অনেকগুলো প্রথম ঘটনা ঘটছে। আমরা যে এই কাজটি করার চেষ্টা করছি, তার জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’ তথ্যসূত্র: আল জাজিরা।