০৬ জুলাই ২০২৬, ১৩:১২

এআই চিপের চাহিদায় উড়ছে স্যামসাং, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১৮ গুণ মুনাফার পূর্বাভাস

স্যামসাংয়ের এআই চিপের চাহিদা বৃদ্ধি  © সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে মেমোরি চিপের বৈশ্বিক চাহিদা বেড়েই চলেছে। এরই প্রভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ইলেকট্রনিকস চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে পরিচালন মুনাফায় রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এপ্রিল-জুন প্রান্তিকের আয় প্রকাশ করবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মেমোরি চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। এলএসইজির ৩০ জন বিশ্লেষকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ সময়ে স্যামসাংয়ের পরিচালন মুনাফা দাঁড়াতে পারে ৮৬ ট্রিলিয়ন ওন (প্রায় ৫৬ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। 

এক বছর আগে একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন মুনাফা ছিল ৪ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ওন। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা প্রায় ১৮ গুণ বাড়তে পারে। এটি বাস্তবায়িত হলে টানা তৃতীয় প্রান্তিকের মতো রেকর্ড পরিচালন মুনাফা অর্জন করবে স্যামসাং।

বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণের কারণে মেমোরি চিপের চাহিদা সরবরাহের তুলনায় অনেক বেশি বেড়েছে। ফলে ডিআরএএম ও ন্যান্ডসহ বিভিন্ন ধরনের মেমোরি চিপের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের ধারণা, এই সরবরাহ সংকট অন্তত আগামী বছর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

এআই খাতে উচ্চ-ব্যান্ডউইথ মেমোরি (এইচবিএম)-এর চাহিদা বাড়লেও শুধু এইচবিএম নয়, প্রচলিত ডিআরএএম ও ন্যান্ড মেমোরির চাহিদাও বাড়ছে। বিশেষ করে ‘এজেন্টিক এআই’ প্রযুক্তির বিস্তারে আরও বেশি মেমোরি ও স্টোরেজ প্রয়োজন হচ্ছে। বড় ভাষা মডেল প্রশিক্ষণের বাইরে এখন এআই বিভিন্ন জটিল ও বহু-ধাপের কাজ সম্পাদন করছে, যার জন্য সার্ভারে অতিরিক্ত মেমোরি এবং অধিক ডেটা সংরক্ষণের সক্ষমতা প্রয়োজন।

স্যামসাং বর্তমানে এনভিডিয়া, গুগল ও অ্যাপলের মতো শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অন্যতম মেমোরি চিপ সরবরাহকারী। সিটি রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ডিআরএএমের গড় বিক্রয়মূল্য আগের প্রান্তিকের তুলনায় ৪৪ শতাংশ এবং ন্যান্ডের দাম ৫৩ শতাংশ বেড়েছে।

মেমোরি চিপের এই চাহিদা শেয়ারবাজারেও বড় প্রভাব ফেলেছে। চলতি বছরে স্যামসাংয়ের শেয়ারদর বেড়েছে ১৫৮ শতাংশ। একই সময়ে এসকে হাইনিক্সের শেয়ার ২৭৩ শতাংশ এবং মাইক্রনের শেয়ার ২৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে তিনটি প্রতিষ্ঠানের বাজারমূল্যই ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি হয়েছে।

তবে শক্তিশালী ব্যবসায়িক পরিবেশের মধ্যেও কিছু ঝুঁকির কথা বলছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, চিপ বিভাগের কর্মীদের জন্য প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বিশেষ বোনাস বরাদ্দ দিলে দ্বিতীয় প্রান্তিকের প্রকৃত মুনাফা বাজারের পূর্বাভাসের চেয়ে কম হতে পারে।

গত মে মাসে শ্রমিকদের সঙ্গে মজুরি চুক্তিতে পৌঁছায় স্যামসাং। ওই চুক্তি অনুযায়ী, সেমিকন্ডাক্টর বিভাগের পরিচালন মুনাফার ১০ দশমিক ৫ শতাংশ বিশেষ বোনাস হিসেবে কর্মীদের দেওয়া হবে। কয়েকজন বিশ্লেষকের ধারণা, এই খাতে মোট বোনাস সংরক্ষণের পরিমাণ ৪০ ট্রিলিয়ন ওনেরও বেশি হতে পারে।

আরও পড়ুন : গন্ধ শুঁকেই খাবার ভালো না নষ্ট, জানিয়ে দেবে যান্ত্রিক নাক

এদিকে ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে এআই অবকাঠামোতে বিনিয়োগের সম্ভাব্য ধীরগতিকে। জেপি মরগানের বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে ক্লাউড সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মূলধনী ব্যয়ের বড় অংশই এআই মেমোরির পেছনে যাচ্ছে। চলতি বছরে এই হার প্রায় ৫২ শতাংশ এবং আগামী বছর তা ৭০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি এআই খাতে ব্যয় কমে যায়, তাহলে স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্সের মতো প্রতিষ্ঠানের ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সম্প্রতি দুই প্রতিষ্ঠানই দক্ষিণ কোরিয়ায় চিপ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ৩ হাজার ২০০ ট্রিলিয়ন ওন বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। স্যামসাং ২০২৬ থেকে ২০৪০ সালের মধ্যে এই বিনিয়োগ সম্পন্ন করবে বলে জানিয়েছে।

অন্যদিকে, মেমোরি চিপের দাম বৃদ্ধির কারণে স্যামসাংয়ের মোবাইল ব্যবসাও ব্যয়চাপের মুখে পড়েছে। স্মার্টফোনের দাম বাড়ানো হলেও যন্ত্রাংশের ব্যয় আরও দ্রুত বাড়ায় মুনাফার মার্জিন কমছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিষ্ঠানটিকে আবারও স্মার্টফোনের দাম বাড়াতে হতে পারে। একই ধরনের পদক্ষেপ হিসেবে গত মাসে আইপ্যাড ও ম্যাকবুকের দাম বাড়িয়েছে অ্যাপল। তথ্যসূত্র: রয়টার্স।