২৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৭

মোবাইল অ্যাপ তৈরি করে গড়তে পারেন সফল ক্যারিয়ার, প্রয়োজন যেসব যোগ্যতা

প্রযুক্তি খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের জন্য এখন অন্যতম সম্ভাবনাময় পেশা ‘অ্যাপ ডেভেলপার’  © এআই সৃষ্ট ছবি

বর্তমান বিশ্বের প্রায় সবকিছুই এখন স্মার্টফোনকেন্দ্রিক। খাবার অর্ডার, অনলাইন ব্যাংকিং, কেনাকাটা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, বিনোদন কিংবা অফিসের কাজ, প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই মোবাইল অ্যাপের ব্যবহার দিনদিন বাড়ছে। এর ফলে দেশ-বিদেশে দক্ষ অ্যাপ ডেভেলপারদের চাহিদাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রযুক্তি খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের জন্য এটি এখন অন্যতম সম্ভাবনাময় পেশা। 

একজন অ্যাপ ডেভেলপার হতে কী পড়তে হবে, কোন দক্ষতা অর্জন করতে হবে, কোথায় রয়েছে শেখার সুযোগ এবং এই পেশায় আয়ের সম্ভাবনা কত? যারা এই পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাদের জন্য এই আয়োজন।

অ্যাপ ডেভেলপারদের কাজ
মোবাইল ফোনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সফটওয়্যার বা অ্যাপ্লিকেশন ডিজাইন, তৈরি, পরীক্ষা, উন্নয়ন এবং নিয়মিত আপডেট করার কাজ করেন অ্যাপ ডেভেলপাররা। ব্যবহারকারীর প্রয়োজন, সহজ ব্যবহারযোগ্যতা এবং নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই তারা অ্যাপ তৈরি করেন।

অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ তৈরিতে সাধারণত জাভা ও কোটলিন ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে, আইফোন বা আইওএস প্ল্যাটফর্মের জন্য সুইফট এবং অবজেক্টিভ-সি। এছাড়া সি, সি++-এর মতো ভাষাও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে একই সঙ্গে অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএসে চালানো যায়, এমন অ্যাপ তৈরিতে ফ্লাটার ও রিয়েক্ট ন্যাটিভ-এর মতো ক্রস-প্ল্যাটফর্ম প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ছে।

যোগ্যতা কী, কী পড়তে হবে?
অ্যাপ ডেভেলপমেন্টে সফল হতে হলে কম্পিউটার বিজ্ঞান, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এবং প্রোগ্রামিংয়ের মৌলিক ধারণা ভালোভাবে আয়ত্ত করা জরুরি। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ব্যাচেলর অব কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন, কম্পিউটার সায়েন্সে বিএসসি, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিকের পর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে ডিপ্লোমা করেও এই পেশায় প্রবেশ করা সম্ভব।

ডিগ্রির পাশাপাশি প্রয়োজন যেসব দক্ষতা
বর্তমানে নিয়োগদাতারা শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতা নয়, বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দেন। তাই শিক্ষাজীবন থেকেই বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করা, নিজস্ব অ্যাপ তৈরি করা এবং গিটহাব-এ পোর্টফোলিও তৈরি করলে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। 

কোথায় শেখার সুযোগ?
বাংলাদেশে অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট শেখার জন্য সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন আইটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানেও সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চুয়েট, কুয়েট, আইইউটি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে এ বিষয়ে পড়াশোনা করা যায়।

আরও পড়ুন: শিক্ষা ক্যাডারের বদলিতে আসছে বড় পরিবর্তন, ক্ষমতা পাচ্ছে মাউশিও

এছাড়া বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) BDSkills প্ল্যাটফর্ম, IsDB-BISEW IT Scholarship Programme এর মতো প্রতিষ্ঠান নিয়মিত অ্যান্ড্রয়েড, ফ্লাটার ও মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে, যা চাকরি বা ফ্রিল্যান্সিংয়ে ক্যারিয়ার গঠনে সহায়ক।

কোথায় চাকরির সুযোগ?
বর্তমানে ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, ই-কমার্স, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, গেমিং, সফটওয়্যার কোম্পানি, স্টার্টআপ এবং বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে অ্যাপ ডেভেলপারদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এছাড়া দেশে বসেই আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের জন্য রিমোট জব কিংবা ফ্রিল্যান্সিংয়ের সুযোগও বাড়ছে।

বেতন কত?
অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী একজন অ্যাপ ডেভেলপারের বেতন ভিন্ন হয়ে থাকে। ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানে ভালো দক্ষতা থাকলে আকর্ষণীয় বেতনে কাজের সুযোগ রয়েছে। অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। (সূত্র: আনন্দবাজার)