স্মার্টফোনের গতি ঠিক রাখতে যে অভ্যাসগুলো জরুরি
অনেকসময় দেখা যায স্মার্টফোন ধীরগতিতে কাজ করে, অ্যাপ খুলতে সময় লাগে কিংবা ভালো ইন্টারনেট সংযোগ থাকা সত্ত্বেও ওয়েবপেজ লোড হতে দেরি হয় এ ধরনের বিপাকে প্রায়ই পড়েন অনেক ব্যবহারকারী। তবে কয়েকটি সহজ অভ্যাস অনুসরণ করলে স্মার্টফোনের কর্মক্ষমতা অনেকটাই বাড়ানো সম্ভব।
প্রতিদিন একবার রিস্টার্ট করুন
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতিদিন রাতে স্মার্টফোনের ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে একবার রিস্টার্ট করা ভালো। এতে ডিভাইসের সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের মধ্যে সমন্বয় তৈরি হয় এবং সারাদিনের অস্থায়ী ত্রুটিগুলো দূর হয়ে যায়। নতুন ইনস্টল করা অ্যাপ কিংবা পেছনে চলমান বিভিন্ন প্রক্রিয়াও এ সময় ঠিকভাবে সমন্বিত হয়।
এর ফলে স্মার্টফোনের গতি বাড়ার পাশাপাশি ব্যাটারির কার্যকারিতাও ভালো থাকে। এ ছাড়া নিয়মিত রিস্টার্ট করলে অ্যাপগুলো আরও স্বাভাবিকভাবে কাজ করে এবং ডিভাইস হ্যাক হওয়ার ঝুঁকিও কিছুটা কমে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ মুছে ফেলুন
ব্যবহারকারীরা অনেক সময় প্রয়োজন ছাড়াই বিভিন্ন অ্যাপ ইনস্টল করেন, যেগুলোর অনেকগুলো পরে আর ব্যবহার করা হয় না। এসব অ্যাপ স্মার্টফোনের স্টোরেজ ও র্যাম ব্যবহার করে ডিভাইসকে ধীরগতির করে তুলতে পারে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি স্মার্টফোনে ৫০টির বেশি অ্যাপ থাকলে সেটি যে কোনো সময় ধীরগতির হয়ে যেতে পারে। তাই সেটিংসের অ্যাপস অপশনে গিয়ে অব্যবহৃত গেম, পুরোনো টুলস ও প্রয়োজনহীন অ্যাপ আনইনস্টল করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন : অ্যাসিডিটি হলেই ঘন ঘন অ্যান্টাসিডের বদলে পান করুন এই ৭ পানীয়
ব্লোটওয়্যার নিষ্ক্রিয় রাখুন
অনেক স্মার্টফোনে আগে থেকেই কিছু অ্যাপ ইনস্টল করা থাকে, যেগুলোকে ব্লোটওয়্যার বলা হয়। ব্যবহার না করলে এসব অ্যাপ নিষ্ক্রিয় (ডিজেবল) করে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
গ্যাজেট–সংক্রান্ত বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, স্মার্টফোন থেকে মাত্র ১০টি অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ কমিয়ে ফেললেও ডিভাইসের গতি প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। অব্যবহৃত অ্যাপ শনাক্ত করতে প্লে স্টোরের আনইউজড অ্যাপ সুবিধাও ব্যবহার করা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে ২০ থেকে ৩০টি অ্যাপই যথেষ্ট। তাই প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত অ্যাপ ইনস্টল না করাই স্মার্টফোনের ভালো পারফরম্যান্স নিশ্চিত করার অন্যতম উপায়। তবে এ ধরনের সমস্যার সম্মূখীন হলে বিশেষজ্ঞ বা প্রযুক্তিবিদদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।