শিশুকে মোবাইল ফোন দেখিয়ে খাওয়ালে বাড়তে পারে অটিজমের ঝুঁকি
বর্তমান ডিজিটাল যুগে শিশুদের শান্ত রাখতে বা খাবার খাওয়াতে বাবা-মা কোনো ভাবনা-চিন্তা ছাড়াই মোবাইল ফোন দিয়ে থাকেন। এটি ধীরে ধীরে শিশুর অভ্যাসে পরিণত হয়। শিশুদের এই মোবাইল ফোন ব্যবহার এখন অনেক পরিবারের নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, এ ধরনের অভ্যাস শিশুদের মানসিক ও স্নায়ুবিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এটি দীর্ঘমেয়াদে অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডারের (এএসডি) ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস’র (এমস) চিকিৎসকদের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় বিষয়টি উঠে এসেছে। এতে জানানো হয়, তিন বছরের কম বয়সী শিশুদের দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন বা স্ক্রিনে রাখলে তাদের অটিজ়মে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
অটিজম কী?
অটিজম হলো মস্তিষ্কের বিকাশজনিত একটি জটিল অবস্থা, যেখানে শিশুর সামাজিক ও ভাষাগত বিকাশ ব্যাহত হয়। এ ধরনের শিশুরা সাধারণত অন্যদের সঙ্গে সহজে মিশতে পারে না, একা থাকতে পছন্দ করে এবং অনেক ক্ষেত্রে কথা বলা শুরু করতেও দেরি হয়।
আবেগ প্রকাশের স্বাভাবিক ভঙ্গিতেও ভিন্নতা দেখা যায়। চিকিৎসকদের মতে, অটিজমের পেছনে জিনগত ও অন্যান্য শারীরিক কারণ থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে স্ক্রিন টাইম একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির উপাদান হিসেবে সামনে আসছে।
এমসের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, তিন বছরের নিচের শিশুদের অতিরিক্ত ‘স্ক্রিন টাইম’ তাদের ভাষা শেখা, সামাজিক যোগাযোগ এবং আচরণগত বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে। বিশেষ করে যখন শিশুকে খাবার খাওয়ানোর সময় মোবাইল বা ট্যাবলেট দেখানো হয়, তখন তারা বাস্তব পরিবেশের সঙ্গে সংযোগ হারাতে থাকে।
আরও পড়ুন: চ্যাটবট আপডেটকে ছাড়িয়ে ছবি-ভিডিও তৈরিতে এআইয়ের দাপট বাড়ছে
চিকিৎসকদের মতে, স্ক্রিনের অতিরিক্ত আলো এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল দৃশ্য শিশুদের মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসরণ বাড়ায়, যা ধীরে ধীরে এক ধরনের আসক্তির আচরণ তৈরি করতে পারে। এর ফলে শিশু বাস্তব জগতের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে এবং মনোযোগের ঘাটতি দেখা দেয়। পাশাপাশি, মোবাইলের নীল আলো নিউরোট্রান্সমিটারের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে, যা স্নায়ুবিক বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া স্মার্টফোন থেকে নির্গত রেডিয়েশন নিয়েও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, শিশুদের মস্তিষ্ক ও শরীরের টিস্যু প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় বেশি সংবেদনশীল হওয়ায় তারা তুলনামূলক বেশি রেডিয়েশন শোষণ করতে পারে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।
অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়ে চিকিৎসকরা বলেন, দুই বছরের নিচের শিশুদের ক্ষেত্রে একেবারেই স্ক্রিন এড়িয়ে চলা উচিত। আর একটু বড় শিশুদের ক্ষেত্রেও সীমিত সময়ের জন্য এবং অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে স্ক্রিন ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
খাবার খাওয়ানোর সময় মোবাইল ব্যবহার না করে গল্প বলা, খেলাধুলা বা সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে শিশুকে উৎসাহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। (সূত্র: আনন্দবাজার)