০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১৫:০৬

১ থেকে ১২তম নিবন্ধনধারী নিয়োগপ্রত্যাশীদের দেওয়া সরকারের আশ্বাস বাস্তবায়নের আহবান

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সংবাদ সম্মেলন  © সংগৃহীত

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব জাকির হোসেন বলেছেন, ‘১ম থেকে ১২তম নিবন্ধনধারী শিক্ষকরা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করেন যে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি শিক্ষকদের সাথে যে ওয়াদা করেছিলেন, তিনি তা বাস্তবায়ন করবেন।’ রবিবার (৮ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আদালতের সকল মামলা নিষ্পত্তি ও নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের দাবিতে আয়োজতি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর, ১৫ জানুয়ারি শিক্ষক নেতারা তাঁর কার্যালয়ের সামনে সাক্ষাৎ করেন জানিয়ে জাকির হোসেন বলেন, ‘তিনি বলেছিলেন, দল ক্ষমতায় এলে বিষয়টি আলোচনা করে সমাধান করা হবে। আমরা জাতীয়তাবাদী আদর্শের চার-পাঁচ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা ধানের শীষকে বিজয়ী করার জন্য মাঠে-ময়দানে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি। বর্তমানে আমাদের দল ক্ষমতায় রয়েছে। নির্বাচনের পর আমরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছি। এছাড়া মহাসচিব, স্পিকার, আইনমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীসহ সকল কার্যালয়েও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, গত ১৬ এপ্রিল ঐক্যজোটের সমাবেশে চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া (এমপি), শিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর কাছে ১ম থেকে ১২তম নিবন্ধনধারীদের বিষয়টি তুলে ধরেন। মন্ত্রী মহোদয় বিষয়টি দেখবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু অদ্যাবধি আমাদের এ সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি।’

জাকির হোসেন বলেন, ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া এবং তৎকালীন রমনা উপ-পুলিশ কমিশনার (বর্তমান চট্টগ্রাম জেলার এসপি) মাসুদ আলমের যোগাযোগে ১ম থেকে ১২তম নিবন্ধনধারী কতিপয় শিক্ষকসহ এনটিআরসিএ-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নূরে আলম সিদ্দিক বৈঠক করে একটি পরিপত্র জারি করেন। কিন্তু সেই পরিপত্রের মাধ্যমে চাকরির কোনো সুরাহা হয়নি।

আরও খবর: স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের জন্য বড় উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে মন্ত্রণালয়

তিনি বলেন, পরবর্তীতে গত ২৩, ২৪, ২৫ ও ২৬ নভেম্বর শিক্ষকরা পুনরায় এনটিআরসিএ-র ফটকের সামনে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করেন, এতে বহু শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিষয়টি বিএনপির মহাসচিবের নজরে এলে তিনি শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সেলিম ভূঁইয়াকে বিষয়টি দেখার জন্য অনুরোধ করেন। তিনি দাবি মেনে নেওয়ার জন্য তাদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেন এবং বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এলে দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়া হবে।’ পাশাপাশি তিনি সবাইকে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার আহবান জানান।

গত ৮ অক্টোবর ঐক্যজোটের বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় ১ম থেকে ১২তম নিবন্ধনধারীদের বিষয়টি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমীনসহ বিভিন্ন সংশ্লিষ্টদের কাছে তুলে ধরা হয়।

জাকির হোসেন আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন শিক্ষকবান্ধব নেতা, যিনি শিক্ষকদের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা দিয়েছিলেন। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও শিক্ষকদের সকল দাবি-দাওয়া পূরণ করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, কোনো শিক্ষক অবহেলিত থাকতে পারে না এবং আমার দল পরবর্তীতে ক্ষমতায় আসলে তোমাদের বিষয়টি দেখা হবে।’ এখন ১ম থেকে ১২তম নিবন্ধনধারীরা বিশ্বাস করেন, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের সাথে যে ওয়াদা করেছিলেন, তিনি তা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করবেন।’