২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৪

সাত দাবিতে আজ থেকে লাগাতার আন্দোলনে নামছেন শিক্ষা ক্যাডাররা

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার  © টিডিসি সম্পাদিত

দীর্ঘদিনের পদোন্নতিবঞ্চনা ও পদোন্নতিসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনসহ সাত দফা দাবিতে আন্দোলনে নামছেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ রবিবার (২৫ অক্টোবর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন তারা।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার প্রভাষক পরিষদের ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে।

আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে, পদোন্নতির সরকারি আদেশ (জিও) দ্রুত জারি, ২৪তম থেকে ৩৮তম বিসিএসের যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি, দুই হাজার ৮২৩টি সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব অনুমোদন এবং পদোন্নতিতে দীর্ঘসূত্রতা ও ক্যাডারভিত্তিক বৈষম্য দূর করা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতির লক্ষ্যে গত ১৬, ১৭ ও ২১ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভা অনুষ্ঠিত হলেও এখনো সরকারি আদেশ জারি হয়নি। এর আগে গত ২৩ জুলাই মাউশির পক্ষ থেকে দুটি স্মারকে ডিপিসির সভা আহ্বান করা হয়েছিল। ২৭ জুলাই তৎকালীন সচিবের সভাপতিত্বে সভা হওয়ার কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তা পিছিয়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষকরা।

আরও পড়ুন: আগামী ঈদে শতভাগ উৎসব ভাতা দাবি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের

পদোন্নতিতে সংকট কেন
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরকারি কলেজ শাখার কর্মকর্তারা পদোন্নতির সরকারি আদেশ জারি না হওয়ার কারণ হিসেবে শূন্য পদের সংকট ও সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টি না হওয়াকে উল্লেখ করেছেন।

তথ্য অনুযায়ী, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে প্রভাষক পর্যায়ে মোট পদ রয়েছে ৯ হাজার ৭৮২টি। বিপরীতে সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ে পদ রয়েছে চার হাজার ৪৫১টি। ফলে প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে সাংগঠনিক পদসংকট রয়েছে। বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তার জন্য প্রথম পদোন্নতির সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে।

মাউশির ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে পাঠানো প্রস্তাব অনুযায়ী, ৩২তম, ৩৩তম, ৩৪তম, ৩৫তম, ৩৬তম ও ৩৭তম বিসিএসের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সরকারি কলেজ জাতীয়করণ বিধিমালা, ২০০০-এর আওতায় আত্তীকৃত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে মোট দুই হাজার ৮২৩ জন প্রভাষক সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির যোগ্য ছিলেন।

তবে বর্তমানে সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সংখ্যা বিদ্যমান পদের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ফলে পর্যাপ্ত শূন্য পদ না থাকায় প্রভাষকদের পদোন্নতি দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এ সংকট নিরসনে সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হলেও তা এখনো অনুমোদন পায়নি।

পদোন্নতি নিয়ে অসন্তোষের আরেকটি কারণ হিসেবে অন্যান্য ক্যাডারের সঙ্গে বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিসিএস প্রশাসনসহ অন্য অনেক ক্যাডারে ২০২২, ২০২৩, ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে কর্মকর্তারা নিয়মিত ষষ্ঠ গ্রেডে পদোন্নতি পেয়েছেন। বিপরীতে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে ২০২২, ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৬ সালে ষষ্ঠ গ্রেডে কোনো পদোন্নতি হয়নি। ২০২৫ সালে একসঙ্গে এক হাজার ৮৭০ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এককালীন বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে দীর্ঘদিনের জট কমানো সম্ভব হলেও এতে স্থায়ী সমাধান আসে না। এ জন্য নিয়মিত, স্বচ্ছ ও পূর্বানুমেয় পদোন্নতি ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।

সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—

১. গত ১৬, ১৭ ও ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত ডিপিসির সভার আলোকে যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সরকারি আদেশ অবিলম্বে জারি করতে হবে।

২. প্রযোজ্য বিধিমালা, যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতা অনুসারে ২৪তম থেকে ৩৮তম বিসিএসের পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি নিশ্চিত করতে হবে।

৩. প্রস্তাবিত ২ হাজার ৮২৩টি সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব দ্রুত নিষ্পত্তি ও অনুমোদনের মাধ্যমে পদোন্নতির প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে।

৪. বিধি ও প্রাপ্যতা অনুযায়ী যোগ্য কর্মকর্তাদের আর্থিক সুবিধাসহ ভুতাপেক্ষ পদোন্নতি নিশ্চিত করতেহবে৷

৫. শিক্ষা ক্যাডারে দীর্ঘদিনের পদোন্নতিসংক্রান্ত দীর্ঘসূত্রতা ও ক্যাডারভিত্তিক বৈষম্য নিরসন করে নিয়মিত স্বচ্ছ ও সময়বদ্ধ পদোন্নতি কাঠামো নিশ্চিত করতে হবে।

৬. তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডে পদোন্নতির যোগ্যতা ও প্রাপ্যতাসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করে সংশ্লিষ্ট ফাইলগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।

৭. পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি বৈঠক আয়োজন করে পদোন্নতি বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করতে হবে।