২৪ মে ২০২৬, ১০:৫৯

বিদ্যমান বেতন কাঠামোর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা অবশ্যই পে স্কেলে থাকবে

এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজি  © টিডিসি সম্পাদিত

২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে নবম জাতীয় পে স্কেল। ১ জুলাই থেকেই এটি কার্কর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে অনেকটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে এসেছে সরকার। এ সময় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন চূড়ান্তের পর বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন নিয়েও নানা আলোচনা চলছে সংশ্লিষ্ট মহলে।

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা কী ধরনের সুবিধা পাবেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তারা অবশ্যই পে স্কেলের অন্তর্ভুক্ত হবেন বলে মনে করেন এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজি। তিনি শনিবার (২৩ মে) ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘বিদ্যমান সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় থাকায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা অবশ্যই নবম জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত হবে।’

জানা গেছে, নতুন সরকারি বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বড় অঙ্কে বৃদ্ধি পাবে। ১৩তম গ্রেডের শিক্ষকদের বর্তমান মূল বেতন ১১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন পে স্কেলে বিশেষভাবে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বেতন বৃদ্ধির হার বেশি রাখা হয়েছে এবং টিফিন ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধাও বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে সম্ভাবনা ও শঙ্কা— উভয়টিই তৈরি হয়েছে এমপিও শিক্ষকদের নতুন হারে বেতন-ভাতা বাড়া নিয়ে। নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বাড়বে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শঙ্কায় রয়েছেন কয়েক লাখ শিক্ষক-কর্মচারী।

শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন পে-স্কেল নিয়ে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও পে কমিশনের একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যমান সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় থাকা সব কর্মকর্তা-কর্মচারীই নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে এর সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ, বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ-সুবিধাও নতুন কাঠামো অনুযায়ী ধীরে ধীরে সমন্বয় করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক অতিরিক্ত সচিব দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‌‘সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় যারা সরকারের কাছ থেকে বেতন পান, নতুন পে-স্কেল অনুমোদিত হলে তাদের সবাইকেই সেই নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়া হবে। এতে কোনো ধরনের বৈষম্যের সুযোগ নেই।’ 

আরও পড়ুন: একই নিয়োগ, একই যোগ্যতা, তবুও ৪ মাস বেতনহীন মাদ্রাসার কৃষি শিক্ষকরা

তিনি আরও জানান, নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সরকার এমন একটি পে-স্কেল প্রণয়নের দিকে এগোচ্ছে, যাতে মূল্যস্ফীতির চাপ, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং কর্মচারীদের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়।

শিক্ষা প্রশাসনের দুজন কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতন বাড়বে। এটা নিশ্চিত। মূল বেতন বাড়লে বাড়ি ভাড়ার ভাতাও বাড়বে; এ ক্ষেত্রে সাড়ে ৭% শতাংশ বাড়ি ভাড়া ১৫% হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে চিকিৎসা ভাতা আপাতত বাড়বে না বলেই ধরা যায়। যদিও সবকিছুই নির্ভর করছে পে স্কেলের চূড়ান্ত গেজেটের ওপর—জানান ওই দুই কর্মকর্তা।

এর আগে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব ও ও বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা দেলোয়ার হোসেন আজিজি বলেন, এর আগে সরকার যেহেতু বেতন কমিশন গঠন করেছেন এবং এর কার্যক্রম এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাই সরকারের প্রতি আহবান জানাতে চাই—এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ অনেকখানি এগিয়ে এসেছে। বাকি প্রক্রিয়াও যেন সম্পন্ন হয় এবং দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।