১৬ আগস্ট ২০২৬, ২১:০০

দুই গোল্ড মেডেল জিতে আন্তর্জাতিক অ্যাবাকাস অলিম্পিয়াডে বিশ্ব রেকর্ড অভির

শেরপুরের ঝিনাইগাতীর খুদে মেধাবী ইয়াসীন তাফসির অভি।  © টিডিসি ছবি

বিশ্বের সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক অ্যাবাকাস অলিম্পিয়াডে দুই গোল্ড মেডেল জিতে দ্রুততম গণিত সমাধানে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে শেরপুরের ঝিনাইগাতীর খুদে মেধাবী ইয়াসীন তাফসির অভি। প্রতিযোগিতার দুই ধাপে ‘চ্যাম্পিয়ন অব চ্যাম্পিয়ন’ ও ‘সুপ্রিম চ্যাম্পিয়ন’ শিরোপা অর্জন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে দ্বিতীয় শ্রেণির এই শিক্ষার্থী।

আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াড ফেডারেশনের এডুকেশন পার্টনার ব্রেইন স্কুলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘World’s Largest International Abacus Olympiad’-এ প্রায় ১৪টি দেশের দেড় হাজার প্রতিযোগী অংশ নেয় বলে আয়োজক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে। অভির এই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ‘বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’ থেকেও তাকে বিশেষ সম্মাননা সনদ দেওয়া হয়েছে।

২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার প্রথম পর্বে জুনিয়র লেভেলে অংশ নেয় ইয়াসীন তাফসির অভি। সেখানে অসাধারণ ফলাফল করে সে অর্জন করে ‘চ্যাম্পিয়ন অব চ্যাম্পিয়ন’ শিরোপা। এরপর ২০২৬ সালের ২ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব। দ্বিতীয় পর্বেও সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ‘সুপ্রিম চ্যাম্পিয়ন’ শিরোপা অর্জন করে অভি। দুই ধাপের এই সাফল্যে তার হাতে ওঠে দুটি গোল্ড মেডেল।

অ্যাবাকাস হলো দ্রুত ও নির্ভুলভাবে গণনা করার একটি বিশেষ পদ্ধতি। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে এতে শিশুদের গণনাদক্ষতা, মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ে। অভি অনলাইনে ‘এডুটিউন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অ্যাবাকাসের প্রশিক্ষণ নেয়। জুনিয়র লেভেল সফলভাবে শেষ করার পর বর্তমানে সে অ্যাডভান্স লেভেলে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।

অ্যাবাকাসের পাশাপাশি স্পোকেন ইংলিশেও দক্ষতা অর্জন করেছে অভি। পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের দক্ষতা অর্জনের প্রতিও তার রয়েছে আগ্রহ। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ছোটবেলা থেকেই নতুন কিছু শেখার প্রতি অভির আগ্রহ ছিল।

বর্তমানে ময়মনসিংহ নগরীর ক্যামব্রিজ মডেল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে ইয়াসীন তাফসির অভি। সে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ইমরান হাসান রাব্বি ও ঝর্ণা আক্তার দম্পতির বড় ছেলে। তার বাবা ইমরান হাসান রাব্বি একজন গণমাধ্যমকর্মী এবং বর্তমানে ডিবিসি নিউজের ময়মনসিংহ ব্যুরো চিফ হিসেবে কর্মরত।

জাতিসংঘের বেস্ট ডিপ্লোম্যাটস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আরিয়ান

অভির আন্তর্জাতিক সাফল্যে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। শেরপুরের সন্তান হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন অর্জনকে জেলার জন্যও গৌরবের বিষয় হিসেবে দেখছেন তারা। পরিবারের সদস্যদের প্রত্যাশা, অভির এই সাফল্য অন্য শিশুদেরও বিভিন্ন দক্ষতা অর্জন ও মেধা বিকাশে উৎসাহিত করবে।

দুই গোল্ড মেডেল, ‘চ্যাম্পিয়ন অব চ্যাম্পিয়ন’ ও ‘সুপ্রিম চ্যাম্পিয়ন’ শিরোপা অর্জনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অ্যাবাকাস অঙ্গনে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে খুদে মেধাবী ইয়াসীন তাফসির অভি। পরিবারের প্রত্যাশা, সাফল্যের এই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ভবিষ্যতে আরও বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশের জন্য আরও সম্মান বয়ে আনবে সে।

অভির বাবা ইমরান হাসান রাব্বি বলেন, ‘ছেলের এই অর্জন আমাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। একই সঙ্গে শেরপুরের সন্তান হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন স্বীকৃতি পাওয়ায় আমরা গর্বিত। অভি ভবিষ্যতে আরও বড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

অভির মা ঝর্ণা আক্তার বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই অভির বিভিন্ন বিষয়ে শেখার আগ্রহ রয়েছে। অ্যাবাকাস শেখার প্রতিও তার অনেক আগ্রহ ছিল। তার এই সাফল্যে আমরা খুবই আনন্দিত। আত্মীয়স্বজনসহ সবাই খুশি এবং গর্বিত।’

অভির প্রশিক্ষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, অ্যাবাকাসে দক্ষতা অর্জনের জন্য নিয়মিত অনুশীলন, একাগ্রতা ও দ্রুত হিসাব করার সক্ষমতা প্রয়োজন। অভির শেখার আগ্রহ, মনোযোগ ও নিয়মিত অনুশীলনই তাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন সাফল্য পেতে সহায়তা করেছে।