৩০ জুন ২০২৬, ১১:৫৩

চারবার ভাইভা, অবশেষে স্বপ্নপূরণ; ৪৭তম বিসিএসে তথ্য ক্যাডারে শাহরিয়ার

৪৭তম বিসিএসে তথ্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত শাহরিয়ার ইসলাম  © টিডিসি ফটো

একবার নয়, টানা তিনটি বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েও ক্যাডার হতে পারেননি। প্রতিবারই ফিরতে হয়েছে অপূর্ণ স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু ব্যর্থতা তাকে থামাতে পারেনি। ধৈর্য, অধ্যবসায় আর নিরলস পরিশ্রমের ফল মিলেছে এবার । ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে তথ্য ক্যাডারে সহকারী পরিচালক (বা সমমান) পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন শেরপুর সদর উপজেলার কৃতী সন্তান মো. শাহরিয়ার ইসলাম।

শাহরিয়ার ইসলাম শেরপুর সদর উপজেলার চান্দেরনগর মাইজপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা আলহাজ্ব মো. আব্দুল মান্নান একজন ব্যবসায়ী এবং মা সেলিনা বেগম গৃহিণী। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট।

শিক্ষাজীবনেও ধারাবাহিক কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন শাহরিয়ার। ২০১৩ সালে শেরপুরের ইদ্রিসিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে দাখিল এবং ২০১৫ সালে তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা, টঙ্গী শাখা থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে আলিম পাস করেন। পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন।

বর্তমানে তিনি সোনালী ব্যাংকের ঝিনাইগাতী শাখায় সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত। চাকরির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিসিএসের প্রস্তুতিও চালিয়ে গেছেন। এর আগে ৪৪তম, ৪৫তম ও ৪৬তম বিসিএসে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিলেও ক্যাডার পদে সুপারিশ পাননি। তবে ৪৪তম বিসিএসে নন-ক্যাডার হিসেবে উপজেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মকর্তা পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।

আরও পড়ুন : নেই শিক্ষক, সংকট কম্পিউটারের, এক যুগেও পূরণ হয়নি আইসিটি শিক্ষার ঘাটতি

নিজের বিসিএস যাত্রার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শাহরিয়ার ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমার বিসিএসের যাত্রা ছিল দীর্ঘ, ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের। চারটি বিসিএসের ভাইভায় অংশ নেওয়ার পর অবশেষে ৪৭তম বিসিএসে ক্যাডার সুপারিশ পেয়েছি। মাঝপথে অনেক অনিশ্চয়তা, মানসিক চাপ ও হতাশার মুহূর্ত এসেছে। একই সঙ্গে চাকরির দায়িত্ব পালন করে প্রস্তুতি নেওয়াও ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আমি কখনো লক্ষ্য থেকে সরে যাইনি।’

ক্যাডার পছন্দ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার প্রথম পছন্দ ছিল প্রশাসন ক্যাডার, দ্বিতীয় পছন্দ পুলিশ ক্যাডার। তবে তথ্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। আমি বিশ্বাস করি, প্রতিটি ক্যাডারই দেশের সেবার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তথ্য ক্যাডারে থেকেও দেশের জন্য কার্যকর অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে।’

এই সাফল্যের জন্য তিনি সর্বপ্রথম মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন। পাশাপাশি বাবা-মা, স্ত্রী, পরিবারের সদস্য, শিক্ষক, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘তাদের দোয়া, অনুপ্রেরণা ও অবিচল সমর্থন ছাড়া এই পথচলা এতটা সহজ হতো না।’

আরও পড়ুন : বর্ষায়ও তীব্র গরম, কতদিন থাকবে জানালেন আবহাওয়াবিদরা

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে শাহরিয়ার ইসলাম বলেন, ‘আমার লক্ষ্য একজন সৎ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে মানুষের কল্যাণে কাজ করা। পাশাপাশি তথ্যের সঠিক ও ইতিবাচক প্রচারের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চাই।’

টানা চারটি বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার পরও হাল না ছেড়ে শেষ পর্যন্ত তথ্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া শাহরিয়ার ইসলামের এই সাফল্য নতুন প্রজন্মের বিসিএস প্রত্যাশীদের জন্য অধ্যবসায়, ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাসের এক অনুপ্রেরণার গল্প।