২১ মে ২০২৬, ১৫:৫১

শেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে পিআর ও নাগরিকত্বের নিয়ম, কোন দেশে কত সময় লাগে

শেনজেনভুক্ত কোন দেশে কত সময় দরকার পিআর এবং সিটিজেনশিপ পেতে জেনে নিন  © সংগৃহীত

ইউরোপের শেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষা, চাকরি বা বসবাসের জন্য বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের আগ্রহ প্রতিনিয়ত বাড়ছেই। তবে ইউরোপের একেক দেশে স্থায়ী রেসিডেন্সি (পিআর) ও নাগরিকত্ব (সিটিজেনশিপ) পাওয়ার নিয়ম ও সময়সীমা একেক রকম। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু দেশ তাদের অভিবাসন আইনে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। ইউরোপের শেনজেনভুক্ত প্রধান প্রধান দেশগুলোতে পিআর ও নাগরিকত্ব পাওয়ার বর্তমান সময়সীমা ও নিয়মাবলি নিচে তুলে ধরা হলো:

১. জার্মানি (Germany)

​জার্মানিতে বর্তমানে নাগরিকত্বের আইন অনেক সহজ করা হয়েছে। এখন মাত্র ৫ বছর বৈধভাবে থাকলেই নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। এমনকি বিশেষ যোগ্যতা বা দ্রুত ইন্টিগ্রেশনের (যেমন: C1 ভাষা দক্ষতা) প্রমাণ দিতে পারলে মাত্র ৩ বছরেই নাগরিকত্ব পাওয়া সম্ভব। এছাড়া দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ এখন সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

২. ডেনমার্ক (Denmark)

​ডেনমার্কের ইমিগ্রেশন নীতি ইউরোপের মধ্যে বেশ কঠোর। এখানে পিআর পেতে প্রায় ৮ বছর এবং নাগরিকত্ব পেতে ৯ বছর বা তার বেশি সময় লাগে। এছাড়া ভাষা ও সামাজিক জ্ঞানের কঠিন পরীক্ষায় পাস করতে হয়।

আরও পড়ুন: জেনে নিন বিশ্বসেরা ১০ ফুল-ফ্রি স্কলারশিপ সম্পর্কে

৩. সুইডেন (Sweden)

বর্তমানে সুইডেনে নাগরিকত্ব পেতে প্রায় ৮ বছর সময় লাগে। এছাড়া ভাষা পরীক্ষা ও সামাজিক জ্ঞানের বাধ্যবাধকতাও যুক্ত করা হয়েছে।

৪. ইতালি (Italy)

​ইতালিতে ৫ বছর পর পিআর পাওয়া গেলেও নাগরিকত্বের জন্য একটানা ১০ বছর বৈধভাবে বসবাস করতে হয়। স্টুডেন্ট ভিসার সময়কাল এখানে নাগরিকত্বের জন্য পূর্ণ মেয়াদে গণনা করা হয় না।

৫. অস্ট্রিয়া (Austria)

​এখানে পিআর পেতে ৫ বছর এবং নাগরিকত্বের জন্য প্রায় ১০ বছর লাগে। ভাষা এবং স্থানীয় সমাজের সাথে মিশে যাওয়া বা ইন্টিগ্রেশনের বিষয়টি এখানে অত্যন্ত কড়াকড়িভাবে দেখা হয়।

আরও পড়ুন: জেনে নিন ইউরোপের সেরা ১০ স্কলারশিপ সম্পর্কে

৬. পর্তুগাল (Portugal)

​পর্তুগালে ৫ বছর পর স্থায়ী রেসিডেন্সি (PR) ও নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। বর্তমানে নাগরিকত্বের সময়সীমা গণনার নিয়ম নিয়ে কিছু পরিবর্তন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, তবে দেশটি এখনো অভিবাসীদের জন্য তুলনামূলক সহজ ও জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে পরিচিত।

৭. ফ্রান্স (France)

সাধারণত ৫ বছর বসবাসের পর ফ্রান্সে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। তবে যারা ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষা (Higher Education) সম্পন্ন করেন, তাদের জন্য এই সময়সীমা কমে ২ বছর হতে পারে। ফরাসি ভাষা ও সংস্কৃতিতে দক্ষতা এখানে বাধ্যতামূলক।

৮. বেলজিয়াম (Belgium)

​বেলজিয়ামে ৫ বছর বৈধভাবে বসবাস এবং নিয়মিত কর (Tax) প্রদানের রেকর্ড থাকলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইউরোপের অন্যতম দ্রুত ও সহজ নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার জন্য দেশটি পরিচিত।

আরও পড়ুন: জেনে রাখুন বিশ্বসেরা ২৯ স্কলারশিপের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট

৯. নেদারল্যান্ডস (Netherlands)

​নেদারল্যান্ডসে ৫ বছর পর নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। তবে ডাচ ভাষা পরীক্ষা (Integration Exam) পাস করা এবং ট্যাক্স প্রদানের স্বচ্ছ রেকর্ড থাকা অত্যন্ত জরুরি।

১০. স্পেন (Spain)

​স্পেনে ৫ বছর বৈধভাবে থাকার পর পিআর (PR) পাওয়া যায়। তবে নাগরিকত্বের জন্য সাধারণত ১০ বছর সময় লাগে। এছাড়া স্প্যানিশ ভাষা ও সংস্কৃতির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়।