২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪২

জবি, ঢাকা কলেজ ও আলিয়ার সংঘর্ষ ছাত্রদল সভাপতির নির্দেশেই হয়েছে, অভিযোগ শিবির সভাপতির

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।  © ফাইল ছবি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও আলিয়া মাদ্রাসায় গত ৪ আগস্ট সংঘর্ষ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির নির্দেশেই হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনাও ‘হাইকমান্ডের নির্দেশে’ হয়ে থাকে বলে দাবি করেছেন তিনি।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব অভিযোগ করেন নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘রাজশাহীর পদ্মা কলেজের ঘটনার পর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির মতো দায়িত্বশীল একটি পদ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক। তাঁর বক্তব্য থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও আলিয়া মাদ্রাসায় গত ৪ আগস্ট সংঘটিত সংঘর্ষ তাঁর নির্দেশেই হয়েছে। যা নিঃসন্দেহে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত সংঘর্ষের ঘটনাগুলোও হাইকমান্ডের নির্দেশে হয়ে থাকে।’

আরো পড়ুন: ‘কুকুরের মত হিংস্রদের কীভাবে শিক্ষা দিতে হয়, ছাত্রদল বারবার প্রমাণ করেছে’

তিনি লেখেন, ‘আজও দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের নির্দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও সহাবস্থানের জন্য মারাত্মক হুমকি। গতকাল রাজশাহী পদ্মা কলেজে ভর্তি-সহায়তার জন্য স্থাপিত ছাত্রশিবিরের হেল্প ডেস্ক ও দায়িত্বশীল নেতা-কর্মীদের ওপর ছাত্রদলের অছাত্রদের একটি দল বিনা উস্কানিতে হামলা চালায়। এতে আমাদের কয়েকজন ভাই আহত হন। ন্যাক্কারজনক এই ঘটনার পরও কলেজ প্রশাসন কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।’

আরো লিখেছেন, ‘এর আগেও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও বক্তব্যে ছাত্রশিবিরকে উৎখাত, জবাই, হত্যা, দেশ থেকে বের করে দেওয়া এবং রাজনীতি করতে না দেওয়ার মতো উসকানিমূলক ও তীর্যক বক্তব্য দিয়েছে। এসব বক্তব্যের আমরা পাল্টা কোনো জবাব দিইনি। কারণ আমরা চেয়েছি, ক্যাম্পাসে আর ফ্যাসিবাদী আমলের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ফিরে না আসুক; বরং সহাবস্থান, পারস্পরিক সম্মান ও কল্যাণমুখী রাজনীতির চর্চা প্রতিষ্ঠিত হোক।

কিন্তু ছাত্রশিবিরের একজন দায়িত্বশীলের বিচ্ছিন্ন একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির যে আগ্রাসী অবস্থান ও বক্তব্য আমরা দেখলাম, তা কোনোভাবেই দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণের পরিচয় বহন করে না। বরং এ ধরনের বক্তব্য সংঘাত ও সন্ত্রাসের পথকে আরও উন্মুক্ত করে এবং ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশকে বিপন্ন করে।’

আরো পড়ুন: বেপরোয়া ছাত্রশিবিরকে মুখে ও হাতে লাগাম লাগানোর পরামর্শ দিচ্ছি: নাছির

শিবির সভাপতি লেখেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, কোনো পক্ষেরই সন্ত্রাস, হামলা, উসকানি কিংবা প্রতিশোধের রাজনীতি গ্রহণযোগ্য নয়। ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে; কিন্তু তার সমাধান হতে হবে রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। শিক্ষাঙ্গনে ভয়, হামলা ও দখলদারিত্বের সংস্কৃতির পরিবর্তে সহাবস্থান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণকেন্দ্রিক রাজনীতিই প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: রাজশাহীতে গতকাল ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিনা উস্কানিতে ছাত্রশিবিরের কর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবির সভাপতির দেওয়া বক্তব্যের কিছু অংশ রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত হওয়ায় কেন্দ্রীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁকে সতর্ক করা হয়েছে। ছাত্রশিবির কোনো ধরনের উসকানিমূলক বা রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত বক্তব্যকে সমর্থন করে না।) ’