১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৩৫

যাত্রার দেড় বছরেও ব্যাকফুটে এনসিপির ছাত্র সংগঠন, কাউন্সিল ঘিরে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা

কেন্দ্রীয় সংসদ ও ঢাবি শাখা কাউন্সিলে প্রার্থীদের একাংশ  © টিডিসি সম্পাদিত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অগ্নিগর্ভ থেকে নতুন ছাত্ররাজনীতির আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দেড় বছর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস)। প্রতিষ্ঠার ৮ মাসেই নাম বদলে রাখা হয় ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’। নাম বদলানোর পর ভাগ্যও কিছুটা বদলেছে। ‘ব্যর্থ’ থেকে হয়েছে ‘অস্তিত্বহীন’। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির ছাত্র সংগঠনটি নতুন করে আলোচনায় আসে কেন্দ্রীয় সভাপতির পদত্যাগের পর। অভিভাবকহীন সংগঠনটিকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে এবার অপেক্ষা জাতীয় কাউন্সিলের। আগামীকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নির্ধারণ হবে কার কাঁধে যাচ্ছে সংগঠনটির দায়িত্বভার।

জাতীয় ছাত্রশক্তি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার জাতীয় কাউন্সিলের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটেরও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। সংগঠনটির সদস্যদের ভোটদানের মধ্য দিয়ে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হবেন ভবিষ্যত নেতারা। ইতোমধ্যে নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

প্রতিষ্ঠা, বিতর্ক ও ব্যর্থতা
জাতীয় ছাত্রশক্তি ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) নামে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ওই দিন বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়কদের এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এর আত্মপ্রকাশ ঘটে।

প্রতিষ্ঠাকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদারকে আহ্বায়ক এবং দপ্তর সম্পাদক জাহিদ আহসানকে সদস্য সচিব করে ছয় সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা ছিলেন—সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব রিফাত রশীদ, মুখ্য সংগঠক তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী এবং মুখপাত্র আশরেফা খাতুন।

একই দিন ঘোষণা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিও। আব্দুল কাদেরকে আহ্বায়ক করে সেখানেও ৬ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটির অন্যান্য পদে ছিলেন—সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক লিমন মাহমুদ হাসান, সদস্য সচিব মহির আলম, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আল আমিন সরকার, মুখ্য সংগঠক হাসিব আল ইসলাম এবং মুখপাত্র রাফিয়া রেহনুমা হৃদি। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ও ঢাবি কমিটির পরিসর বাড়ানো হয়।

আমরা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা হওয়া একটা ছাত্র সংগঠন, যেটা আসলে কারো অঙ্গ সংগঠন না। সহযোগী সংগঠন হিসেবে আমরা অবশ্যই এনসিপির বুদ্ধি-পরামর্শগুলো নিই, তাদের অভিজ্ঞতাগুলো নিই। শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে, তাদের পড়াশোনা এবং আর্থ-সামাজিক সবকিছুর উন্নয়নে আমরা কাজ করতে চাই— মোহাম্মদ সাকিব, ঢাবি সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী

তবে সংগঠনটি ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তে মধুর ক্যান্টিনে পদ-পদবি ও অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব নিয়ে সমন্বয়কদের দুটি পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ ও কোন্দল প্রকাশ্যে আসে। মধুর ক্যান্টিনের ভেতরে ও বাইরে দুই পক্ষ একে অপরের মুখোমুখি হয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন। এ নিয়ে মারপিটেও জড়ান তারা।

আরও পড়ুন: জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসানের পদত্যাগ

ধীরে ধীরে দেশের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়সহ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয় সংগঠনটি। এরই মধ্যে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন। ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সর্বশেষ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে ভরাডুবি ঘটে নেতাকর্মীদের।

এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’ নামে কাদের-বাকের এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম’ নামে আরিফুজ্জামান-সিয়ামের নেতৃত্বে প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছিল। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে প্যানেল প্রস্তুত না হলেও বিভিন্নভাবে নির্বাচনে অংশ নেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

শীর্ষ ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি ছাড়া আর কোথাও জয়ের মালা পরতে পারেনি বাগছাস। জাকসুতে সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক পদে আহসাব লাবীব এবং কার্যকরী সদস্য পদে মোহাম্মদ আলী চিশতী নামে সংগঠনটির প্যানেলের দুজন নির্বাচিত হন। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সংসদগুলোতে অল্প কিছু আসনে নির্বাচিত হলেও অস্তিত্বের তেমন জানান দিতে পারেনি সংগঠনটি।

লেজুড়বৃত্তির বিরোধিতা থেকে পুরোনো মডেলে
প্রতিষ্ঠার পর বাগছাস সর্বোচ্চ আলোচনায় ছিল ছাত্র সংসদের নির্বাচন পর্যন্ত। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠন ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর নেতাকর্মীরাই গড়ে তুলেছিলেন সংগঠনটি। এ ছাড়া এর নেতাদের বড় অংশ বহু আগে থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের পরিচিত মুখ। ফলে সবার চোখ যেমন এর নেতাকর্মীদের দিকে ছিল, তেমনি উচ্চাভিলাষ ছিল সংগঠনটির তাদের মধ্যেও।

তবে সবার এমন ভাবনায় ছেদ পড়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোতে একে একে ভরাডুবির পর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যর্থতার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্যানেলই ঘোষণা করা হয়নি। নাম পরিবর্তনের পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্যানেল দেওয়া হলেও সামান্যও সুবিধা করতে পারেনি সংগঠনটি।

এনসিপিকে এখনও মানুষ ‘ছাত্রদের দল’ হিসেবে বিবেচনা করায় সংগঠনটি যথোপযুক্ত মূল্যায়ন পায়নি। তিনি বলেন, ছাত্রদের দল হিসেবে মানে মানুষ আসলে এনসিপিকে কনসিডার করে। যার কারণে আসলে ছাত্রশক্তির প্রোপার ব্র্যান্ডিংটা হয়নি। এ ছাড়া ছাত্র সংসদের সময়টাতে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ মোটামুটি সবার মুখে মুখে চলে গেলেও এরপর যখন নাম পরিবর্তন করা হয়, তার কারণে পুনরায় পরিচিত হতে একটু সময় লেগেছে— তাহমীদ আল মুদাসসীর চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী

প্রতিষ্ঠার আগে-পরে বাগছাস দাবি করেছিল তারা লেজুড়হীন ছাত্র সংগঠন। তাদের আত্মপ্রকাশও হয়েছিল ‘স্বাধীন ও স্বতন্ত্র’ ছাত্র সংগঠন হিসেবে। ডাকসু নির্বাচনের আগ পর্যন্ত নিজেদের এনসিপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন বলতেও দ্বিধা করতেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। প্রতিষ্ঠাকালে আবু বাকের মজুমদার বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে বলেছিলেন, প্রচলিত দলীয় লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠনে অন্তরায় এবং তা ক্যাম্পাসে অন্ধত্ব ও সহিংসতা তৈরি করে। তারা ক্যাম্পাসে এই দলীয় দাসত্ব ও লেজুড়বৃত্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ চেয়েছেন।

কিন্তু ছাত্র সংসদের ‘তেতো অভিজ্ঞতা’র পর সংগঠনটি পুনর্গঠন করা হয়। বাগছাস বিলুপ্ত হয়ে নাম ধারণ করে ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’তে। লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি তোলা সংগঠনটি নিজেকেই এনসিপির সহযোগী সংগঠন হিসেবে ‘লেজুড়বৃত্তি’র পথ ধরে।

আরও পড়ুন: বাগছাস থেকে জাতীয় ছাত্রশক্তি: এক বছরে ছাত্ররাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলেছে?

রূপান্তরের সময় জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতৃত্বেও রদবদল আনা হয়। আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার হয়ে যান সাধারণ সম্পাদক, সদস্য সচিব জাহিদ আহসান আসেন সভাপতির পদে। সাধারণত কাউন্সিল বা নির্বাচন ছাড়া আহ্বায়ক কমিটি গঠন করার চল থাকলেও এই কমিটি ছিল ব্যতিক্রম। এ ছাড়া ওই সময়ে ঢাবিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাগছাস নেতারা ছিটকে পড়েন।

সভাপতির পদত্যাগ-বিতর্ক
দীর্ঘদিন আলোচনার বাইরে থাকা দেশের ‘তৃতীয় বৃহত্তম’ ছাত্র সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান হঠাৎই পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর সংগঠনটির পঞ্চম সাধারণ সভায় তিনি তার পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং তা গৃহীত হয়।

জাহিদ আহসানের পদত্যাগের পর সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান সিনিয়র সহ-সভাপতি আহসান লাবিব। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) সমাজসেবা সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা এই ছাত্রনেতা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাবি শাখার সমন্বয়ক ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শামীম মোল্লা নিহতের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় তিনি অন্যতম অভিযুক্ত। ওই ঘটনার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। ফলে তাকে সভাপতি পদে ভার দেওয়ার পর নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়।

অপেক্ষা নতুন নেতৃত্বের, নারী প্রার্থী একজন
সভাপতির পদত্যাগের দিনই জাতীয় ছাত্রশক্তি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণা করা হয়। ঘোষণা অনুযায়ী, আগামীকাল ১২ সেপ্টেম্বর এই প্রথম কাউন্সিলটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে নির্বাচিত হবে নতুন নেতৃত্ব।

তফসিল ঘোষণার পর ইতোমধ্যে প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি পদপ্রার্থী দুজন হলেন বর্তমান কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার ও সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহফুজ খান। সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন ঢাবি শাখার সভাপতি তাহমীদ আল মুদাসসীর চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি লিমন হাছান ও দপ্তর সম্পাদক মাহফুজুর রহমান। আর সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচন করছেন সাংগঠনিক সম্পাদক (উত্তরাঞ্চল) আবু তৌহিদ মো. সিয়াম এবং ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামলী সুলতানা জেদনী ও মো. জহিরুল ইসলাম। এর মধ্যে শ্যামলী সুলতানা জেদনী একমাত্র নারী প্রার্থী। তিনি এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের স্ত্রী।

অপরদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে রয়েছেন হাসিব আল ইসলাম, মো. মহিউদ্দিন ও সাকিবুল হাসান। সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী দুজন হলেন ফেরদৌস আইয়াম ও মোহাম্মদ সাকিব। বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মো. জহির রায়হান রিপন।

নতুন সম্ভাবনার স্বপ্ন পদপ্রত্যাশীদের
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা এগিয়ে নিতে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা। বলছেন, নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণের পর গতি পাবে সংগঠনটি। একই সাথে কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা শুরু হবে বলেও মনে করছেন তারা।

যেকোনো দলেরই বড় হতে সময় লাগে, সময় দিতে হয়। ছাত্রশক্তি আসলে যে সময়টা পার করেছে, এটা খুব একটা বড় সময় না। কিন্তু মাত্র এক থেকে দেড় বছরের মাথায় প্রায় ৬০ জেলাতে কমিটি হয়ে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমাদের কমিটি আছে। আমি মনে করি যে এটা আমাদের সফলতা, আমাদের সংগঠনের সফলতা— শ্যামলী সুলতানা জেদনী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক

কেন্দ্রীয় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী তাহমীদ আল মুদাসসীর চৌধুরী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমরা এর মধ্য দিয়ে একটা ডেমোক্রেটিক প্রসেসে প্রবেশ করছি। এর মাধ্যমে লিডারশিপ আসতে যাচ্ছে, যা বর্তমান ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে খুব একটা দেখা যায় না। এটাকে আমরা খুবই পজিটিভলি দেখছি যে আমাদের সংগঠনের নেতাকর্মীরাই তারা তাদের নেতৃত্বকে নির্বাচন করবে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে ছাত্রশক্তি যথেষ্ট ভূমিকা রেখেছে বলে দাবি তাহমীদের। বলছেন, এনসিপিকে এখনও মানুষ ‘ছাত্রদের দল’ হিসেবে বিবেচনা করায় সংগঠনটি যথোপযুক্ত মূল্যায়ন পায়নি। তিনি বলেন, ছাত্রদের দল হিসেবে মানে মানুষ আসলে এনসিপিকে কনসিডার করে। যার কারণে আসলে ছাত্রশক্তির প্রোপার ব্র্যান্ডিংটা হয়নি। এ ছাড়া ছাত্র সংসদের সময়টাতে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ মোটামুটি সবার মুখে মুখে চলে গেলেও এরপর যখন নাম পরিবর্তন করা হয়, তার কারণে পুনরায় পরিচিত হতে একটু সময় লেগেছে।

আরও পড়ুন: দল থেকে ছিটকে পড়ার পর এই প্রথম স্ট্যাটাস আব্দুল কাদেরের

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ আমাদের যে কেন্দ্রীয় কমিটি, সেখানে আমাদের কার্যক্রম ছিল, কর্মসূচি ছিল। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদ, গুমের বিরুদ্ধে, সাংবাদিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমাদের কর্মসূচি ছিল। এসবের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে আমাদের একটা গ্রহণযোগ্যতা আমরা  তৈরি করতে পেরেছি। একই সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরণের প্রোগ্রাম আয়োজন করেছিলাম, যেমন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রোগ্রাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ, যেগুলোর মাধ্যমে ছাত্রশক্তির একটা নতুন ধরনের ব্র্যান্ডিং হচ্ছে। আশা করছি সময়ের সাথে সাথে কম পরিচিতির বিষয়টি ঠিক হয়ে যাবে এবং যখন তৃণমূলের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন হবে, সংগঠনের নতুন অগ্রযাত্রাটাও ভালোভাবে হবে। আশা করছি কাউন্সিলররা সঠিক নেতৃত্বকেই নির্বাচন করবে এবং এর মাধ্যমে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।

সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রার্থী শ্যামলী সুলতানা জেদনী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, যেকোনো দলেরই বড় হতে সময় লাগে, সময় দিতে হয়। ছাত্রশক্তি আসলে যে সময়টা পার করেছে, এটা খুব একটা বড় সময় না। কিন্তু মাত্র এক থেকে দেড় বছরের মাথায় প্রায় ৬০ জেলাতে কমিটি হয়ে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমাদের কমিটি আছে। আমি মনে করি যে এটা আমাদের সফলতা, আমাদের সংগঠনের সফলতা। কারণ এত কম সময়ে সবাইকে রিচ করতে পারা, আমাদের বোঝাপড়াটা বিভিন্ন জেলার শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারা এবং তারাও এটাকে অ্যাকসেপ্ট করে নেয়— এটা আমাদের সংগঠনের একটা প্রাপ্তি। আর আমরা আশা করি যে সংগঠন যত দিন যাবে সংগঠন বড় হবে।

বিগত সময়ে ভূমিকার কারণে নিজেকে নিয়ে আশাবাদী একমাত্র নারী প্রার্থী জেদনী। বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, তারপর বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ, তারপর জাতীয় ছাত্রশক্তি— এই তিনটা সংগঠনেই আমি সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছি। আমার পক্ষে ইউনিটগুলোতে যতটুকু কানেক্টেড থাকা সম্ভব হয়েছে, যতটুকু দায়িত্বশীল আচরণ করা সম্ভব হয়েছে, এগুলো আমি করেছি। এছাড়াও ঢাকা বিভাগের বাইরেও বিভিন্ন যে বিভাগগুলো আছে, সেখানেও আমার যোগাযোগ ছিল। তাছাড়া যেহেতু আমি নিজেও গণঅভ্যুত্থানের একটা অংশ ছিলাম, ফলে গণঅভ্যুত্থানের কারণেও দেশের বিভিন্ন জায়গায় আমার কানেকশন ছিল। সেই জায়গা থেকে আমার কাছে মনে হয় যে আমার ফলাফল ভালো হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোহাম্মদ সাকিব দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন আমরা শুরু করেছিলাম। একইভাবে আমরা এই এক বছর পূর্ণ হওয়ার পরে ডাকসুর সমালোচনার পাশাপাশি আগামীবারও যাতে ডাকসুটা যথা সময়ে হয়, সেটার জন্য আমরা আন্দোলন করব, দাবি তুলব। একই সাথে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে, শিক্ষার্থীদের অধিকারের প্রশ্নে আমরা সবসময় আপসহীন ছিলাম, আমরা সবসময় প্রশাসনের বিরুদ্ধে, প্রশাসনের হয়রানির বিরুদ্ধে, প্রশাসন কর্তৃক কোনো শিক্ষার্থীকে নিপীড়নের বিরুদ্ধে আমরা সবসময় ছিলাম, আছি এবং থাকব।

তিনি বলেন, আমরা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা হওয়া একটা ছাত্র সংগঠন, যেটা আসলে কারো অঙ্গ সংগঠন না। সহযোগী সংগঠন হিসেবে আমরা অবশ্যই এনসিপির বুদ্ধি-পরামর্শগুলো নিই, তাদের অভিজ্ঞতাগুলো নিই। শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে, তাদের পড়াশোনা এবং আর্থ-সামাজিক সবকিছুর উন্নয়নে আমরা কাজ করতে চাই।