অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে হোম ইকোনমিক্স কলেজে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, কক্ষে তালা
অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীর হোম ইকোনমিক্স কলেজে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে অধ্যক্ষের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নেন তারা। অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মেহরুন্নেসার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, শিক্ষার্থীদের হয়রানি, আবাসিক হলের নিরাপত্তায় অবহেলা, অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়াসহ নানা অভিযোগ তুলেছেন আন্দোলনকারীরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অধ্যক্ষের কাছে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে গেলেও সেগুলোর সমাধান পাননি তারা। প্রায় দেড় মাস ধরে আলোচনা করে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় এবার অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন। তাদের দাবি, অধ্যক্ষ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে অযৌক্তিকভাবে অর্থ দাবি করেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কলেজের আবাসিক হলের পাশেই অধ্যক্ষের বাসভবন। সেখানে বহিরাগতদের ভাড়া দেওয়ায় ছাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। বিষয়টি অধ্যক্ষকে জানানো হলেও তিনি কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি। এ ছাড়া হলের নিরাপত্তাব্যবস্থা, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং প্রবেশের সময়সীমা নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে তাঁদের।
শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, হলের খাবারের মান নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ জানালেও কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয়নি। একবার হলের খাবার খেয়ে একসঙ্গে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লেও এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং খাবার পছন্দ না হলে না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।
আন্দোলনকারীদের আরেকটি অভিযোগ, সম্প্রতি আয়োজিত হল পার্টির জন্য অধ্যক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। তবে সাউন্ড সিস্টেমসহ কিছু সমস্যার কারণে অনুষ্ঠান শুরু ও শেষ করতে দেরি হয়। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত প্রায় চার ঘণ্টা অডিটোরিয়াম ব্যবহার করায় দুই শিক্ষার্থীর কাছে বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করেন অধ্যক্ষ। শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, মাত্র চার-পাঁচ ঘণ্টার বিদ্যুৎ বিল হিসেবে এ পরিমাণ অর্থ দাবি কতটা যৌক্তিক।
আরও পড়ুন: এইচএসসির সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি, ব্যাখ্যা দিল আন্তঃশিক্ষা বোর্ড
তারা আরও বলেন, এর আগে দুই জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীর হলের আসন বাতিল করা হয়েছে এবং ছাত্রত্ব বাতিলের হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ জানাতে গেলে শিক্ষার্থীদের বিভাগ, রোল নম্বরসহ ব্যক্তিগত তথ্য জানতে চাওয়া হয়। পরে বিভাগ থেকে তাদের হয়রানি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।
শিক্ষার্থীদের বলেন, হলের ফি বাড়ানো হলেও নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নতি হয়নি। তাদের অভিযোগ, নিরাপত্তার কথা বলে হলের গেট বন্ধ রাখা হয়, অথচ রাতের বেলায় বাইরে থেকে হলে প্রবেশের প্রয়োজন হলে শিক্ষক গেট ব্যবহার করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের অপমানজনক পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। হলের অর্থ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেই নেওয়া হলে সেই অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে, তারও জবাব চান তারা। এসব অভিযোগ নিয়ে একাধিকবার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইলেও সমাধান হয়নি। তাই এখন তাদের এক দফা দাবি অধ্যক্ষের পদত্যাগ। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।