পুরোনো কারিকুলামেই পাঠদান, চূড়ান্ত হয়নি সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অ্যাকাডেমিক রোডম্যাপ
শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজধানীর সরকারি সাতটি কলেজ নিয়ে গঠিত হয় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি। শুরু থেকেই নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন পাঠ্যক্রম প্রণয়নের কথা থাকলেও এখনো অ্যাকাডেমিক কারিকুলামের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফলে পুরোনো কারিকুলামেই চলছে পাঠদান। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষ।
দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ছিল, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সেশনজট নিরসন, নিয়মিত পরীক্ষা গ্রহণ এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের ফলে মানসম্মত শিক্ষা, যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম, গবেষণার সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হবে বলেও আশা করেছিলেন তারা। তবে এখন পর্যন্ত এসব প্রত্যাশার প্রতিফলন না ঘটায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
আমাদের এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কোনো সেটআপ নেই। আমরা সবকিছু কিছুটা সাজিয়ে ও গুছিয়ে নেওয়ার পর কারিকুলাম নিয়ে কাজ শুরু করব। তবে কারিকুলামে পরিবর্তন আনার আগে পিছিয়ে পড়া অ্যাকাডেমিক সেশনগুলো এগিয়ে নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে দেওয়াকে আমরা অগ্রাধিকার দেব—অধ্যাপক লুৎফুর রহমান, উপাচার্য ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি
ঢাকা কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সিজন সরদার দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা ছিল, ক্যাম্পাসে ভর্তির শুরু থেকেই সেমিস্টার পদ্ধতি এবং ইংরেজি ভার্সনে আধুনিক কারিকুলামে পাঠদান চালু থাকবে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই বলা হচ্ছে, এসব চালু করতে সময় লাগবে। এভাবে দেরি হতে থাকলে আমাদের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষও পুরোনো পদ্ধতিতে চলে যাবে। এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনার্স পর্যায়ে এসেও যদি আমরা বাংলায় ক্লাস করি, বাংলায় বই পড়ি এবং বাংলায় পরীক্ষা দিই, তাহলে অন্যদের তুলনায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভবিষ্যতে চাকরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইংরেজির প্রয়োজন হবে। তাই সবার আগে ইংরেজি ভার্সনে পাঠদান চালু করা জরুরি। এর মাধ্যমে আমরা বর্তমান সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে পারব।’
একই শিক্ষাবর্ষের আরেক শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত হিমেল বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও এর শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনেকাংশেই নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো এবং পাঠদান পদ্ধতির ওপর। আমাদের কাছে প্রতিশ্রুতি ছিল, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে স্কুলিং সিস্টেম, ইংরেজি ভার্সনে পাঠদান, নতুন কারিকুলাম, সিলেবাস ও বইয়ের তালিকা এবং সেমিস্টার পদ্ধতি চালু করা হবে। এসব ব্যবস্থা একজন শিক্ষার্থীকে দক্ষ করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু কার্যকর ও আধুনিক এসব পদ্ধতি কেন বা কারা বাস্তবায়ন করছেন না, তা নিয়ে আমরা শিক্ষার্থীরা বেশ উদ্বিগ্ন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দক্ষ নাগরিক গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা হলে সেই লক্ষ্য অর্জনের প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হবে।’
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফুর রহমান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমাদের এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কোনো সেটআপ নেই। আমরা সবকিছু কিছুটা সাজিয়ে ও গুছিয়ে নেওয়ার পর কারিকুলাম নিয়ে কাজ শুরু করব। তবে কারিকুলামে পরিবর্তন আনার আগে পিছিয়ে পড়া অ্যাকাডেমিক সেশনগুলো এগিয়ে নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে দেওয়াকে আমরা অগ্রাধিকার দেব। ভবিষ্যতে কারিকুলামে কী ধরনের পরিবর্তন আনা যায়, তা নিয়ে আমি ভাবব, ইনশাআল্লাহ। যথাসময়েই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
অ্যাকাডেমিক কারিকুলামের রোডম্যাপ প্রকাশের নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বলতে পারছি না। এই মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরু করা এবং তাদের পড়াশোনায় মনোযোগী করে তোলাই আমার কাছে সবচেয়ে জরুরি বিষয়।’