ছাত্রী প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় উত্তেজনা, সংঘর্ষে জড়ালেন ববির দুই বিভাগের শিক্ষার্থীরা
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) এক ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব ও উত্ত্যক্তের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইংরেজি ও অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাত ৯টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলা এ সংঘর্ষে দুই বিভাগের অন্তত ১০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ সময় আহত শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে মারধর এবং চালককেও মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে, ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের মুসা নামের এক শিক্ষার্থী অর্থনীতি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের এক নারী শিক্ষার্থীকে নবীনবরনের দিন প্রেমের প্রস্তাব দেন। পরবর্তী সময়ে ওই প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় ওই নারী শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ উঠে মুসার বিরুদ্ধে। বিষয়টি ১৫তম ব্যাচের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের সিনিয়রদের জানালে তারা মুসাকে ভিসি গেটের বিপরীতে অবরুদ্ধ করেন। এ সময় সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পরে ইংরেজি বিভাগের মুসা নামের ওই শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা ঘটে। মারধরে তার মুখ দিয়ে রক্ত পড়তে দেখা যায়, এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। হাতাহাতি রাত ১০টার দিকে একবার থামলেও পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে আবারও হাতাহাতি হয়। এ সময় একটি বিভাগ অবস্থান নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের ভেতরে, আরেকটি বিভাগ গেটের বাইরে রাস্তায়। দুই পক্ষই একে অপরের দিকে ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত হয়েও শিক্ষার্থীদের থামাতে পারছিলেন না। আধা ঘণ্টা সময় ধরে চলে ১১টার দিকে থামে সংঘর্ষ।
আরও পড়ুন: আওয়ামী আমলের নীতিমালাই বহাল, ফেসবুকে মতপ্রকাশ নিয়ে অস্বস্তিতে শিক্ষকরা
এ বিষয়ে অর্থনীতি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবদুল আজিজ বলেন, ‘আমাদের বিভাগের জুনিয়র এক মেয়েকে র্যাগিংয়ের কায়দায় উত্ত্যক্ত করে প্রেমের প্রস্তাব দেয় ইংরেজি বিভাগের মুসা। মেয়ে রাজি ন হওয়ায় আটকে রাখে মুসা বিষয়টি জানতে পেরে সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষার্থীরা আজকে ভিসি গেটের বিপরীতে জড়ো হন। একপর্যায়ে ইংরেজি বিভাগের ১৩তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী আকস্মিকভাবে হাত চালালে হাতাহাতির সূত্রপাত হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।’
সংঘর্ষ থামিয়ে দেওয়ার পর অ্যাম্বুলেন্সে করে আহত শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে ইংরেজি বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী হামলা করেন। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীসহ ইংরেজি বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী।
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেছি। দুই বিভাগের শিক্ষার্থী উত্তেজিত ছিল।’ মারধরে অংশ নেওয়ার ঘটনাটি মিথ্যা দাবি করেন তিনি।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছাত্রদল সিনিয়র সহসভাপতি মো. আশিক বলেন, ‘আমরা মারামারি ঠেকাতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছি। কেউ কাউকে মানতে চায় না। সবাই উত্তেজিত, দুই বিভাগই ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি করেছে আমার শরীরে দুই টুকরো ইট আঘাত হেনেছে।’
আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের
অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে মারধরের ঘটনার পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ঘটনাস্থলে এলে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন। এ সময় প্রক্টরকে বলতে শোনা যায়, ‘সবার বিচারের আওতায় আনা হবে।’ তখন এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘কী বিচার হবে স্যার ‘ প্রক্টর বলেন, ‘বিধিমোতাবেক বিচার করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সারারাত ক্যাম্পাসে উপস্থিত ছিলাম দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিভৃত করার চেষ্টা করেছি। বিষয়টি নিয়ে আজকে আমরা প্রক্টরিয়াল টিম বসব, কেন বারবার শিক্ষার্থীরা এমন সংঘাতে জড়াচ্ছে এবং তার সমাধান খুঁজে বের করার জন্য।’