দাবিতে অনড় খুবির শিক্ষার্থীরা, পরীক্ষা-ফলাফলে অনিশ্চয়তার মধ্যেও ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্ত
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ভবনের তালা খুলে দিয়েছেন। তবে তিন দফা দাবি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। ফলে কিছু শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন।
এর আগে, বুধবার (২২ জুলাই) রাতে বিজয়–২৪ হলে নারী ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল ফোন দিয়ে ভিডিও ধারণের সময় এক ক্যান্টিন কর্মীকে হাতেনাতে আটক করেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনার প্রতিবাদে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ তিন দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি ঘোষণা আশে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে।
এদিকে আন্দোলনের প্রভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হওয়ায় বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি স্কুলের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের টার্ম ফাইনালের কয়েকটি পরীক্ষা এখনো অনুষ্ঠিত হয়নি। একই সঙ্গে বিভিন্ন বর্ষের ফল প্রকাশও বিলম্বিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নাঈমুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমাদের টার্ম ফাইনালের কয়েকটি পরীক্ষা এখনো বাকি রয়েছে। আন্দোলনের কারণে সেগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। ফলে পরীক্ষা কবে হবে, সেশন কীভাবে এগোবে এসব বিষয় নিয়ে আমাদের মধ্যে মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দ্রুত স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরতে চাই, তবে আমাদের সহপাঠী বোনদের নিরাপত্তার বিষয়টি সবার আগে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।’
আরও পড়ুন: শিক্ষা ক্যাডারের বদলিতে আসছে বড় পরিবর্তন, ক্ষমতা পাচ্ছে মাউশিও
দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাইমুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের টার্ম ফাইনালের পরীক্ষা অনেক আগেই শেষ হয়েছে, কিন্তু এখনো ফল প্রকাশ হয়নি। ফলে পরবর্তী একাডেমিক কার্যক্রমও শুরু করা যাচ্ছে না। এতে স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মধ্যে উদ্বেগ কাজ করছে। তবে নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্ত থেকে আমরা সরে আসছি না।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি দেখছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে একাধিক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেসব সভায় শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের, তদন্ত কমিটি গঠন, সংশ্লিষ্ট ক্যান্টিনের বরাদ্দ বাতিল, ছাত্রী হলে কর্মচারীদের মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধ, ক্যান্টিন পরিচালনায় নতুন নীতিমালা প্রণয়ন এবং ভবিষ্যতে ওই দুই ছাত্রী হলে কোনো পুরুষ কর্মী নিয়োগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় এবং ছাত্রী হলের ওয়াশরুমের ভেন্টিলেটার আরও নিরাপদ করার উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে। ভেন্টিলেটারে নন-ট্রান্সপারেন্ট (অস্বচ্ছ) গ্লাস স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার কোনো সুযোগ না থাকে। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা হলে নিরাপদ ও স্বস্তিকর পরিবেশে বসবাস করুক।’