পরীক্ষার পড়ায় ব্যাঘাত, শব্দ কমাতে বলতেই জবি ছাত্রীর ওপর হামলা
পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় উচ্চ শব্দে মাইক বাজানোর প্রতিবাদ করায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আয়শা আফরিনের ওপর হামলা ও কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। হামলার পরও থেমে না থেকে অভিযুক্তরা তার পরিবারকে প্রাণনাশ ও বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতাই ভুগছে বলে জানিয়েছেন।
রোববার (৫ জুলাই) রাতে ৯ টার দিকে হামলার এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আয়শা আফরিন জানান, তার সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা চলছিল। এ সময় তাদের বাসার সামনে একটি মাজার শরিফের নামে চাঁদা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে উচ্চ শব্দে মাইক বাজানো হচ্ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ শব্দ চলতে থাকায় পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। তিনি অত্যন্ত ভদ্রভাবে মাইকের শব্দ কমিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন।
তবে তার এ অনুরোধে ক্ষিপ্ত হয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করার চেষ্টা করেন। এ সময় শাহ আলম ও তার ছেলে অপুসহ কয়েকজন তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আয়শা আফরিনের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়িভাবে চড়-থাপ্পড় ও মারধর করেন। একপর্যায়ে তার কাপড় টানাটানি করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথা ও চোখ লক্ষ্য করে কোপ দেওয়া হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন।
তিনি বলেন, ‘আমি শুধু শব্দটা একটু কমাতে বলেছিলাম। একটি যৌক্তিক ও সাধারণ অনুরোধের কারণে আমার ওপর যেভাবে হামলা চালানো হয়েছে, তা আমি কখনো কল্পনাও করিনি। মাথা ও চোখ লক্ষ্য করে কোপ দেওয়ার সেই মুহূর্তগুলো এখনো আমাকে আতঙ্কিত করে। আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।’
আরও পড়ুন: পে স্কেলে সব গ্রেডে বেতন একই হারে বাড়ছে না, গেজেট নিয়ে যে আলোচনা হলো
আয়শা বলেন, ‘নিজের এলাকায়, নিজের পরিচিত পরিবেশে থেকেও আজ আমি নিরাপদ নই। একজন শিক্ষার্থী ও একজন নারী হিসেবে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
হামলার পরও অভিযুক্তরা থেমে থাকেনি বলে অভিযোগ করেন এই শিক্ষার্থী। তার দাবি, ঘটনার পর হামলাকারীরা তাদের বাসার সামনে এসে প্রকাশ্যে হুমকি দেন। তারা থানায় অভিযোগ বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আরও বড় ক্ষতি করার হুমকি দেন। এমনকি তাদের বাসা ও দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার কথাও বলে যায়।
ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর থেকে পুরো পরিবার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে আয়শার বাবা-মা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। পরিবারের দাবি, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের তারা শনাক্ত করেছেন এবং তাদের ছবি সংগ্রহ করেছেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এ ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: সিট ভাগাভাগি করল ছাত্রদল-ছাত্রশক্তি-ইশা-ছাত্র অধিকার, বাড়তি ছাত্রদের ৩৯ লাখ টাকা কার পকেটে?
এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহ আলম, অপুসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।