১৩ মে ২০২৬, ১৮:৩৭

যে উপাচার্যের প্রশাসন নেই

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও উপাচার্য অধ্যাপক তৌফিক আলম  © ফাইল ফটো

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে চলমান আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে গত ১০ মে প্রশাসনিক পদগুলো থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজ। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সিন্ডিকেট সদস্য ও প্রক্টরসহ তিনজন পদত্যাগ করেছেন।

বাকি প্রশাসনিক পদগুলোতে পদত্যাগের কথা শোনা গেলেও পদত্যাগপত্র এখনো উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার দপ্তরে পৌঁছায়নি। তবে দাবি না আদায় হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রশাসনিক কোনো কাজ বা সহযোগিতা দিচ্ছেন না উপাচার্য অধ্যাপক তৌফিক আলমকে। এতে কার্যত প্রশাসনিকভাবে শূন্য হয়ে পড়েছেন উপাচার্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পদত্যাগের বিষয়ে একজন চেয়ারম্যান বলেন, আমরা অনেকেই পদত্যাগ করছি, কিন্তু তা এখনো জমা দেওয়া হয়নি। এখনো কিছু শিক্ষকের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা বাকি, তাই পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া হয়নি। আমরা শিক্ষকরা পদত্যাগের জন্য সবাই একটি পত্রে স্বাক্ষর করে পরে সেটি জমা দেবো।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টি অ্যাকাডেমিক শাটডাউনসহ রেজিস্ট্রার কার্যালয় এবং প্রশাসনিক দপ্তরগুলোতে তালা ঝুলানো অবস্থায় রয়েছে। শিক্ষকদের ২১ এপ্রিলের কর্মবিরতি থেকে ২২ এপ্রিল টানা ১০ দিনের কমপ্লিট শাটডাউন এবং ২৮ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা থেকে ১০ মে দ্বিতীয়বারের মতো অ্যাকাডেমিক শাটডাউন ঘোষণায় বিশ্ববিদ্যালয়টি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির এই অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে দীর্ঘমেয়াদী চরম সংকটে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আরও পড়ুন: চলমান শাটডাউনে পরীক্ষা অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীরা, সেশনজটের শঙ্কা

২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হামিম নিশান বলেন, ‘এমনিতেই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক বিভাগে কমবেশি সেশনজট রয়েছে। শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে আমাদের সেশনজট আরও বাড়ছে। অনেক বিভাগে পরীক্ষা চলমান থাকলেও আন্দোলনের কারণে তা স্থগিত রয়েছে। আমরা জানি না কবে পরীক্ষা শুরু হবে। আমরা শিক্ষার্থীরা চরম হতাশায় আছি, আমাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।’

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল ফুটবল টিমের প্রতিপক্ষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলা ছিল। তবে শাটডাউনের কারণে রেজিস্ট্রার ও শারীরিক শিক্ষা দপ্তরে সিল না নেওয়ায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় দলটি অংশ নিতে পারেনি।

এ বিষয়ে সেন্ট্রাল টিমের মিডফিল্ডার কাজী সালমান বলেন, ‘রেজিস্ট্রার অফিস এবং শারীরিক শিক্ষা দপ্তরে শাটডাউনের কারণে তালা থাকায় আমরা আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে খেলতে পারিনি। সিল না পাওয়ায় আমাদের অংশগ্রহণ সম্ভব হয়নি।’

শিক্ষার্থী হাসিবুল হোসেন বলেন, ‘শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে আমাদের ক্লাস-পরীক্ষার পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা খুবই হতাশ। পূর্বের সেশনজট এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয়, এখন নতুন করে দীর্ঘমেয়াদি জট তৈরি হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা এর অবসান চায়। শিক্ষকদের কাছে আমাদের অনুরোধ, তারা যেন অন্তত পরীক্ষা চালু রেখে অন্য কোনো আন্দোলনের পথ বের করেন।’

উপাচার্য অধ্যাপক তৌফিক আলম বলেন, ‘আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো আজ খুলতে চেয়েছিলাম। তবে বিকেল তিনটায় চেয়ারম্যান ও ডিনদের সঙ্গে সভা করার জন্য একটি বার্তা পাঠাচ্ছি। যদি কোনো সমাধান না আসে, তাহলে আগামীকাল ১১টার দিকে তালা ভেঙে কার্যালয়গুলো চালু করবো এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো।’

অন্য একটি সূত্রে জানা গেছে, উপাচার্যের সঙ্গে বসতে চান না শিক্ষক সমাজ। তারা উপাচার্যকে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোরও প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।