অ্যাডভোকেট হলেন মেরিটাইম ল’ বিভাগের প্রথম ব্যাচের ৭ শিক্ষার্থী
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির মেরিটাইম ল’ (সমুদ্র আইন) বিভাগের প্রথম ব্যাচের সাতজন শিক্ষার্থী। রবিবার (১৫ মার্চ) প্রকাশিত বার কাউন্সিলের ফলাফলে এমন তথ্য জানা গেছে। উত্তীর্ণরা সবাই বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির মেরিটাইম ল’ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
অ্যাডভোকেটশিপ অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা হলেন- আনিকা আশরাফ প্রতীতি, রাফি উল ওসমান, ফাহাদ আহমেদ, তাজওয়ার বিন মালেক অর্ণব, মো. ইরফানুল খলিলুল্লাহ, সুমাইয়া তামান্না এবং ইশতিয়াক আহমেদ দিহান।
বার কাউন্সিলের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, উত্তীর্ণ প্রার্থীরা দেশের সর্বোচ্চ আদালত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অধীনস্থ যেকোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা রাজস্ব কর্তৃপক্ষের অধীনে আইন পেশা পরিচালনার জন্য আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। আইন পেশা শুরু করতে তাঁদের ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচিত কোনো বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ গ্রহণ করতে হবে।
উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাফি উল ওসমান বলেন, ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ইচ্ছা, আমার মায়ের দোয়া ও পরিবারের সমর্থনে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। আমার শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ, যারা আমার আইনবোধ গড়ে তুলেছেন। একজন আইনজীবী হিসেবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাকে আমি আমার দায়িত্ব মনে করি।’
আনিকা আশরাফ প্রতীতি বলেন, ‘সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য। একজন অ্যাডভোকেট হওয়া প্রতিটি আইন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন। এই দীর্ঘ পথচলায় আমার শিক্ষক, বাবা-মা ও জীবনসঙ্গীর সমর্থনের জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’
একই ধরনের কথা বলেন মো. ইরফানুল খলিলুল্লাহ। তার ভাষ্য, ‘মহান আল্লাহর অসীম রহমতে জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকে পৌঁছাতে পেরেছি। বাবা-মা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থন এই দীর্ঘ যাত্রায় আমাকে সব সময় শক্তি ও প্রেরণা দিয়েছে।’
আরও পড়ুন: বুটেক্স থেকে আইকিয়ার সুইডেন অফিসে খন্দকার নাফিস
মেরিটাইম ল’ বিভাগটি চালুর পর প্রথমবারের মতো বার কাউন্সিলের পরীক্ষায় এ সাফল্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিভাগের শিক্ষক আবু জাফর তৌফিক আহমেদ আহাদ বলেন, ‘বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আমাদের শিক্ষার্থীদের এই অর্জন সত্যিই প্রশংসনীয়।’
তিনি বলেন, ‘এবার মেরিটাইম ল’ বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা অ্যাডভোকেটশিপ পরীক্ষায় অংশ নেন এবং তাঁদের সাতজন উত্তীর্ণ হয়ে অ্যাডভোকেটশিপ অর্জন করেছেন। এটি আমাদের বিভাগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। আমরা আশা করি, তাঁরা ভবিষ্যতে আইন পেশায় আরও ভালো করবেন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।’
বাংলদেশে একমাত্র মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতেই এই সামুদ্রিক আইন বিষয়ে পড়ানো হয়। নতুন বিভাগ হওয়া সত্ত্বেও প্রথম ব্যাচ থেকেই এ সাফল্য বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির মেরিটাইম ল’ (সমুদ্র আইন) বিভাগের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ সূচনা হিসেবে দেখছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই।