সহকর্মী কিংবা বন্ধু, কারও সঙ্গেই এই ৫ কথা শেয়ার করবেন না
প্রতিটি মানুষের জীবনে কমবেশি ভালো বন্ধু বা কর্মক্ষেত্রে ভালো সহকর্মী তৈরি হয়। আমরা আমাদের জীবনের অনেক দুঃখ-কষ্ট বন্ধু কিংবা কাছের মানুষের সঙ্গে শেয়ার করে কিছুটা শান্তি পাই। তবে সম্পর্ক যতই ঘনিষ্ঠ হোক, এমন কিছু ব্যক্তিগত বিষয় আছে, যেগুলো সবার সঙ্গে শেয়ার করা সবসময় বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্য ছড়িয়ে পড়লে কখনো কখনো তা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তাই সহকর্মী কিংবা বন্ধুর সঙ্গে ভালো-মন্দ শেয়ার করলেও কিছু কথা একান্ত নিজের মধ্যে রাখা ভালো।
১. নিজের বেতন ও আর্থিক অবস্থা
নিজের বেতন, আয় কিংবা ব্যক্তিগত আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে অন্যের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা না করাই ভালো। একই কর্মস্থলে কে কত বেতন পান, কার বেতন কত বেড়েছে- এ ধরনের আলোচনা অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় তুলনা বা ভুল বোঝাবুঝির জন্ম দিতে পারে।
বেতন নিয়ে আলোচনা করা যাবে কি না, সেটি ব্যক্তির পছন্দ, কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ ও সংশ্লিষ্ট নিয়মের ওপরও নির্ভর করে। তাই বিষয়টি একেবারে নিষিদ্ধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কিন্তু যতটা সম্ভব এটি এড়িয়ে চলুন।
২. নিজের দুর্বলতা
প্রত্যেক মানুষেরই কিছু সীমাবদ্ধতা বা দুর্বলতা থাকে। তবে কর্মক্ষেত্রে নিজের কোন বিষয়ে আত্মবিশ্বাস কম কিংবা কোন পরিস্থিতিতে আপনি অস্বস্তিতে পড়েন, এসব তথ্য সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বিশ্বস্ত কাউকে প্রয়োজন অনুযায়ী বলা যেতে পারে। কিন্তু ব্যক্তিগত দুর্বলতার বিষয়টি অপ্রয়োজনে ছড়িয়ে পড়লে পরবর্তী সময়ে তা আপনার জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে।
৩. অন্য সহকর্মী বা বসকে নিয়ে অভিযোগ
কোনো সহকর্মীর আচরণ ভালো না লাগা কিংবা বসের কোনো সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে সেই ক্ষোভ অন্য সহকর্মীর কাছে বা বন্ধুর সঙ্গে আলোচনা করার সময় সতর্ক থাকা দরকার।
ব্যক্তিগত আলাপ সবসময় ব্যক্তিগত থাকে না। আপনি যাকে বিশ্বাস করে কোনো কথা বলছেন, সেটি পরে অন্য কারও কাছে পৌঁছে যেতে পারে। এতে কর্মক্ষেত্রে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি নিজের পেশাগত ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
৪. ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যা
সুখ-দুঃখ মিলিয়েই মানুষের জীবন। এতে পারিবারিক অশান্তি, সম্পর্কের সমস্যা কিংবা ব্যক্তিগত কোনো সংকটের কথা কাছের মানুষকে বলতে ইচ্ছা করতেই পারে। তবে সব তথ্য সহকর্মী বা বন্ধুর সঙ্গে সবকিছু ভাগ করে নেওয়া জরুরি নয়।
বিশেষ করে এমন কোনো বিষয়, যা অন্য কেউ জানলে আপনি লজ্জায় পড়তে পারেন, তা শেয়ার করার আগে ভালোভাবে ভেবে দেখা উচিত। কারণ সময়ের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ বদলে যেতে পারে।
আরও পড়ুন: ১৯তম বিজেএসের কার্যক্রম শুরু অক্টোবরে
৫. চাকরি পরিবর্তনের পরিকল্পনা
আপনি যেখানে চাকরি করছেন সেখান থেকে অন্য কোথাও চাকরির চেষ্টা করছেন, ইন্টারভিউ দিচ্ছেন এমন তথ্য নতুন চাকরি নিশ্চিত হওয়ার আগেই এসব কথা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন।
আপনি হয়তো বিষয়টি শুধু একজন ঘনিষ্ঠ সহকর্মী বা বন্ধুকে জানিয়েছেন। কিন্তু সেই তথ্য অন্যদের কাছে পৌঁছাতে বেশি সময় নাও লাগতে পারে। এতে নতুন চাকরি নিশ্চিত হওয়ার আগেই বর্তমান কর্মস্থলে অপ্রয়োজনীয় চাপ, প্রশ্ন বা ভুল বোঝাবুঝির তৈরি হতে পারে।
ঘনিষ্ঠতা থাকলেও সীমারেখা জরুরি
সহকর্মীর সঙ্গে বন্ধুত্ব হওয়া কিংবা বন্ধুর সঙ্গে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলা স্বাভাবিক। তবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক মানেই নিজের সব তথ্য প্রকাশ করা নয়। ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের মধ্যে একটি সুস্থ সীমারেখা রাখলে সম্পর্কও ভালো থাকে, আবার অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকিও এড়ানো যায়।
তাই কোনো ব্যক্তিগত কথা শেয়ার করার আগে একবার ভেবে দেখা ভালো এই তথ্যটি যদি পরে অন্য কেউ জেনে যায়, তাতে নিজের কোনো সমস্যা হবে কি না। উত্তর যদি ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে বিষয়টি নিজের মধ্যেই রাখাই নিরাপদ। (সূত্র: এই সময়)