প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষকের প্রশিক্ষণ শুরু কবে, সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ের সোমবারের সভায়
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষকের যোগদান শুরু হবে আগামী ১ অক্টোবর। পরে ৪ অক্টোবর থেকে তাদের পদায়ন শুরু হবে। তবে পদায়নের পর দুই মাসের বিশেষ পেশাগত প্রশিক্ষণ কবে থেকে শুরু হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নতুন শিক্ষকদের প্রশিক্ষণসহ সার্বিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর সভা ডেকেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহ্মদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমরা শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরি করেছি। তবে এটি চূড়ান্ত করবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। চূড়ান্ত হলেই সে অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ণ শুরু হবে।’ প্রশিক্ষণ শুরুর তারিখ এখনো মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করেনি। দুই মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সময় নির্ধারণ করা হবে বলেও তিনি জানান।
নেপ মহাপরিচালক বলেন, ‘প্রশিক্ষণ কবে থেকে শুরু হবে, সেই ডেট এখনো মন্ত্রণালয় দেয়নি। যেহেতু দুই মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, সে অনুযায়ী মডিউল ফাইনাল করতে হবে। এসব বিষয় নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এই মাসের ৭ তারিখে একটি মিটিং ডেকেছে। প্রশিক্ষণ নিয়ে মডিউলটি ফাইনাল করতে পারে। এছাড়া অন্য স্টেকহোল্ডাররাও থাকবেন। তাই অন্যান্য বিষয় নিয়েও আলোচনা হতে পারে।’
প্রশিক্ষণের তারিখ এখনো নির্ধারিত না হলেও ১৪ হাজার ৩৮৪ শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)। একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো অবকাঠামো রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে ডাবল শিফটে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হবে।’ তবে প্রশিক্ষণটি আবাসিক নাকি অনাবাসিক হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানান নেপ মহাপরিচালক।
এদিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘পদায়নের পর নতুন শিক্ষকদের দুই মাসের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রশিক্ষণ শুরুর দিন এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রশিক্ষণ চাকরির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পদায়ন হলে সঙ্গে সঙ্গে তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হবে। দুই মাস প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি স্কুলে ক্লাস নিতে পারবেন। তবে প্রশিক্ষণ কবে থেকে শুরু হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। আমরা চেষ্টা করছি পদায়নের দিন থেকেই হয়তো প্রশিক্ষণ শুরু করা যায় কি না।’
আরও খবর: সরকারের ৬ মাসে শিক্ষা খাতে ৮ বিতর্ক, ১০ বড় পরিকল্পনা
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশনের এক কর্মকর্তা জানান, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের প্রশিক্ষণটি নিয়মিত প্রশিক্ষণের মতো নয়। এটি বিশেষ দুই মাসের প্রশিক্ষণ হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা নিয়োগ এবং পদায়ন নিয়ে কাজ করি। আগামী ১ অক্টোবর যোগদান, ৪ অক্টোবর পদায়ন। তারপর প্রশিক্ষণের সময়টা এখনো ঠিক হয়নি। এটা একটা স্পেশাল ট্রেনিং। এটা আমাদের রেগুলার ট্রেনিং না। কারণ রেগুলার ট্রেনিং ১০ মাসের বেশি। এটা যেহেতু নতুন শিক্ষকদের জন্য, তাই বিশেষ দুই মাসের প্রশিক্ষণ।’
প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ হতে না পারলে নতুন শিক্ষকদের নিয়োগ বাতিল হবে কি না, সে বিষয়েও এখনো স্পষ্ট নির্দেশনা নেই বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। তিনি বলেন, ‘আমাকে এখন পর্যন্ত পদায়নের পর প্রশিক্ষণে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। সেই প্রশিক্ষণের পর তাদের নিয়ে কী করতে হবে, সেই বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা আসেনি।’
একই বিষয়ে নেপ মহাপরিচালক ফরিদ আহ্মদ বলেন, ‘প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ না হতে পারলে নিয়োগ বাতিল হবে বলে মনে হয় না। তবে এরকম কোনো সিদ্ধান্ত প্রশিক্ষণ মডিউলে যুক্ত করবে কি না, তা বলা সম্ভব হচ্ছে না। এসব বিষয় এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভায় আলোচনার পর চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।’