‘বিয়ে করতে পারছেন না, করলেও ভেঙে যাচ্ছে’— বছরে ৩৬৫ দিনই ডিউটি করা নৈশ প্রহরীরা ফের মুক্তি চাইলেন
স্বল্প বেতনে চাকরি করছেন সরকারি নৈশ প্রহরীরা, যা ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন স্কেলের চাকরি হিসেবে বিবেচিত। চিকিৎসা ভাতা ও বাসা ভাড়া যুক্ত হলেও দীর্ঘ সময় ধরে নির্ধারিত ছুটি ও কর্মঘণ্টা না থাকায় তাদের জীবনমান ও কর্মপরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নৈশ প্রহরীদের ছুটি ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণের দাবি জানিয়ে কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার কাছে আবেদন জানিয়েছে এমপিওভুক্ত নৈশ প্রহরী কল্যাণ পরিষদ।আজ বুধবার (১৭ জুন) আগাঁরগাও এ এক অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যের কাছে এ আবেদন দেন সংগঠনটির নেতারা।
আবেদনপত্রে তারা উল্লেখ করেন, আমরা বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত ‘নৈশ প্রহরী’ দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠান রক্ষার্থে ১২ থেকে ১৬ ঘন্টা পর্যন্ত দিনে ও রাতে এই মহান দায়িত্ব নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে পালন করে আসছি। অথচ অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, আমাদের চাকরিকালীন কোনো সাপ্তাহিক/বাৎসরিক সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ছুটি না থাকায়, আমাদেরকে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকগণ কোনো প্রকার ছুটি দিতে চায় না। সারা বাংলাদেশের প্রায় উনচল্লিশ হাজার ‘নৈশ প্রহরী’ জীবিকার তাগিদে আমরা দূর-দূরান্তে চাকরি করি। কিন্তু ছুটি থাকা সত্বেও প্রতিষ্ঠান প্রধান শিক্ষকরা আমাদের ছুটি দেয় না। এজন্য অনেক ‘নৈশ প্রহরী’ বিয়েও করতে পারছে না। আবার অনেকের সংসারও ভেঙ্গে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: মামলার কারণে প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারছি না : শিক্ষামন্ত্রী
‘নৈশ প্রহরীদের কোনো নির্ধারিত কর্মঘণ্টা নেই। তাই বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী ৮ ঘণ্টা ডিউটি চাই। অতিরিক্ত কাজ করতে হলে, ওভার টাইম হিসেবে গণ্য হওয়া এবং অতিরিক্ত মজুরী দেওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশ এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নৈশ প্রহরীরা অনেক বৈষম্যের শিকার। যা আমাদের জীবনের মৌলিক কিছু অধিকার আজও নিশ্চিত হয়নি, যা একদিকে অমানবিক, অন্যদিকে পেশাগত মর্যাদার পরিপন্থী।’
তারা আরও বলেন, নৈশ প্রহরীদের সরকারি ছুটির বিষয়ে কোনো স্পষ্ট প্রজ্ঞাপন না থাকার কারণে প্রতিষ্ঠান প্রদান ছুটি দিতে চায় না। কিন্তু ২০তম গ্রেডে ৮২৫০ টাকায় পিয়ন, আয়া, মালী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও নিরাপত্তা কর্মী চাকরি করে এবং সকলের ছুটি আছে, কিন্তু শুধুমাত্র নৈশ প্রহরীদের কোনো সাপ্তাহিক/ বাৎসরিক ছুটি ও কর্মঘন্টা নেই। আমরাও তো মানুষ, আমাদেরও তো পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন আছে। আমরা মানবেতর জীবন যাপন করছি। উপরোক্ত বিষয়টি সংসদে আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রীর সাথে কথা বলে আমাদের এই বৈষম্য থেকে বের হওয়ার জন্য আপনার সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।
এর আগে, চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা সচিব বরাবর এই সংগঠনের পক্ষ থেকে নৈশপ্রহরীদের ছুটি ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণের আবেদন করা হয়। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও একই আবেদন করেন তারা। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর তাদের সেই আবেদনের কার্যকারিতাও হারিয়ে যায়।