০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:২১

সরকার গঠনের দুই মাসেই বিএনপির মধ্যে দমনমূলক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে : আসিফ মাহমুদ

জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘অধ্যাদেশ বাতিল এবং গণভোট অস্বীকারের রাজনীতি: সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের যুগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে কথা বলছেন আসিফ মাহমুদ   © টিডিসি

সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, বিএনপি সরকার গঠনের মাত্র দুই মাসের মধ্যেই দমনমূলক প্রবণতার স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগকে আমরা দেখেছি, ধীরে ধীরে এই পর্যায়ে উপনীত হয়েছিল। কিন্তু বিএনপি খুব দ্রুতই, তাদের সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘অধ্যাদেশ বাতিল এবং গণভোট অস্বীকারের রাজনীতি: সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের যুগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, আমরা দেখছি সমসাময়িক কিছু বিষয় যেমন, ২৮ জন বিচারককে শোকোজ দেয়া হয়েছে। আপনারা সবাই দেখেছেন। কিন্তু পেছনের কারণটা হয়তো অনেকেই জানেন না। বিচারকগণ তাদের একটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে কিছু ডিসকাশন করছিলেন যেটা স্ক্রিনশট সরকারের পছন্দ হয়নি। ফলে সরকার তাদেরকে ওই স্ক্রিনশটের ভিতরে শোকজ দিয়ে বোঝালেন যে, রায় তো আমাদের পছন্দের বাইরে দিতেই পারবেন না। আপনারা নিজেদের মধ্যে কোন আলোচনা বা টেক্সটিংও করতে পারবেন না সরকারের যেটা পছন্দ হবে না। এটা একটা ইন্ডিকেশন যে আগামীতে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ কিভাবে চলতে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন : বিএনপি একটি ব্যর্থ আওয়ামী লীগ: সরোয়ার তুষার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা দেখছি যে ফেসবুকে পোস্ট করার জন্য আবার গ্রেফতার শুরু হয়ে গেছে। এটা আমরা দুই বছর পরে আবার নতুন করে দেখছি যেটা আমরা দুই বছর আগে দেখতাম। আমাদের জাতীয় নাগরিক পার্টিরও অঙ্গ সংগঠনের একজন শাখার যুগ্ম সদস্য সচিবকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটছে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে লেখালেখিত করার ফলে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আমি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করতে চাই, আপনার বিরুদ্ধে যদি কিছু লেখা না যায় তাহলে আপনি সংসারের দাঁড়িয়ে বলে দেন যে, আমার বিরুদ্ধে কিছু লেখা যাবে না লিখলে গ্রেফতার করা হবে। অথবা একটা আইন করে দেন, কোন সমালোচনা করা যাবে না কোন কথা বলা যাবে না স্যাটায়ারও করা যাবে না। যদিও আপনি উত্তর দিবেন কিনা জানিনা এটাও হয়তো সালাউদ্দিন ভাই উত্তর দিতে পারেন।

বিসিবি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সালাউদ্দিন ভাইয়ের প্রসঙ্গ যেহেতু আসলো তিনি আজকে সংসদে দাঁড়িয়ে আমাকে উদ্দেশ্য কিছু কথা বলেছেন যে বিসিবি নির্বাচনের বিষয়ে অনেকেই বলছেন...। তিনি বলেছেন যে আগের নির্বাচনের সময় কাউন্সিলর আনার ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে। সেখানে সালাউদ্দিন ভাইয়ের কোন সংবিধানের প্রয়োজন নাই কারণ বিসিবির একটা কনস্টিটিউশন আছে, কাউন্সিলরদের তখন আনা হয়েছিল সংবিধান অনুযায়ী। কিন্তু তারা চেয়েছিল তাদের যে ছেলেরা এখন বিসিবিতে বসেছেন তাদের নামগুলো পাঠানো হোক যাদের স্পোর্টসের সাথে কোন সম্পর্ক নাই।

আরও পড়ুন : ভয়াবহ সংকটে দেশ, ঐক্যই একমাত্র পথ: বদিউল আলম মজুমদার

অধ্যাদেশ বাতিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটা ইনটেনশন খুব স্পষ্ট, আমরা যেখান থেকে ২০২৪ সালের গণভুত্থানের পরে একটা জায়গায় এসে পৌঁছেছি, সেখান থেকে এখন উল্টা পথে হাঁটা শুরু করেছি। যেটা শেখ হাসিনা-র ভাষায় এবসলিউট পাওয়ার—সেটাই এখন বর্তমান সরকারের মধ্যে দেখতে পাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি যত খারাপ কাজ করবে, যত জনবিরোধী কাজ করবে সেটা দ্রুতই করে ফেলুক, আমরা চাই। কারণ আমরা আবারো ১৫-২০ বছর অপেক্ষা করতে চাই না।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা সংবিধান পুনর্লিখনের কথা বলেছিলাম। কিন্তু এখন আমরা এমন একটা পর্যায়ে উপনীত হয়েছি যে কম্প্রমাইজড ভার্সনটাও বাস্তবায়ন করতে পারছি না এবং সরকার সেটাকে পুরোপুরি বাতিল করে দিচ্ছে। যেই অধ্যাদেশগুলো সরকারের ক্ষমতাকেও কমায় না—যেমন ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ—সেগুলোকেও তারা বাতিল করে দিচ্ছে।

সংসদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, টু থার্ড পাওয়ার ফলে এই সংসদ একটা অকার্যকর সংসদ হয়ে গেছে। সংসদ সদস্যরা কথা বললেও তার কোনো বাস্তবায়ন নেই। বিরোধী দল হিসেবে আমাদের রাজপথে নামতে হচ্ছে।