০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:১৬

বিএনপির ইশতেহার ঘোষণা করবেন তারেক রহমান, গুরুত্ব পাবে যেসব বিষয়

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান  © টিডিসি সম্পাদিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, বিকেল সাড়ে ৩টায় হোটেল সোনারগাঁওয়ে বলরুমে এ ইশতেহার ঘোষণা করবেন তিনি। এবার সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধান এবং যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা।

এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরিচালনা করবেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবারকার ভোটে বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। সে হিসেবে তার এটি প্রথম নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা। 

পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম সংসদ নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব দেন সে সময়ে দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সে সময়ে প্রতিটি নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছেন তিনি। ২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অংশ নিলেও সে সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি ছিলেন। 

২০১৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর গুলশানের লেকশোরে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার অধীনে দশম ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন বয়কট করেছিল বিএনপি।

নির্বাচনী ইশতেহার প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমীন বলেন, ‘বিএনপি গণমানুষের দল, তৃণমূলের ক্ষমতায়নের দল। আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে আমরা কাজ করেছি। প্রাথমিকভাবে ৩১ দফা নিয়ে আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত কর্মসূচি নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘সেই জনসম্পৃক্ততার আলোকে দল, অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠন সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত তার ওপর ভিত্তি করে কিন্তু সংযোজন বিয়োজন পরিবর্তন পরিবর্তনের আলোকে যুগের চাহিদা মিলিয়ে জনমান মানুষের সমস্যার সমাধানের জন্য, তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে আসছে।’

আরও পড়ুন: গ্রিন জোনে জিতবে কে?

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে আমাদের দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে তাদের যে ভিশন রয়েছে, যে রূপকল্প রয়েছে, সেটিকে যেমন প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। একই সাথে সেখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে একদম সাধারণ মানুষের যে সমস্যাগুলো রয়েছে তারা কি চাচ্ছে? আমাদের মূল লক্ষ্য এমনভাবে পরিকল্পনাগুলো সাজানো যেটি বাস্তবভিত্তিক হয়, যেটি টেকসই হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান যখন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করলেন, সেই ঐতিহাসিক সময়ে তিনি বলেছিলেন, হি হ্যাজ এ প্ল্যান। এই প্রত্যেকটি প্ল্যান মানুষের এমপাওয়ারমেন্টের জন্য, এই প্রত্যেকটা প্ল্যান মানুষের স্বাধীনতা এবং স্বনির্ভরতার জন্য, এই প্রত্যেকটা প্ল্যান মানুষের স্বনির্ভরতার পাশাপাশি সুরক্ষা এবং সার্বিক নিরাপত্তার জন্য।’

মাহদী আমীন বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে জনগণের ক্ষমতায়ন হবে। আমাদের ইশতেহারের প্রতিটি পর্যায়ে সেই জনগণের ক্ষমতায়ন জনগণের রাষ্ট্রীয় মালিকানা, স্বাধীনতা অধিকার, নিরাপত্তা সুরক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন যেখানে নিজে তার পরিবার নিয়ে এখন থেকে অনেকটা ভালো থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি সেক্টরে সুনির্দিষ্ট সুবিস্তৃত যে পরিকল্পনা রয়েছে তার মাধ্যমে দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে ইনশআল্লাহ।’