০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:৫২

নির্বাচন নিয়ে জামায়াত ষড়যন্ত্র করছে : তারেক রহমান

খুলনায় নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান  © সংগৃহীত

নির্বাচন নিয়ে জামায়াত ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী নারী সমাজকে হেয় প্রতিপন্ন করেছে, তারাই নির্বাচন নিয়ে আবার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনার খালিশপুরের প্রভাতি স্কুল মাঠে এক সমাবেশে এ মন্তব্য করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী ১২ তারিখ আমাদের অধিকার বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। আমরা খেয়াল করছি, একটি মহল বলার চেষ্টা করছে, এবার ভোট গণনায় নাকি অনেক সময় লাগবে। ষড়যন্ত্র আবার শুরু হয়েছে। যারা জনগণের সামনে সকাল-বিকাল মিথ্যা কথা বলছে, যারা দেশের নারী সমাজকে হেয় প্রতিপন্ন করছে। তারা বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। তাদের এসব কথা-বার্তা, কাজ কর্ম, ফাঁকি-ঝুঁকি মানুষ ধরে ফেলেছে। সেজন্য তারা বিভিন্ন ছলচাতুরির চেষ্টা করছে। আজ থেকে আপনাদেরকে সর্তক ও সজাগ থাকতে হবে। আপনাদের অধিকার যেন কেউ কেড়ে নিতে না পারে, সে ব্যাপারে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে যতগুলো রাজনৈতিক দল আছে, তার মধ্যে দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা একমাত্র বিএনপির আছে। সঠিকভাবে দেশ পরিচালনা করতে হলে দুইটি বিষয়ে নজর দিতে হবে। এক, যেকোনো পরিস্থিতিতে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা, যেন মানুষ শান্তিতে চলাফেরা এবং যেন মানুষ শান্তিতে তার ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারে। এসব অভিজ্ঞতা শুধু বিএনপিরই আছে। বিএনপি জানে কীভাবে দেশের নিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি করতে হয়। একই সঙ্গে বিএনপির আরেকটি অভিজ্ঞতা আছে, কিভাবে দেশকে দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে বের করে নিয়ে আসতে হয়।’

আরও পড়ুন : জামায়াত নারীদের ঘরে আটকে রাখতে চায়: তারেক রহমান

‘নারী সমাজকে অপমান করেছে জামায়াত’

তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী সমাজ। এই নারী সমাজকে পেছনে রেখে যতই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করি না কেনো, যতই বড় বড় কথা বলি না কেনো। কোনভাবে সম্ভব নয় দেশকে সামনে নিয়ে যাওয়া ও দেশ পুনর্গঠন করা। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দল,  দেশের অর্ধেক নারীগোষ্ঠী সম্পর্কে কীভাবে ঘরের মধ্যে আটকিয়ে রাখতে চায়, সেই কথা তারা বলেছে। আমরা দেখেছি, একটি রাজনৈতিক দলের একজন নেতা পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছে, তারা কোনোভাবেই নারী নেতৃত্বে বিশ্বাস করে না।’

‘তারা এমন একটি শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা আমাদের মা-বোনের জন্য ও এদেশের জন্য কলঙ্কস্বরূপ। এই দেশে খেটে খাওয়া মানুষের পরিবারের অধিকাংশ নারী সংসারের উপার্জনের জন্য কাজ করে থাকেন। বাংলাদেশের ৫০ লাখের উপরের নারী আজ গার্মেন্টস শিল্পে কাজ করছেন। কিন্তু আজ আমরা দেখেছি একটি দলের নেতা কীভাবে নারী সমাজকে খারাপ ভাষায় অসম্মানিত করছেন। অথচ আমাদের নবী করীম (সা.)-এর বিবি খাদিজা (রা:) একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। কিন্তু তারা নাকি ইসলাম কায়েম করবেন?

তিনি বলেন, ‘যে দলটি নির্বাচনের আগে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠিকে ঘরের মধ্যে বন্দি করতে চায়, যে দলটি নির্বাচনের আগে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠিকে অসন্মানজনক ভাবে কথা বলে। তাহলে আপনাদের কাছে প্রশ্ন আমাদের নির্বাচনে যদি তারা (জামায়াত) কোনোভাবে সুযোগ পায় নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তাদের আচরণ কী হতে পারে?

আরও পড়ুন : তারেক রহমানের জনসভায় ভরে উঠছে যশোর উপশহর কলেজ মাঠ

তারা মিথ্যাবাদী ও জনদরদী নয় বলে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘ওই রাজনৈতিক দলটি শুধু নিজের স্বার্থের কথা বুঝে। তারা ধর্মকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য। যেখানে প্রয়োজন সেখানে তারা তাদের মতো করে ধর্মকে ব্যবহার করে। আমরা গতকাল দেখেছি, যখন এই কথা (জামায়াত আমীরের কথা) বলার পরে তীব্র সমালোচনা শুরু হলো, নারী সমাজ থেকে, যখন এই কথা বলার পরে তীব্র সমালোচনা শুরু হলো সমাজের প্রত্যেকটি মানুষের কাছ থেকে তখন তারা বলছেন, তাদের এই আইডি নাকি হ্যাক হয়ে গিয়েছিল।কিন্তু আইডি বিশেষজ্ঞরা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, এক্স (সাবেক টুইটার) আইডি এভাবে হ্যাকড হতে পারে না। যারা নিজেদের স্বার্থে ও প্রয়োজনে মিথ্যা কথা বলে। যারা হাজারো মানুষের সামনে মিথ্যা কথা বলে, এরা আর যাই হোকে জনদরদি হতে পারে না।’

খুলনায় নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন তারেক রহমান

ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের অর্ধেক নারী সমাজকে পেছনে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। ইনশাল্লাহ আগামী ১২ তারিখ নির্বাচনে বিজয় হলে, প্রত্যেকটি পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব। যেই কার্ডের মাধ্যমে আমরা দেশের নারী সমাজকে ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করে তুলতে চাই।’

খুলনা মহানগরের সভাপতি শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিনের সঞ্চালায় খুলনা-১ আসনের আমীর এজাজ খান,  খুলনা-২ আসনের নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-৩ আসনের রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-৪ আসনে এসকে আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৫ আসনে মো. আলি আসগার, খুলনা-৬ আসনে এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী, সাতক্ষীরা-১ আসেন হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সাতক্ষীরা-২ আসনে আব্দুর রউফ, সাতক্ষীরা-৩ আসনে কাজী আলাউদ্দীন, সাতক্ষীরা-৪ আসনে মনিরুজ্জামান, বাগেরহাট-১ আসনে কপিল কৃষ্ণ মন্ডল, বাগেরহাট-২ আসনে শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, বাগেরহাট-৩ আসনে শেখ ফরিদুল ইসলামও বাগেরহাট-৪ আসনে সোম নাথ দে ছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতা জয়ন্তু কুমার কুন্ড, শামীমুর রহমান শামীম, মোনায়েম মুন্না, মনিরুজ্জামান মনি, রহমত উল্লাহ পলাশ, নেওয়াজ হালিমা আরলী, আয়শা সিদ্দিকী মনি, শেখ ওয়াহিদুজ্জামান দিপু, সৈয়দা নার্গিস আলী প্রমুখ বক্তব্য দেন।