২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:০৬

৫৪ বছরে দেশের মর্যাদা অন্য দেশে বন্ধক রাখা হয়েছিল: ডা. শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান  © সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘স্বাধীনতার ৫৪ বছরে আমাদের দেশের মান মর্যাদা অন্য জায়গায় বন্ধক রাখা হয়েছিল। অন্য দেশের কাছে বন্ধক রাখা হয়েছিল। আমরা সাফ জানিয়ে দিচ্ছি এখন থেকে আধিপত্যবাদের চিহ্ন বাংলাদেশে রাখা হবে না। আল্লাহ ছাড়া কাউকে পরোয়া করবো না।’

‎শনিবার (২৪ জানুয়ারী) রাতে পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের আয়োজনে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘এদেশে মুক্তিকামী জনতার উত্থান দেখে কারো কারো গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। তারা ফুসফাস করছে। তাদের বলবো বন্ধু হয়ে থাকো, ভাই হয়ে থাকো, আমাদের যে প্রতিবেশি সে প্রতিবেশি হয়ে থাকো। আপনাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমরা নাক গলাতে যাবো না, তেমনি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আপনারা নাক গলাতে আসবেন না। অনেক গলিয়েছেন, সর্দিটা এবার সামলান। এখন নাকটা একটু পরিস্কার রাখেন।’

ডা. শফিকুর বলেন, ‘এই সবকিছুর জন্য একটা পরিবর্তন দরকার। বস্তা পঁচা রাজনীতিকে বলা দরকার তোমাদের লালকার্ড। এর জন্য দরকার একটা অর্থবহ সংস্কার। এই জন্য আমাদের প্রথম ভোটটা হবে গণভোটে হ্যাঁ। গণভোটে হ্যাঁ মানে হলো আজাদী, না বলা মানে হচ্ছে গোলামী। ‎হ্যাঁ ভোট পরাজিত হলে সরকার গঠন হলে কিছুই হবে না।’

জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, ‘আল্লাহ যদি জনগণের ভালবাসায় আমাদের সরকার গঠনের সুযোগ দেন তাহলে দুর্নীতি আমরা করবো না এবং দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবো না। চাঁদাওয়ালাদের হাত বন্ধ করে দেবো। আমরা বলেছি সমাজে ন্যায়বিচার কায়েম করা আমাদের অঙ্গীকার। আমরা সারা সমাজের সর্বত্র ন্যায়বিচার চাই। একজন সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে যেমন আইনের আওতায় আনা হবে, তেমনি দেশের প্রেসিডেন্ট একই অপরাধ করলে তার চোখ আর মুখের দিকে তাকানো হবে না। তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। সেই ন্যায়বিচার আমরা নিশ্চিত করতে চাই। এতে যদি গরম ভাতে বেলাই বেজার হয় আমাদের কিছু আসে যায় না।’

আরও পড়ুন: ‘নির্বাচনের সামনে প্রচুর অস্ত্র মজুত হচ্ছে’—বিএনপি নেতাকর্মীর ভিডিও ভাইরালের পর গ্রেপ্তার ৪

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ১১ জন কেন্দ্রীয় নেতাকে জেলের মধ্যে ঠান্ডা মাথায় খুন করেছে ফ্যাসিস্টরা। আমীরে জামায়াত মতিউর রহমান নিজামীকে হত্যা করা হয়েছে। ৫ বারের এমপি মাওলানা আব্দুস সোবহানকেও জেলের ভিতরে ঠান্ডা মাথায় খুন করেছে। সেদিন চোখের পানিতে পাবনায় রেখে গিয়েছিলাম। তারা যে আকাঙ্খা নিয়ে বিদায় নিয়েছেন, আমরাও সেই কাজ করতেছি।’

‎জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা কি চাই সেই ফ্যাসিবাদ ফিরে আসুক। এদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠতে হবে। একসঙ্গে ১৫ বছর মজলুম ছিলাম। আমাদের এক হাজারের বেশি সহকর্মীকে খুন করা হয়েছে। ৭০০ নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। এক মিনিটও অফিস খুলতে পারিনি। নেতৃবৃন্দের বাড়িতে বুলডোজার দিয়ে ভাঙা হয়েছে। ৫ আগষ্টের পরিবর্তনের সাথে ধৈর্য ধরার চেষ্টা করেছি। প্রতিটি মানুষের হয়ে চৌকিদারের ভূমিকায় থেকেছি। আপনারাও মজলুম ছিলেন, জালিমের ভূমিকায় আসবেন না।’

‎জামায়াতের আমীর আরও বলেন, ‘৬ তারিখের পর অনেকে চাঁদা আদায় করছে, দখলবাজি করছে। ওই দখলের নাম বললে তারা আবার গোসসা করে। এটা ভালো লক্ষণ নয়। আমরা মানুষের দু:খ বোঝার চেষ্টা করছি। আমরা চাঁদা নিবো না, যদি সরকার গঠন করি তাহলে চাঁদাবাজের হাত বন্ধ করে দিবো। আমরা তোমাদের জন্য হালাল রুজীর কাজ তুলে দিবো। সম্মানের সঙ্গে চলবে, মাথা উঁচু করে চলবে।’
‎‎
পাবনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও পাবনা-৪ আসনের এমপি পদপ্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডলের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল গাফফার খানের সঞ্চালনায় জনসভায় বক্তব্য দেন, কেন্দ্রীয় জামায়াতের  সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, পাবনা-৫ আসনের এমপি পদপ্রার্থী প্রিন্সিপাল মাওলানা ইকবাল হোসাইন, পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ব্যরিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, পাবনা-২ আসনের এমপি পদপ্রার্থী অধ্যাপক কেএম হেসাব উদ্দিন, পাবনা-৩ আসনের জামায়াতে মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী মাওলানা আসগর আলী, কেন্দ্রীয় শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগাহ, শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক হাফেজ আবু মুসা প্রমুখ।