১১ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৪

শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা কমিটিকে দেওয়ার প্রস্তাবে উদ্বেগ, অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি

এনটিআরসিএ ও শিক্ষা অধিকার সংসদ  © সংগৃহীত ও টিডিসি সম্পাদিত

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষর (এনটিআরসিএ) পরিবর্তে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির (এসএমসি) হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে আখ্যায়িত করেছে শিক্ষা অধিকার সংসদ।

সংগঠনটি মনে করে, যোগ্যতাহীন বা অপ্রস্তুত কোনো কমিটির হাতে নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করা হলে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দলীয় বিবেচনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে। ফলে মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।

এক বিবৃতিতে শিক্ষা অধিকার সংসদের সদস্য-সচিব এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন সরকারের প্রতি এই সিদ্ধান্ত স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছেন।

ম্যানেজিং কমিটির হাতে নিয়োগে দুর্নীতির আশঙ্কা
বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষক নিয়োগ শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কিন্তু বাংলাদেশের বহু অঞ্চলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ম্যানেজিং কমিটির প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, পেশাগত দক্ষতা এবং জবাবদিহিতা নেই। বহু ক্ষেত্রে এই কমিটিগুলো স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যক্তিস্বার্থ, আত্মীয়করণ ও নানা গোষ্ঠীগত স্বার্থের দ্বারা প্রভাবিত হয়। ফলে তাদের হাতে ক্ষমতা তুলে দিলে অযোগ্য ও কম যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগের পথ সুগম হবে।
এনটিআরসিএ-এর কাঠামোগত সংস্কারের দাবি

শিক্ষা অধিকার সংসদ স্পষ্ট করেছে যে, ম্যানেজিং কমিটির বিরোধিতা করার অর্থ এনটিআরসিএ-এর বর্তমান সীমাবদ্ধতাকে সমর্থন করা নয়। সংগঠনটির মতে, এনটিআরসিএ দীর্ঘদিন ধরে জটিল আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, দীর্ঘসূত্রতা, অস্বচ্ছতা, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অদক্ষতার অভিযোগে অভিযুক্ত।

তাই একটি ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থার পরিবর্তে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবস্থা চালুর সমালোচনা করে সংগঠনটি বলে— শিক্ষায় দুর্নীতি কমাতে হলে এনটিআরসিএ-কে বাতিল না করে একটি স্বাধীন, স্বচ্ছ, পেশাদার ও জবাবদিহিমূলক জাতীয় নিয়োগ কর্তৃপক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

সরকারের প্রতি ৬ দফা দাবি
পরিস্থিতি উত্তরণে শিক্ষা অধিকার সংসদ সরকারের কাছে ৬টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেছে:
প্রস্তাব প্রত্যাহার: শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব স্কুল ম্যানেজিং কমিটির (এসএমসি) হাতে হস্তান্তরের উদ্যোগ অবিলম্বে বাতিল করা।
স্বাধীন সংস্কার কমিশন: শিক্ষা বিশেষজ্ঞ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এনটিআরসিএ-এর মৌলিক ও কাঠামোগত সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করা।
ডিজিটালাইজেশন: দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় করা।

আরও দেখুন: এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ৪টি মাদ্রাসায় শতভাগ ফেল

স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ: নিয়োগের মানদণ্ড, মেধাতালিকা, অপেক্ষমাণ তালিকা সহ সব সংক্রান্ত তথ্য সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা।
স্বাধীন তদারকি: রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত একটি তদারকি ও নিরীক্ষা ব্যবস্থা চালু করা।
নির্দিষ্ট সময়সীমা ও অভিযোগ কেন্দ্র: নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিয়োগ সম্পন্ন করা এবং আবেদনকারীদের জন্য কার্যকর অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা রাখা।

শিক্ষা অধিকার সংসদ সরকারকে জাতীয় স্বার্থ ও শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত মান রক্ষা করতে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির হাতে নিয়োগ ক্ষমতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখে অবিলম্বে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে।