ফের ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ নোটিশ বিএমইউর ডক্টরস হল ভবনে
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ডক্টরস হল হিসেবে ব্যবহৃত এ ব্লক ভবনে আবার ঝোলানো হয়েছে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ নোটিশ। আজ রবিবার (২৮ জুন) এই দৃশ্য দেখা গেছে। কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে টানানো নোটিশে লেখা হয়েছে, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ব্লক ভবনটি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) কর্তৃক ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষিত হয়েছে।
চিকিৎসায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে প্রতি বছর রেসিডেন্ট, নন-রেসিডেন্ট ও এফসিপিএস কোর্সে প্রায় আড়াই হাজার প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি হন বিএমইউতে। কিন্তু এত ট্রেইনি চিকিৎসকের জন্য কোনো আবাসন ব্যবস্থাই নেই প্রতিষ্ঠানটির। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম পুরনো ভবন ‘এ ব্লক’কে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে অস্থায়ী হল হিসেবে, যেখানে আড়াই শতাধিক প্রশিক্ষণার্থীর আবাসনের সুযোগ হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শাহবাগ-সায়েন্সল্যাব সড়ক লাগোয়া ৭ তলাবিশিষ্ট এ ব্লক ভবনটিকে অন্তত ৩ বছর আগে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও গণপূর্ত অধিদপ্তর (পিডব্লিউডি)। সড়কঘেঁষা হওয়ায় অতিরিক্ত গাড়ির চাপেও দোলে এই ভবন। কিন্ত এতদিনেও ঝুঁকি আমলে নেয়নি প্রশাসন। অস্থায়ী হল ছাড়াও ব্লাড ব্যাংকসহ ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এবং চিকিৎসকদের ডাইনিং ও ক্যাফেটেরিয়া রয়েছে এই ভবনটিতে।
এ নিয়ে গত ২৪ নভেম্বর ‘৪ তলা বাড়িয়ে হয়েছে সাত, ‘অতি ঝুঁকি’ নিয়েই মেডিকেল শিক্ষার্থীদের বাস এই ভবনে’ শিরোনামে দ্য ডেইলি একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। এর পরদিন সংস্কারের কথা বলে হল বন্ধ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরই মধ্যে ২৬ নভেম্বর ভবনের চতুর্থ তলায় ডেন্টাল অনুষদের পরিত্যক্ত ক্লাসরুমের সামনের কক্ষটি এক্সরে রুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর ওই দিনই একদিনের জন্য কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার বন্ধ করা হয়।
পরবর্তীতে ৩ ডিসেম্বর এক নোটিশে ভবনটির সপ্তম তলা পরিত্যক্ত ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে ওই ফ্লোরের ডাইনিংটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে ৭ম তলার মসজিদটি সচল রয়েছে। এ ছাড়া ভবনের অন্যান্য ফ্লোরে আবাসন, পঞ্চম তলায় লাইব্রেরি ও ক্যাফেটেরিয়া, দ্বিতীয় তলায় ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগ ও একটি অডিটোরিয়াম এবং বহিরাংশে ব্যাংক ও বিভিন্ন দোকানপাট রয়েছে।