০৪ জুন ২০২৬, ০০:০৩

ভাতা পাবেন সব এফসিপিএস ট্রেইনি, মন্ত্রণালয়ের নোটিশ চূড়ান্ত নয়: বিসিপিএস

বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্স  © টিডিসি ফটো

এফসিপিএস প্রথম পর্ব উত্তীর্ণ সকল বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থী পারিতোষিকের আওতায় থাকবেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্‌ (বিসিপিএস)। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, মন্ত্রণালয় বিসিপিসের সম্ভাব্য উপকারভোগীর একটি আনুমানিক সংখ্যা নির্ধারণ করতে চেয়েছে, যাতে আর্থিক বরাদ্দ ও খরচের মধ্যে একটি ভারসাম্য নিয়ে আসা যায়। আর এ থেকেই বিভ্রান্তির সূত্রপাত বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির। একই সঙ্গে ট্রেনিং পোস্টিং নিয়েও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানানো হয়েছে বিসিপিএসের পক্ষ থেকে।

আজ বুধবার (৩ জুন) রাতে বিসিপিএসের কাউন্সিলর অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর, অধ্যাপক ডা. নুরুদ্দীন আহমেদ, অধ্যাপক ডা. লুৎফুল আজিজ, অধ্যাপক ডা. সেহেরিন ফরহাদ সিদ্দিকা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে ট্রেইনি ভাতা বিষয়ে বলা হয়, যোগ্য সকল প্রাইভেট ক্যান্ডিডেট প্রশিক্ষণ ভাতার আওতাভুক্ত থাকবেন। ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রাইভেট ক্যান্ডিডেটদের বাদ দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা নেই। কিছু ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সংখ্যার হিসাব নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। মন্ত্রণালয় বিসিপিসের সম্ভাব্য উপকারভোগীর একটি আনুমানিক সংখ্যা নির্ধারণ করতে চেয়েছে, যাতে আর্থিক বরাদ্দ ও খরচের মধ্যে একটি ভারসাম্য নিয়ে আসা যায়।

আরও পড়ুন: ভাতা পাবেন মাত্র এক হাজার প্রশিক্ষণার্থী, দুই বছর থাকতে হবে নিজ উপজেলায়

অতীতে প্রাইভেট ক্যান্ডিডেটের সংখ্যা সাধারণত একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই ছিল উল্লেখ করে এতে বলা হয়, সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই প্রাথমিক সংখ্যা নির্ধারণের বিষয়টি এসেছে। এটি কোনোভাবেই ভাতাপ্রাপ্তির যোগ্যতা বা সুযোগ সীমিত করার উদ্দেশ্যে করা হয়নি। মন্ত্রণালয় অচিরেই একটি সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি জারি করবে।

ট্রেনিং পোস্টিং ও প্রশিক্ষণ কাঠামো নিয়ে বিসিপিএসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ট্রেনিং কোথায় হবে, কীভাবে হবে, অথবা পোস্টিং সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে এখন পর্যন্ত বিসিপিএস কাউন্সিলের কোনো চূড়ান্ত নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। বর্তমান কাউন্সিল দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের মতামত বিবেচনা করে একটি বাস্তবসম্মত, কার্যকর ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কাঠামো প্রণয়নের জন্য কাজ করবে।

আরও পড়ুন: এফসিপিএস প্রশিক্ষণের নতুন নিয়মে ক্ষুব্ধ চিকিৎসকরা, সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি

এতে বলা হয়, বিসিপিএস সবসময় প্রশিক্ষণের গুণগত মান, একাডেমিক উৎকর্ষ, কার্যকর মনিটরিং এবং আন্তর্জাতিক মানের পোস্টগ্র্যাজুয়েট মেডিকেল শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রশিক্ষণের মান কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়— এমন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে বিসিপিএস বলছে, আলোচিত নোটিশটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা হয়েছে। বিসিপিএসের সাংগঠনিক কাঠামো এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের পর্যায়ে রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বিসিপিএসের নিজস্ব লেটারহেডে এবং অফিসিয়াল মাধ্যমে প্রকাশিত সিদ্ধান্ত বা বিজ্ঞপ্তি ব্যতীত অন্য কোনো তথ্যের ভিত্তিতে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। বিসিপিএস সংক্রান্ত সকল নীতিগত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গৃহীত হবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে সবাইকে অবহিত করা হবে বলেও জানানো হয়েছে এতে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বর্তমান কাউন্সিল চিকিৎসা শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন, একাডেমিক মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পোস্টগ্র্যাজুয়েট মেডিকেল শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সকলকে ধৈর্য ধারণ, এবং অফিসিয়াল সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করার অনুরোধ জানাচ্ছি। বর্তমান সরকার বিশেষায়িত শিক্ষার প্রসারে সর্বোচ্চ আন্তরিক। স্বাস্থ্য খাতে আগামী অর্থ বছরের বাজেট হবে ইতিহাসের সর্বোচ্চ এবং সেটা হবে দলের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের দৃশ্যমান পদক্ষেপ।