২৮ মার্চ ২০২৬, ১৬:৪১

জরুরি চিকিৎসা খাতে নতুন দিগন্ত, ইমার্জেন্সি মেডিসিনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ এখন দেশেই

শনিবার বিএমইউতে এই কোর্স ‍উদ্বোধন করা হয়েছে  © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

দেশে প্রথমবারের মত ‘ইমার্জেন্সি মেডিসিন’ বিষয়ে এমডি (রেসিডেন্সি) কোর্স চালু হয়েছে। আজ শনিবার (২৮ মার্চ) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) এই কোর্স চালু করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় বলছে, নবীন চিকিৎসকরা এই বিভাগের অধীনে দেশ-বিদেশের প্রখ্যাত ফ্যাকাল্টিদের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন, যা দেশের রোগীদের উচ্চ মানসম্মত জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের রয়্যাল কলেজ অব ইমার্জেন্সি মেডিসিনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে উপযোগী করে এই কোর্সের পাঠ্যক্রম সাজানো হয়েছে। এ ছাড়া উদ্বোধনী কোর্সে ফেজ এ-তে ভর্তি হওয়া ৫ জন রেসিডেন্ট এই সার্টিফিকেট কোর্সের জন্য যুক্তরাজ্যের মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি পেয়েছেন। তারা হলেন— ডা. মাহবুব ই. মায়ীন, ডা. সালেহ মনির রাজী, ডা. কানিজ মাহমুদা আক্তার, ডা. সাইফুল আল মামুন এবং ডা. সোহেল রানা।

এ উপলক্ষে শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে এক উদ্বোধনী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন সিডনির লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টের সিনিয়র স্টাফ স্পেশালিস্ট (ইমার্জেন্সি মেডিসিন) ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. রেজা আলী।

আরও পড়ুন: বিএমইউতে ইমার্জেন্সি মেডিসিনে কোর্স শুরু ২৮ মার্চ, বৃত্তি দেবে মোনাশ ইউনিভার্সিটি

সভায় প্রধান অতিথি বিএমইউর ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হোসেন, বিএমইউর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার।

এ সময় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ এক ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে, যেখান হতে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে নতুন ভর্তি হওয়া নবীন চিকিৎসকগণ ইমার্জেন্সি মেডিসিন বিষয়ে দেশ এবং বিদেশের প্রখ্যাত ফ্যাকাল্টিদের তত্ত্বাবধানে উপযুক্ত বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে পারবেন এবং দেশের রোগীদের উচ্চ মানসম্মত জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদান করতে পারবেন। বিএমইউর অধীনে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে ভর্তি হওয়া নবীন চিকিৎসকদের এই সংখ্যা প্রতি বছর বাড়বে।

তারা বলেন, স্বাস্থ্যসেবা খাতে মানসম্পন্ন, আধুনিক, জীবন রক্ষাকারী জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার, যার সফল বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং বিএমইউ নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।

বক্তারা বাংলাদেশে ইমার্জেন্সি মেডিসিন বিষয়ে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ তৈরি, দক্ষ জনবল গড়ে তোলা, দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উল্লেখ্য, সংক্ষেপে, ইমার্জেন্সি মেডিসিনের এমডি কোর্স হলো এমন একটি বিশেষায়িত উচ্চতর চিকিৎসা প্রশিক্ষণ, যেখানে হঠাৎ সংকটাপন্ন রোগীর দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসা দেওয়ার দক্ষতা গড়ে তোলা হয়— যাতে দুর্ঘটনা, হার্ট অ্যাটাক বা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে জীবন বাঁচানোর সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়।

এর আগে ১৯ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শাহিনুল আলম একান্ত আলাপকালে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানিয়েছেলেন, ফেজ ‘বি’ বাস্তবায়নের জন্য কাজ তারা করে যাচ্ছেন, যেখানে তৃতীয় বর্ষে অস্ট্রেলিয়ায় এক বছরের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে এবং শ্রীলঙ্কার মত অস্ট্রেলিয়ান কলেজ ফর ইমার্জেন্সি মেডিসিনের স্বীকৃতি অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে।

শনিবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন বিএমইউর জেনারেল সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ফারুক ইশতিয়াক। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএমইউর মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ, সার্জারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. ইব্রাহীম সিদ্দিক, পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইরতেকা রহমানসহ অস্ট্রেলিয়ার মোনাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি ও বিএমইউর বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও শিক্ষকবৃন্দ।