২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৯

কাল শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা

অমর একুশে বইমেলা  © সংগৃহীত

‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা-২০২৬। ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রথমবারের মতো বইমেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২৫প্রাপ্তদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন। এবারের মেলা চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত।

মঙ্গলবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেলার সার্বিক প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য-সচিব ড. মো. সেলিম রেজা। বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির পরিচালক সরকার আমিন, জনসংযোগ, তথ্য-প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) জি এম মিজানুর রহমান এবং বইমেলা ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক ড. সরকার আমিন প্রমুখ।

ড. সেলিম রেজা জানান, এবারের বইমেলায় অংশগ্রহণ করছে মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠান। মোট ইউনিট সংখ্যা ১ হাজার ১৮টি। গত বছরের মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ছিল ৭০৮টি এবং ইউনিট ছিল ১ হাজার ৮৪টি। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কিছুটা কমলেও সাংস্কৃতিক আয়োজন কমছে না বলে জানানো হয়।

আরও পড়ুন: ‘আন্দোলনে যারা ছিল, তারাই হাট-ঘাট খাবে’: স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বক্তব্য ভাইরাল

লিটল ম্যাগাজিন চত্বর থাকবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের কাছাকাছি গাছতলায়। সেখানে ৮৭টি লিটল ম্যাগাজিনকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিশুচত্বরে মোট ৬৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে, ইউনিট সংখ্যা ১০৭টি। প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলা একাডেমি ও অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নির্ধারিত কমিশনে বই বিক্রি করবে।

মেলা প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ছুটির দিন ছাড়া এই সময়সূচি প্রযোজ্য থাকবে। ছুটির দিনে মেলা শুরু হবে বেলা ১১টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। রাত সাড়ে ৮টার পর কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবে না। প্রতি দিন বিকাল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত বইমেলার মূল মঞ্চে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং বিকাল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত থাকবে ‘শিশুপ্রহর’। অমর একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে শিশুকিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন রাখা হয়েছে।

মেলার বিন্যাস গতবারের মতো অক্ষুণ্ন রাখা হলেও কিছু আঙ্গিকগত পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানান সদস্য-সচিব সেলিম রেজা। বিগত বছরের মতো এবারও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের ব্যবস্থা থাকবে। টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্লান্ট এবং ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন এলাকায় মোট চারটি প্রবেশ ও বাহির পথ রাখা হয়েছে। খাবারের স্টলগুলো ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সীমানা ঘেঁষে বিন্যস্ত করা হয়েছে। পবিত্র রমজান উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে মুসল্লিদের জন্য সুরা-তারাবি নামাজের ব্যবস্থা থাকবে। শিশুচত্বর মেলার মাঝামাঝি স্থানে রাখা হয়েছে, যাতে শিশুরা নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারে।

মেলার ব্যবস্থাপনা সহযোগী হিসেবে থাকছে বর্তমান বাংলা লিমিটেড। প্রবেশ ও বাহিরপথে পর্যাপ্ত সংখ্যক আর্চওয়ে থাকবে। সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। নিরাপত্তার জন্য ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মেলা পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, ‘এবারের মেলা সব সম্ভাবনায় আলোকিত হয়ে প্রাণের বইমেলায় পরিণত হবে বলে আশা করছি।’ এ সময় তিনি সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

বইমেলা সামনে রেখে মঙ্গলবার বাংলা একাডেমিতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ মেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিরা এতে উপস্থিত ছিলেন। সভায় বইমেলা বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। বক্তব্য দেন সংস্কৃতি সচিব মো. মফিদুর রহমান, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ এবং কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান প্রমুখ।