ঘরে ঢুকে দেখি আসামি স্বপ্না আমার রামিসার রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে— আদালতে রামিসার বাবা
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণে উঠে এসেছে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা।
মঙ্গলবার (৩ জুন) আদালতে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লাসহ মোট ১৬ জন সাক্ষী আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রদান করেন। সবার আগে সাক্ষ্য দেন শিশুটির বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা। বিচারকের প্রশ্নের জবাবে তিনি নিজের পরিচয় ও ঠিকানা জানান। শারীরিক অসুস্থতার কারণে আদালতের অনুমতি নিয়ে তিনি চেয়ারে বসে সাক্ষ্য দেন।
ঘটনার বর্ণনায় তিনি বলেন, আমি সকাল বেলা অফিসে যাওয়ার উদ্দেশ্য বের হই। আনুমানিক সাড়ে ৯ টা নাগাদ বের হই বাসা থেকে। আমি ক্যান্টমেন্ট হয়ে বনানী কাকলী তে যায়। পৌছানো মাত্রই আমার স্ত্রীর ফোন পায়। ১০ টা ১৫ মিনিটে আমি ফোন পায়। এবং বাসায় চলে আসি। এসে দেখি আমার বাসার সামনে মানে মেইন গেটে অনেক লোক জড় হয়ে যাছে। তারপর আমি দৌড় দিয়ে আমার ফ্ল্যাটের সামনে যায়। দেখি অনেক লোক জড় হয়ে আছে। এবং আমার স্ত্রী পারভীন আকতার বলে রামিছা পাশের ফ্ল্যাটে আটকা পড়ে আছে। দরজা পুরোপুরি লক থাকায় আমি দরজার লক ভাঙার চেষ্টা করি। পাশাপাশি অন্যান্যরাও ভাঙার চেষ্টা করে। পরে লক ভেঙে দরজা খুলে যায়। এরপর সবাই ভেতরে ঢুকে কমন রুমের দরজা খুলে দেখি শুধু রক্ত আর রক্ত।
আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুরে বাসার ফটকের সামনে ছিনতাই, চাপাতিসহ গ্রেপ্তার ২
রামিসার বাবা বলেন, ঘরের ভেতরে ঢুকে দেখি আসামি স্বপ্না আমার রামিসার রক্তের উপর দাঁড়িয়ে আছে। আসামিদের স্টীলের খাট ছিলো সেই খাটের নিচে আমার রামিসার খন্ড লাশ ছিলো মাথা থেকে বিচ্ছিন্ন। এরপর আর কিছু মনে নেই। এরপর আমি থানায় গিয়ে এজহার লিখি আমার মেয়ে হত্যার বিচারের জন্য। পরবর্তী প্রশ্নে তিনি বলেন, মাথাটা ছিলো বালতির ভিতরে। এসময় আইনজীবী খন্ডিত মাথার ছবি দেখালে কাঠগড়ায় বসেই কেঁদে ফেলেন রামিসার বাবা।’
এদিন আদালতে সাক্ষ্য দেয়া সাক্ষীরা হলেন- শিশুর বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা, মা পারভীন আক্তার, বড় বোন রাইসা আক্তার, ফুপু মাহমুদা আক্তার, চাচা মিজানুর রহমান লিটন, চতুর্থ তলার বাসিন্দা মনির হোসেন, প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজু, দ্বিতীয় তলার বাসিন্দা শেখ আবু সামা, ফুপা মনিরুজ্জামান শাহীন, কনস্টেবল রোমা আক্তার, কনস্টেবল শরীফ মিয়া, এসআই ইকবাল হোসেন, চিকিৎসক নাসাদ জাবিন, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ, এসআই রাশেদুল ইসলাম ও তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই অহিদুজ্জামান। এই মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে একদিনেই ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহন করা হয়েছে। সাক্ষ্য প্রদানের সময় ভিকটিমের বাবা ও মা আদালতের নিকট মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
এর আগে গত ১৯ মে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পল্লবীর একটি ভবনের তিনতলার ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা ঘটনার পর বাসার শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। তবে ওই বাসা থেকে তাঁর স্ত্রীকে তখনই আটক করা হয়; আর ওই দিনই সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার পরদিন শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন। ওই দিন বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আসামি সোহেল রানা। শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা তিনি স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানায়।