২৮ মে ২০২৬, ১১:২৮

স্কলারশিপ ও ভর্তির আবেদন সফল করতে যে ৫ ভুল কখনোই করবেন না

উচ্চ শিক্ষার আবেদন  © সংগৃহীত

বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন অনেক শিক্ষার্থীরই থাকে। তবে স্কলারশিপ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়ায় ছোট কিছু ভুলও বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। সময়ক্ষেপণ, পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব কিংবা সঠিক তথ্য না জানা এসব কারণে অনেক শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত সুযোগ হারান। বিদেশে পড়তে গিয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে এমনই পাঁচটি বড় ভুল এবং সেখান থেকে পাওয়া শিক্ষার কথা তুলে ধরেছেন এক শিক্ষার্থী।

সময়ক্ষেপণ বা প্রোক্রাস্টিনেশন
নিজের দেশ, পরিবার ও পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশে পড়তে যাওয়ার বিষয়টি শুরুতে তার কাছে বেশ ভীতিকর মনে হয়েছিল। নানা অনিশ্চয়তার কারণে তিনি আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতেই দেরি করতে থাকেন। কিন্তু পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আবেদনের শেষ সময় ঘনিয়ে আসতেই তড়িঘড়ি করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করতে হয় তাকে।

এ অভিজ্ঞতা থেকে তার উপলব্ধি, সময়ক্ষেপণ কোনো সমাধান নয়। বিদেশে পড়তে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও প্রস্তুতি থাকলে দেরি না করে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করাই ভালো।

পরীক্ষার প্রস্তুতিকে হালকাভাবে নেওয়া
ইংরেজি ভাষায় ভালো দক্ষতা থাকায় তিনি ভেবেছিলেন, মাত্র দুই সপ্তাহ প্রস্তুতি নিয়েই সহজে আইইএলটিএস ও জিআরই পরীক্ষায় ভালো ফল করা সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। ফল খুব খারাপ না হলেও যথাযথ প্রস্তুতি নিলে আরও ভালো করা যেত বলে মনে করেন তিনি।

তার মতে, ইংরেজি ও গণিতে ভালো দক্ষতা থাকলেও আইইএলটিএস কিংবা জিআরই-এর মতো পরীক্ষার জন্য আলাদা অনুশীলন প্রয়োজন। তাই পর্যাপ্ত সময় নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

পর্যাপ্ত গবেষণা না করা
বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তিনি মূলত খ্যাতি ও র‍্যাংকিংয়ের দিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। কোর্সের বিষয়বস্তু বা প্রোগ্রামের বিস্তারিত নিয়ে তেমন গবেষণা করেননি। তার ধারণা ছিল, নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্সগুলো স্বাভাবিকভাবেই নিজের চাহিদার সঙ্গে মানানসই হবে। কিন্তু আবেদন প্রক্রিয়ার অনেক পরে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, আরও ভালো কিছু বিকল্প তার জন্য উপযুক্ত হতে পারত।

এ কারণে তিনি শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিয়েছেন, শুধু র‍্যাংকিং নয়, কোর্সের বিষয়বস্তু ও সুযোগ-সুবিধা নিয়েও গভীরভাবে গবেষণা করা জরুরি। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: সম্পূর্ণ বিনা খরচে পিএইচডির সুযোগ নিউজিল্যান্ডে, করুন আবেদন

কাগজপত্র ব্যবস্থাপনায় অবহেলা
ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়ায় লেটার অব রেকমেন্ডেশন এবং পার্সোনাল স্টেটমেন্ট বা প্রবন্ধের গুরুত্ব তিনি শুরুতে ঠিকভাবে বুঝতে পারেননি। তাড়াহুড়ো করে কাগজপত্র প্রস্তুত করায় তার প্রবন্ধে নিজের যোগ্যতা ও শক্তির দিকগুলো সঠিকভাবে ফুটে ওঠেনি। একই সঙ্গে সুপারিশপত্র দেওয়ার জন্য শিক্ষকদের খুব কম সময় দেওয়ায় রেকমেন্ডেশন লেটারও যথেষ্ট শক্তিশালী হয়নি।

এ অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, আবেদন সংক্রান্ত কাগজপত্রকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। পার্সোনাল স্টেটমেন্ট আগে থেকেই প্রস্তুত করা এবং প্রতিটি প্রোগ্রামের জন্য আলাদাভাবে সেটি সাজানো জরুরি। একই সঙ্গে সুপারিশদাতাদের পর্যাপ্ত সময় ও স্পষ্ট নির্দেশনা দিলে ভালো রেকমেন্ডেশন পাওয়া সম্ভব।

স্কলারশিপের সুযোগ উপেক্ষা করা
স্কলারশিপ পাওয়া অত্যন্ত কঠিন এমন ধারণা থেকেই তিনি শুরুতে কোনো স্কলারশিপের জন্য আবেদন করেননি। পরে অন্য অনেক শিক্ষার্থীকে স্কলারশিপ পেতে দেখে তার ধারণা বদলে যায়। তখন তিনি বুঝতে পারেন, চাইলেই তিনিও চেষ্টা করতে পারতেন।

তার মতে, স্কলারশিপ শিক্ষার্থীদের আর্থিক চাপ অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে। তাই শুরু থেকেই বিভিন্ন স্কলারশিপ সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া এবং সময়মতো আবেদন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, বিদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা নিঃসন্দেহে জীবনের বড় একটি সিদ্ধান্ত। তবে সঠিক পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত গবেষণা এবং সময়মতো প্রস্তুতি থাকলে পুরো প্রক্রিয়াটি অনেক সহজ হয়ে ওঠে। নিজের ভুল থেকে অন্যরা শিক্ষা নেবে এবং আরও সুন্দরভাবে বিদেশে পড়াশোনার প্রস্তুতি নিতে পারবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

লেখক: মো. সাইফুল ইসলাম
শিক্ষার্থী, সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র