২৪ জুলাই ২০২৬, ১৫:১৯

পুষ্টিকর খাবার কিনতে অক্ষম বিশ্বের ২৬৯ কোটি মানুষ

জাতিসংঘ  © এআই সম্পাদিত ছবি

বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার কিনে খাওয়ার সামর্থ্য রাখে না। জাতিসংঘের পাঁচটি সংস্থার যৌথ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন উদ্বেগজনক তথ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের প্রায় ২৬৯ কোটি মানুষ বৈচিত্র্যময় ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ থেকে বঞ্চিত।

ব্রিটেনের দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাদ্যের উচ্চমূল্য কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্ব থেকে ক্ষুধা দূর করার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে টানা তৃতীয় বছরের মতো বৈশ্বিক ক্ষুধার হার কিছুটা কমেছে। তবে খাদ্যের দাম এখনো অনেক মানুষের জন্য বড় বাধা হয়ে আছে।

বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রধান অর্থনীতিবিদ মাক্সিমো তোরেরো জানান, একজন মানুষের জন্য দৈনিক স্বাস্থ্যকর খাবারের গড় খরচ প্রায় ৪ ডলার ২৮ সেন্ট। অথচ চরম দারিদ্র্যসীমার আয় নির্ধারিত রয়েছে দৈনিক ৩ ডলারে।

আরও পড়ুন : মধুমতি ব্যাংক পিএলসিতে অভিজ্ঞ জনবল নিয়োগ

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন দেশের ভুল নীতি ও বিদ্যমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কারণে শস্য, চাল ও গমের মতো খাদ্যপণ্যে ভর্তুকি দেওয়া হলেও শাকসবজি, ফলমূল ও দুধের মতো পুষ্টিকর খাবারের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থেকে যাচ্ছে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজার ব্যবস্থার বৈষম্য ও নীতিগত দুর্বলতার কারণে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে স্থূলতা, ক্যানসার ও ডায়াবেটিসের মতো রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও সহায়তার ঘাটতিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে আফ্রিকায় ৬৬ শতাংশের বেশি মানুষ স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য রাখে না। বর্তমানে এশিয়াকে ছাড়িয়ে আফ্রিকাতেই ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

আরও পড়ুন : ১২ প্রতিষ্ঠানে নতুন চেয়ারম্যান দিল সরকার

অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক কারণে নৌপথে বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রভাব আগামী বছরগুলোতে খাদ্য সরবরাহ ও দামের ওপর আরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।