২৮ জুন ২০২৬, ১১:০৮

ভিটামিন এ-প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু, ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের আজ টিকাকেন্দ্রে নিন

জাতীয় ভিটামিন ‘এ প্লাস’ ক্যাম্পেইন  © ফাইল ছবি

সারা দেশে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জাতীয় ভিটামিন ‘এ প্লাস’ ক্যাম্পেইন-২০২৬  শুরু হয়েছে। রবিবার (২৮ জুন) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পরিচালিত এ কর্মসূচির আওতায় ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২টি শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রায় এক লাখ ২০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্র এবং প্রায় ৫০০ অস্থায়ী কেন্দ্র, যেমন বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও ফেরিঘাটে ক্যাপসুল বিতরণ করা হবে। 

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং ইউনিসেফের সহযোগিতায় এ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে। ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সীদের একটি লাল রঙের ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুর সংখ্যা (যাদের নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল) ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন। ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল) ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন। 

প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা এ কাজে নিয়োজিত থাকবেন। নির্ধারিত দিনে কোনো শিশু ক্যাপসুল গ্রহণ করতে না পারলে পরদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে তা গ্রহণ করা যাবে। এছাড়া ১২ জেলার ৫৮টি দুর্গম উপজেলায় আরও চার দিন বিশেষ কার্যক্রম চলবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের নির্ধারিত সময়ে নিকটস্থ কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহবান জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘সংসদে সবাই বলে স্যার, বাড়ি ফিরে দেখি চায়ের মগ আর ভাতের বাসন আমি ধুবো!’

সংশ্লিষ্টরা জানান, শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূর করতে ১৯৭৩ সাল থেকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়নো শুরু হয়। তখন ‘জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে এটি পরিচিত ছিল। ১৯৯৫ সাল থেকে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির সাথে ভিটামিন এটিকে সংযুক্ত করা হয়। 

পরবর্তীতে ২০০৩ সাল থেকে আলাদা একটি কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ করা হয়, যার নাম দেওয়া হয় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। এটি জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতো। 
২০১১ সাল থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা বা এনএনএস অপারেশন প্ল্যানের অধীনে ২০২৫ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত পরিচালনা হলেও পরে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২০২৬ সালে পুনরায় চালু করা হয়েছে। এ ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান।