২৫ জুন ২০২৬, ১৩:৫৪

সাজিনাজ হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু: সাংবাদিকদের ডেকে হুমকি, পরে সুর বদল

সাজিনাজ হাসপাতাল  © সংগৃহীত

চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার বেসরকারি সাজিনাজ হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছয় দিন পর হাসপাতালটির কনফারেন্স কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে চট্টগ্রাম প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিকস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

সভায় সংগঠনের সভাপতি অভিযোগের সত্যতা আদালত প্রমাণিত হওয়ার আগেই বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এক পর্যােয়ে এ ধরনের প্রচারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। তবে তার বক্তব্যের পরপরই উপস্থিত সাংবাদিকরা এর প্রতিবাদ জানান। সাংবাদিকদের আপত্তির মুখে তিনি পরবর্তীতে ওই মন্তব্য প্রত্যাহার করে নেন।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে নগরের বায়েজিদ লিংক রোড এলাকায় অবস্থিত সাজিনাজ হাসপাতালে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় এসব হুশিয়ারি দেন সংগঠনরে সভাপতি ও মেট্রোপলিটন হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. এ কে এম ফজলুল হক। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাজিনাজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম। 

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ সভাপতি ডা. এটিএম রেজাউল করিম, সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক ডা. আব্দুল মোত্তালিব, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ডা. এস এম সরোওয়ার আলম, সাজিনাজ হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলামসহ এ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ ও সকল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক প্রতিনিধিরা।

সভায় ডা. এ কে এম ফজলুল হক বলেন, চট্টগ্রামে বর্তমানে এনজিওগ্রাম, ওপেন হার্ট সার্জারি, আইসিইউ, এইচডিইউ, ডায়ালাইসিসসহ আধুনিক চিকিৎসা সেবার অধিকাংশ সুবিধা রয়েছে। তবে সময়ভেদে সব সময় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাওয়া যায় না। হাসপাতালগুলো জটিল ও সংকটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে থাকে। অনেক সময় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগীর মৃত্যু হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে তদন্ত বা যাচাইয়ের আগে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ ছড়িয়ে দেওয়া জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

গণমাধ্যমে প্রচার নিয়ে তিনি বলেন, কোনো অভিযোগ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত হওয়া উচিত। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে দোষী হিসেবে উপস্থাপন করা কাম্য নয়। এ সময় তিনি হাসপাতালের ভেতরে অনুমতি ছাড়া ছবি ও ভিডিও ধারণ, অডিও রেকর্ডিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রচারের বিষয়ে আইনের সতর্কবার্তা দেন।

ডা. এ কে এম ফজলুল হক বলেন, হাসপাতাল প্রাঙ্গণে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মচারীদের গালিগালাজ, হুমকি দেওয়া বা আক্রমণ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। একইভাবে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া রোগী, কর্মচারী বা হাসপাতালের ভেতরে ছবি ও ভিডিও ধারণ কিংবা অডিও রেকর্ড করাও নিষিদ্ধ। 

আরও পড়ুন: মন্ত্রণালয়ে আদ‌্-দ্বীনের আপিল, নিষেধাজ্ঞা স্থগিত চেয়ে আবেদন

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সম্মতি ছাড়া এসব ছবি, ভিডিও বা রেকর্ডিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে তা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও হাসপাতালের কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টির শামিল হতে পারে। এসব কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, সাইবার সিকিউরিটি আইন এবং অন্যান্য প্রযোজ্য আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ জুন চট্টগ্রাম মহানগর তৃতীয় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে মামলা করেন শিশুটির মা আমাতুল মাকনুন। মামলায় সাজিনাজ হাসপাতালের পরিচালক হাসান মাহমুদ চৌধুরীসহ আটজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ২৫ মে সার্জিস্কোপ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন আমাতুল মাকনুন। জন্মের পর শিশুটির শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাজিনাজ হাসপাতালের এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, ভর্তির সময় শ্বাসকষ্ট ছাড়া শিশুটির অন্য কোনো শারীরিক জটিলতা ছিল না। ৩০ মে শিশুটির বাম হাতে ব্যান্ডেজ দেখতে পান মা। কর্তব্যরত চিকিৎসক বিষয়টিকে সামান্য বলে জানান। তবে পরদিন শিশুটির হাতের তালু কালো হয়ে যায় এবং আঙুলে গ্যাংগ্রিন দেখা দেয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে শিশুটির শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর গত ৪ জুন শিশুটি মারা যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।