১৮ জুন ২০২৬, ১০:০৭

ক্যান্সারের আগেই সতর্কতা, জরায়ুমুখের রোগ শনাক্তে ভারতের নতুন টেস্ট কিট

জরায়ুমুখের রোগ শনাক্তে ভারতের নতুন টেস্ট কিট  © এআই দিয়ে তৈরিকৃত ছবি

জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে বড় সাফল্যের পথে ভারত। মাত্র কয়েক মিনিটেই বিপজ্জনক এইচপিভি স্ট্রেন শনাক্ত করতে সক্ষম দেশটির নিজস্ব নতুন টেস্ট কিট বাজারে এসেছে। কম সময়ে ও কম খরচে ক্যান্সার শনাক্তের লক্ষ্য নিয়ে তৈরি এই টেস্ট কিটকে চিকিৎসা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এ নতুন পরীক্ষার মাধ্যমে জরায়ুমুখের ক্যান্সার আগেভাগেই ধরা পড়বে বলে দাবি করা হয়েছে। মানব প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) শরীরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করার আগেই সেটিকে শনাক্ত করতে সক্ষম একটি আধুনিক টেস্ট কিট তৈরি করেছেন ভারতের গবেষকেরা। এটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ট্রুনাট এইচপিভি-এইচআর প্লাস টেস্ট’।

ভাইরাস শনাক্তে নতুন প্রযুক্তি

গবেষকদের দাবি অনুযায়ী, এ ‘এইচপিভি ডিএনএ টেস্ট’ ভাইরাসের ক্যান্সার সৃষ্টিকারী বিপজ্জনক স্ট্রেনগুলো শনাক্ত করতে পারে। মানব প্যাপিলোমা ভাইরাসের অসংখ্য প্রজাতির মধ্যে কয়েকটি জরায়ুমুখের ক্যান্সারের জন্য দায়ী, আর এই টেস্ট কিট সেই ঝুঁকিপূর্ণ স্ট্রেনগুলোই আগে থেকে চিহ্নিত করতে সক্ষম।

এ পরীক্ষায় রোগীর নমুনা বিশ্লেষণে রিয়েল-টাইম আরটি-পিসিআর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এতে একটি বিশেষ চিপ যুক্ত থাকে, যেখানে নমুনা দিলে দ্রুত জিনগত বিন্যাস বিশ্লেষণ করা যায়। ভাইরাস উপস্থিত থাকলে তা কোন ধরনের স্ট্রেন এবং সেটি ক্যান্সার সৃষ্টি করতে সক্ষম কি না—তা জিনগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমেই শনাক্ত করা সম্ভব। গবেষকদের মতে, এই পদ্ধতিতে শুধু ভাইরাস শনাক্তই নয়, ক্যান্সার কোষ বিভাজন শুরু হয়ে গেলে সেটিও দ্রুত ধরা সম্ভব, ফলে চিকিৎসা শুরু করা যায় আরও আগে।

পরীক্ষামূলক যাচাই ও আন্তর্জাতিক অনুমোদন

জরায়ুমুখের ক্যানসার শনাক্তের এই নতুন পদ্ধতির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করা হয়েছে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এমস), ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ক্যান্সার প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এই পদ্ধতিকে কার্যকর বলে অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এবং ফ্রান্সের ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার (আইএআরসি)।

আরও পড়ুন: ১০ জেলায় ১১টার মধ্যে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির সতর্কবার্তা, ঘরে থাকার পরামর্শ

কারা বেশি উপকৃত হবেন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের নিয়মিত এইচপিভি ডিএনএ স্ক্রিনিং করা জরুরি। এই বয়সসীমার নারীরা যদি ‘ট্রুনাট’ টেস্ট করান, তাহলে জরায়ুমুখের ক্যান্সারের ঝুঁকি আগেভাগেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে জানানো হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব পরিবারের মধ্যে জরায়ুমুখ বা ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই পরীক্ষা আরও গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো পরীক্ষা করলে রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

খরচ ও প্রাপ্যতা

বিদেশে ব্যবহৃত এইচপিভি ডিএনএ টেস্টগুলোর খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। তবে ভারতের এই দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি টেস্ট কিট তুলনামূলকভাবে কম খরচে পাওয়া যাবে বলে জানা গেছে। ভারতের সরকারি উদ্যোগে তৈরি এই টেস্ট কিট দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য করার পরিকল্পনাও রয়েছে। তথ্যসূত্র : আনন্দবাজার