এশিয়ার সেরা ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায় আইসিডিডিআর,বি’র ড. তাহমিদ আহমেদ
শিশু পুষ্টি ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য এশিয়ার সেরা ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ। গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা শীর্ষ ১০০ বিজ্ঞানীর এই তালিকা প্রকাশ করেছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক সাময়িকী ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট’। এতে ড. তাহমিদ আহমেদ ছাড়াও বাংলাদেশের আরও দুই বিজ্ঞানী স্থান পেয়েছেন।
এশিয়ান সায়েন্টিস্টের তথ্যমতে, আইসিডিডিআর,বি’র নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ লাইফ সায়েন্সেস ক্যাটাগরিতে এই স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।
মাতৃ ও শিশু পুষ্টির উন্নয়ন এবং তথ্য-প্রমাণ ভিত্তিক জনস্বাস্থ্য কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ড. তাহমিদ ২০২৫ সালে ‘টাইম ১০০ হেলথ’ স্বীকৃতি পান। এর আগে গেটস ফাউন্ডেশন থেকে ২০২৪ সালের ‘গোলকিপারস চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে মনোনীত হন।
ড. তাহমিদ আহমেদ ১৯৮৩ সালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। এরপর বিসিএসে যোগ দিয়ে কয়েক মাস কাজ করেন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। পরে ১৯৮৫ সালে মেডিকেল অফিসার হিসেবে মাত্র আড়াই হাজার টাকা বেতনে আইসিডিডিআর,বিতে যোগ দেন। পরে আইসিডিডিআরবির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে নিউট্রিশন ও ক্লিনিক্যাল সার্ভিসেস বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক হন তিনি। ২০২০ সালে করোনা মহামারির শুরুর সময়ে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পান। ২০২১ সালের শুরুতেই নির্বাহী পরিচালক পদে নিয়োগ পান। আইসিডিডিআর,বি’র ৬০ বছরের ইতিহাসে তিনিই প্রথম বাংলাদেশি নির্বাহী পরিচালক। এ ছাড়া তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথে পাবলিক হেলথ নিউট্রিশনের অধ্যাপক।
আরও পড়ুন: এশিয়ার সেরা ১০০ বিজ্ঞানী: তালিকায় বাকৃবি-বুটেক্স-আইসিডিডিআর,বি’র তিনজন, নেই মেডিকেল-বুয়েট-ঢাবির কেউ
২০২৫ সালের মে পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, ড. তাহমিদ আহমেদ ৫১৪টি গবেষণা প্রবন্ধের প্রধান ও সহ-লেখক, যা আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য, জনস্বাস্থ্য, চিকিৎসা বা বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। তার গবেষণার প্রধান বিষয় অপুষ্টি। তার কাজ বাংলাদেশ এবং অন্যান্য নিম্ন-আয়ের দেশগুলোতে অপুষ্টি, শিশুর বেঁচে থাকা এবং সংক্রামক রোগ মোকাবেলায় বিভিন্ন নীতি ও কর্মসূচি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সাল থেকে প্রতিবছর এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ম্যাগাজিন ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকাটি প্রকাশ করে এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় গবেষক এবং উদ্ভাবকদের সম্মানিত করে, যাদের কাজ এই অঞ্চলের বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য ও সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখছে।