বিশ্বজুড়ে নতুন আতঙ্ক ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি’ ভাইরাস, সতর্ক করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
এই তো কয়েকবছর আগের কথা, পুরো বিশ্ব করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা দেখেছে। একটি ভাইরাস কীভাবে পুরো পৃথিবী স্তব্ধ করে দিতে পারে, তা সবারই জানা। এ মহামারির ভয়াবহ অভিজ্ঞতা এখনও পুরোপুরি ভুলতে পারেনি বিশ্ব। এরই মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইনফ্লুয়েঞ্জার আরেক সদস্য ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি’ ভাইরাস। এতদিন মূলত গবাদি পশুর শরীরেই সীমাবদ্ধ থাকা এ ভাইরাস নিয়ে এখন উদ্বেগ প্রকাশ করছেন গবেষকেরা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, ভাইরাসটি ধীরে ধীরে মানুষের শরীরেও প্রবেশের সক্ষমতা অর্জন করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি না হলেও বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। কারণ, অতীতে বহু ভাইরাসই প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে বড় ধরনের সংক্রমণের কারণ হয়েছে।
কী এই ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি?
ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস সাধারণত চার ধরনের এ, বি, সি এবং ডি। এর মধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ও বি মানুষের মধ্যে মৌসুমি ফ্লুর জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী। সোয়াইন ফ্লু (এইচ১এন১) বা বার্ড ফ্লু (এইচ৫এন১) এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা ‘এ’ ভাইরাসের ভিন্ন রূপ। অন্যদিকে ইনফ্লুয়েঞ্জা ‘ডি’ দীর্ঘদিন ধরেই গরু ও অন্যান্য গবাদি পশুর মধ্যে শনাক্ত হয়ে আসছিল।
আগে ধারণা করা হতো, এটি কেবল পশুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, পশু খামারে কাজ করা কিছু মানুষের শরীরে এই ভাইরাসের অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে। অর্থাৎ, তারা কোনো না কোনো সময়ে ভাইরাসটির সংস্পর্শে এসেছিলেন। এ তথ্যই বিজ্ঞানীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
কেন বাড়ছে শঙ্কা?
গবেষকেরা বলছেন, ইনফ্লুয়েঞ্জা ‘ডি’ একটি আরএনএ ভাইরাস। আরএনএ ভাইরাসের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো দ্রুত পরিবর্তিত বা মিউটেশন ঘটানোর ক্ষমতা। করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রেও একই বিষয় দেখা গিয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভাইরাসটি যদি মানুষের শরীরে সহজে সংক্রমিত হওয়ার উপযোগী রূপ নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে তা নতুন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, গবেষণায় দেখা গেছে ইনফ্লুয়েঞ্জা ‘ডি’ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল এবং উচ্চ তাপমাত্রাতেও টিকে থাকতে সক্ষম। ফলে বিভিন্ন আবহাওয়ায় এর টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি।
কীভাবে ছড়াতে পারে?
বিজ্ঞানীদের ধারণা, এ ভাইরাসও মূলত শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি-কাশির মাধ্যমে অন্যের শরীরে ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারেন। যদিও এখন পর্যন্ত মানুষের মধ্যে ব্যাপক সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবু গবেষকেরা বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
আরও পড়ুন: মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ হিসাববিজ্ঞনের শিক্ষক, ‘তুঘলকি সিদ্ধান্ত’র প্রতিবাদ আজিজীর
উপসর্গ কেমন হতে পারে?
সংক্রমণের উপসর্গ সাধারণ ফ্লুর মতোই হতে পারে। শুরুতে জ্বর, সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা, শরীর ব্যথা, দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা হতে পারে। তবে ভাইরাসটি মানুষের শরীরে কতটা গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য নেই।
বিজ্ঞানীরা কী বলছেন?
আমেরিকার হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল, ইউনিভার্সিটি অব মিসিসিপি এবং জার্মানির ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষকেরা ভাইরাসটি নিয়ে কাজ করছেন। তাদের মতে, ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি এখনই মহামারির পর্যায়ে না গেলেও এটি ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে।
আতঙ্ক না হয়ে সতর্কতা জরুরি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন কোনো ভাইরাস নিয়ে অযথা আতঙ্ক তৈরি না করে সচেতন হওয়াই সবচেয়ে জরুরি। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, অসুস্থ পশুর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং ফ্লু-জাতীয় উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। (সূত্র: আনন্দবাজার)।