১১ মে ২০২৬, ১৮:১৫

হামে নিশ্চিত ও সন্দেহজনক আক্রান্ত-মৃত্যুর পার্থক্য কী?

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর  © টিডিসি সম্পাদিত

দেশে গত ৫৭ দিনে হামে নিশ্চিত ও সন্দেহজনক আক্রান্ত ৪১৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একইভাবে আক্রান্ত হয়েছে মোট ৫৭ হাজার ৪৩৭ জন। সোমবার (১১ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৫০ হাজার ৫০০ জনকে ‘সন্দেহজনক’ ও ৬ হাজার ৯৩৭ জনকে ‘নিশ্চিত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একইভাবে মৃত ৩৫০ জনকে ‘সন্দেহজনক’ ও ৬৫ জনকে ‘নিশ্চিত’ হাম রোগী বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

মূলত, গত মার্চে হঠাৎ হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার পর ৩ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ শুরু করে। বিজ্ঞপ্তিতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্যকে ‘নিশ্চিত’ ও ‘সন্দেহজনক’ হিসেবে ক্যাটাগরিভুক্ত করায় বিভ্রান্তিতে পড়ছেন অনেকে। সন্দেহজনক রোগীদের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে কিনা— তা নিয়ে এই বিভ্রান্তি।

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এই তালিকার ‘সন্দেহজনক হাম রোগী’ও এপিডেমিওলজি বা রোগতত্ত্বের হিসেবে ‘প্রকৃত হাম রোগী’। বিশেষ করে যখন হামের আউটব্রেক বা প্রাদুর্ভাব শুরু হয়, তখন উপসর্গ দেখা গেলে প্রায় নির্দ্বিধায় পরীক্ষা-নিরীক্ষাহীন এসব রোগীকেও নিশ্চিত হাম রোগী ধরা হয়। যদিও শতভাগ নিশ্চিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক ডকুমেন্টেশনের স্বার্থে অন্তত একটি অংশের পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন পড়ে। এজন্যই নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ‘নিশ্চিত হাম রোগী’র একটি ঘর যুক্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন: অর্ধেক খরচে দেশেই উৎপাদন হবে হাম-ডেঙ্গু ও জলাতঙ্কের টিকা

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত যারা পরীক্ষা-নিরীক্ষার আওতায় আসেনি, বা নানা কারণে নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি— তাদের সন্দেহজনক হাম রোগীর ক্যাটাগরিতে রাখা হয়। তবে অপরটি ‘নিশ্চিত’, তাই ‘সন্দেহজনক’টি নিশ্চিত নয়, বিষয়টি এমন না।

এর প্রমাণ মেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হানের বক্তব্যে। জানতে চাইলে অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, হাম যেদিন থেকে আবিষ্কার হয়েছে, সেদিন থেকে এখনো পর্যন্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই এর ট্রিটমেন্ট হয়। একজন শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে যদি একটা বাচ্চা জ্বর নিয়ে আসে এবং তার মুখে র‌্যাশ বের হয়, ওই চিকিৎসক প্রথমে সন্দেহ করবেন যে এটা হামের রোগী। এই অনুযায়ীই তিনি চিকিৎসা দেয়া শুরু করবেন। এর আলাদা কোন চিকিৎসা নাই, পুরোপুরি লক্ষণ-নির্ভর। প্রায় পরীক্ষা ছাড়াই বলে দেয়া যায় যে এটি হাম রোগী।

তবে ‘আইডিয়ালি’ আক্রান্তদের দুটি ক্যাটাগরিভুক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হামের রোগীর আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আমাদের ডকুমেন্টেশন করতে হয়, এটা নিয়মের মধ্যে পড়ে। আমরা ১০০ শিশুর ভেতরে অন্তত ২০টাকে পরীক্ষা করে দেখতে পারি যে সব রোগী হামের কিনা। সবগুলোই পরীক্ষা করলে ভালো, কিন্তু এগুলো যেহেতু করতে পারছি না, আমি অন্তত ২০টা বা ৩০টা করি।

আরও পড়ুন: হাম রোগীর সংখ্যা কমছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

হামের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয় রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে কাদের এই পরীক্ষা করা হচ্ছে— এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক জাহিদ রায়হান বলেন, উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুদের অনেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি চলে যাচ্ছে, আবার অনেকে মারা যাচ্ছে। ধরুন, একটা ওয়ার্ডে ৫০ জন রোগী ভর্তি আছে, এর মধ্যে ১০টা রোগী খুব খারাপ, আমি ওদের স্যাম্পল নেব? না বাকি ৯০টার? ওই ১০টার স্যাম্পল নিতে নিতে দেখা যাচ্ছে যে আরো চারজন ভালো হয়ে গেল। অথবা একটা বাচ্চার উপসর্গ নাই বা অত খারাপ না, ওই বাচ্চাটাকে বাসায় নিয়ে যেতে বললাম। ওর তো আর স্যাম্পল নেওয়া হলো না। কিন্তু দেখা গেল, বাসায় গিয়ে রোগীটা খারাপ হয়ে গেল, সে আর আনতেই পারল না, তার মধ্যে মারা গেল। এই পরীক্ষা না হওয়া, কিন্তু উপসর্গ নিয়ে আসা বা মারা যাওয়া শিশুদের আমরা ‘সন্দেহজনক’ ক্যাটাগরিতে রাখছি।

তিনি বলেন, আমরা যদি নিশ্চিত মৃত্যুর ডকুমেন্টেশনটা না রাখতাম, তাহলে এখানে পুরো ঘরটাই ভরাট হতো সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে। তাইলে এখানে যেটা সন্দেহজনক রোগী, সেটাও তো হামেরেই রোগী। এটাকে মোর প্রিসাইজ করে নিশ্চিত রোগীগুলো। মেডিকেল টার্মিনোলজি বা এপিডেমিওলজির (রোগতত্ত্ব) ভাষাগুলো এরকমই। আমরা বলি ‘সাসপেক্টেড’, এই সাসপেক্টেড মানে অলমোস্ট আক্রান্ত।

এডিজি আরও বলেন, এপিডেমিওলজির আরেকটা ব্যাখ্যাও আছে— কোন জায়গায় যদি এরকম আউটব্রেক হয়, তাহলে যতগুলো রোগী একই উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হবে, ধরে নিতে হবে ওই রোগেই আক্রান্ত। যদি বলেন, আপনি প্রমাণ ছাড়া কিভাবে বলবেন? তখন ওই পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফল— ১০০টা রোগী আসছিল, তার মধ্যে আমি ২০টার পরীক্ষা করতে পারছি, এই ২০টা কনফার্ম পেয়েছি।