০৫ মে ২০২৬, ১৬:৫৫

নির্মাণের দুই বছরেও চালু হয়নি মেহেরপুর নার্সিং কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম

মেহেরপুর নার্সিং কলেজ ভবন  © টিডিসি

নার্সিংয়ে উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে মেহেরপুরে নির্মিত হয়েছে মেহেরপুর নার্সিং কলেজ। নির্মাণ শেষ হওয়ার দুই বছর অতিবাহিত হলেও অর্থনৈতিক কোড চালু না হওয়ায় প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও শিক্ষা কার্যক্রমও চালু করা যাচ্ছে না। কলেজটি চালু হলে মেহেরপুরসহ সারা দেশ থেকে বিএসসি ইন নার্সিংয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারবেন। ফলে স্থানীয়সহ দেশের স্বাস্থ্যসেবায় মেহেরপুর নার্সিং কলেজ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

জানা গেছে, নার্সিংয়ে উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের পাশে মেহেরপুর সরকারি কলেজ সড়কে ৩ একর ৬৩ শতক জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে মেহেরপুর নার্সিং কলেজ। কলেজটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে চারতলা বিশিষ্ট হোস্টেল ভবন, চারতলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন, দোতলা গ্যারেজ ও একটি সাবস্টেশন।

২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল প্রকল্পের কাজ পায় সিরাজগঞ্জের ডিএমসিএল অ্যান্ড পিসি-জেভি নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কয়েক দফা সময় বাড়িয়ে ২০২৪ সালের ২৭ জুন কাজ শেষ করে প্রতিষ্ঠানটি। সিডিউল মোতাবেক কিছু ত্রুটি থাকায় সেগুলো পুনঃমেরামত শেষে চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও আহ্বায়ক কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নার্সিং কলেজটি চালু না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। এটি দ্রুত চালু হলে নার্সিং সেবায় দক্ষ জনবল পাবে এলাকার হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো। স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে প্রতিষ্ঠানটি।

আরও পড়ুন: ছাত্রদলে পদ পাওয়া ৩২ জনের মধ্যে ১১ জনই ছাত্রলীগের

কলেজ ভবনটি নির্মাণ শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বুঝে নেওয়ার জন্য নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর ৫ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে।

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশিক্ষণ) সাহানা ইসলামকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার আজিরন নেসাকে সদস্য সচিব এবং নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের (শিক্ষা) মো. মুক্তার হোসেনকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা করা হয়েছে। বাকি দুই সদস্য হলেন মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স আসাদুল হক ও শারমিন নাহার।

মিরাজুল ইসলাম নামের স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সুন্দর একটি নার্সিং কলেজ নির্মাণ করা হয়েছে। কলেজটি দ্রুত চালু না হলে এটি মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কলেজের মূল্যবান মালামাল চুরি ও নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।’

রাফি হাসান নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, মেহেরপুরে বিএসসি নার্সিং পড়ার কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। মেহেরপুর নার্সিং কলেজ চালু হলে শিক্ষার্থীরা এখানে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে এবং স্বাস্থ্যসেবায় অবদান রাখতে পারবে।

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী ইউসুফ হোসেন বলেন, ‘গত জানুয়ারি মাসে আমরা কলেজটি হস্তান্তর করেছি। দ্রুত শিক্ষা কার্যক্রম চালু না হলে কলেজটি রক্ষণাবেক্ষণ করা কঠিন হবে। এ ছাড়া মাদকসেবীদের মাধ্যমে মূল্যবান মালামাল চুরির আশঙ্কা রয়েছে।’

আরও পড়ুন: মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির রেজিস্ট্রেশনের সময় বাড়ল

মেহেরপুর নার্সিং কলেজের আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব ও মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার আজিরন নেসা বলেন, ‘নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের অধীনে এ কলেজ পরিচালিত হচ্ছে। আমরা দায়িত্ব বুঝে নিয়েছি। দ্রুত চালুর জন্য অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করছি আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম চালু হবে।’

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (শিক্ষা) মো. মুক্তার হোসেন বলেন, কলেজটির এখনো অর্থনৈতিক কোড তৈরি হয়নি, ফলে জনবল নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। জনপ্রশাসন, অর্থ ও স্বাস্থ্য এই তিন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে অর্থনৈতিক কোড তৈরির কাজ চলমান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে।