২৯ মার্চ ২০২৬, ২২:০৫

‘পরিচালককে ফাঁসির কাষ্ঠে চড়ানো উচিত’, মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জামায়াতপন্থী চিকিৎসকদের

এনডিএফ  © টিডিসি সম্পাদিত

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের ‘অযৌক্তিক ও অনভিপ্রেত’ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)। আজ রবিবার (২৯ মার্চ) সংগঠনটির অফিস সম্পাদক ডা. এ কে এম জিয়াউল হক স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, এনডিএফ গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সাথে লক্ষ্য করেছে যে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) ভেন্টিলেটর সংকটের কারণে একাধিক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের পরিচালককে উদ্দেশ্য করে ‘ফাঁসি কাষ্ঠে চড়ানো উচিত’— এমন একটি অত্যন্ত দুঃখজনক, অনভিপ্রেত মন্তব্য করেছেন। ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম ও জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: আইসিইউর অপেক্ষায় ৩৩ শিশুর মৃত্যু/ মন্ত্রণালয়কে জানায়নি রামেক হাসপাতাল, স্বাস্থ্যমন্ত্রী বললেন— ‘পরিচালককে ফাঁসির কাষ্ঠে চড়ানো উচিত’

নেতৃবৃন্দ বলেন, রামেক হাসপাতালে সাম্প্রতিক শিশু মৃত্যুর ঘটনাগুলো আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। যেকোনো রোগীর মৃত্যু অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বের সাথে দেখার বিষয়, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। এছাড়াও ভেন্টিলেটরসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা জরুরি। যদি কোনো অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা বা যন্ত্রপাতির অভাব থাকে, তবে তা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, স্থানীয় হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের নিজ উদ্যোগে এনআইসিইউ সেবা পরিচালনা করে রোগীদের গুরুত্বপূর্ণ সেবা অব্যাহত রাখা, বিশেষ করে শিশুদের চিকিৎসা ব্যাবস্থা করা অত্যান্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। উক্ত ঘটনার যথোপযুক্ত তদন্ত ছাড়াই সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে থেকে চরম শাস্তি প্রদানের যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, এতে চিকিৎসক সমাজে তীব্র হতাশা তৈরি করেছে।

বিবৃতিতে চারটি দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি। এতে বলা হয়, আমাদের দাবি— ঘটনাটির একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক, হাসপাতালের আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সুবিধা দ্রুত উন্নত করা হোক, প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হোক এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হোক।

চিকিৎসক নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, দোষারোপের চেয়ে সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করে কার্যকর সমাধান করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।