পরিচালকের আশ্বাসে কর্মবিরতি স্থগিত, মঙ্গলবার ডিউটিতে ফিরছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা
চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ ৪ দফা দাবিতে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (এসএসএমসি) মিটফোর্ড হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরুর পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এটিএমএ রুস্তম। একই সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে ডিউটিতে ফিরে যেতেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
আজ সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি এমবিবিএস ৪৮তম ব্যাচের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিভিন্ন যৌক্তিক দাবির বিষয়ে হাসপাতাল পরিচালকের কক্ষে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ৮ জন প্রতিনিধি, ইন্টার্ন চিকিৎসক কো-অর্ডিনেটর, উপ-পরিচালক এবং সহকারী পরিচালকের উপস্থিতিতে হাসপাতাল পরিচালক উত্থাপিত দাবিগুলোর সার্বিক দিক পর্যালোচনা করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন এবং আলোচ্য বিষয়সমূহের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রহণযোগ্য সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন।
আরও পড়ুন: মিটফোর্ড হাসপাতালে চুরিতে অতিষ্ঠ হয়ে কর্মবিরতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা
এতে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে অনুরূপ অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি থেকে বিরত থাকার জন্য হাসপাতাল পরিচালক সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ প্রদান করেছেন। একই সঙ্গে সকল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের তাদের নির্ধারিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।
ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাসপাতাল পরিচারকের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মবিরতি স্থগিতের বিষয়ে তারা আলোচনা করেছেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামীকাল মঙ্গলবার (৩ মার্চ) তারা ডিউটিতে যোগ দেবেন।
এর আগে সোমবার সকালে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ ৪ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। তারা জানিয়েছেন, বিগত কয়েক দিনে ডিউটি চলাকালীন বেশ কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের লিটম্যান স্টেথোস্কোপ, মোবাইল-ফোনসহ অতি প্রয়োজনীয় ও দামি জিনিসপত্র চুরি হয়েছে। তারা বলছেন, গত এক সপ্তাহে সার্জারি, মেডিসিন ও গাইনি ডিপার্টমেন্টে প্রায় ১০টি বড় চুরির ঘটনা ঘটেছে।
এ ছাড়া হাসপাতাল প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা বলেন, আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের শরণাপন্ন হলে আমাদের অত্যন্ত হতাশ ও হতভম্ব হতে হয়। সহকারী পরিচালক ডা. মফিজুর রহমান আমাদের ওপরই চুরির অপবাদ আরোপ করেন এবং নিজ খরচে সিসি ক্যামেরা লাগানোর মত অনাকাঙ্খিত ও অসহযোগিতামূলক বক্তব্য দেন।
তাদের অভিযোগ, এর আগে জানুয়ারি মাসে একজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর ভিত্তিহীনভাবে ওষুধ চুরির অপবাদ দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে তা ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়। ইন্টার্ন চিকিৎসকরা বলেন, কর্মস্থলে নিরাপত্তার অভাব এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল আচরণের পরিবর্তে এমন অপমানজনক ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য আমাদের পেশাগত মর্যাদাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে।
এ অবস্থায় চার দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। তাদের দাবিগুলো হল— সহকারী পরিচালককে তার ভিত্তিহীন মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে, হাসপাতালের প্রতিটি ফ্লোরে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা সচল করতে হবে এবং আনসার কর্মকর্তাদের সহযোগিতা সাপেক্ষে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশাসনকে লিখিতভাবে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং শর্তহীনভাবে দাবি পূরণ করতে হবে। ডিউটিতে ফেরার পর কোনো ইন্টার্ন চিকিৎসককে হয়রানি বা হেনস্থাস্বরূপ কিছু করা হলে তা বরদাস্ত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
ওই সময় হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এটিএমএ রুস্তম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমি অফিসে আসার পর জানতে পারি ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতিতে গিয়েছেন। তারা আমাকে প্রথমে জানায়নি বিষয়টি। আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। আনসার সদস্য সীমিত, সিসিটিভি ক্যামেরাও সর্বত্র স্থাপনের সুযোগ নেই। তারপরেও যতটুকু সম্ভব আমরা চেষ্টা করব নিরাপত্তা নিশ্চিত করার। আমাদের ইন্টার্নরা দ্রুতই ডিউটিতে জয়েন করবেন।